নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বরে শহীদ নাদের আলী বালিকা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ রুহুল আমিনকে অত্র কলেজের সভাপতি মাহবুবুল আলম বাবু অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে অবৈধভাবে অধ্যক্ষ এর পদ থেকে অপসারণ করাসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও মারপিট করেছে। তিনি এখনো রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩২নং ওয়ার্ডের সিসিইউ-২ চিকিৎসাধীন আছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় অধ্যক্ষ বলেন, বর্তমান সভাপতি মাহবুবুল আলম বাবু শুরু থেকেই তাঁর পিছনে লেগে আছেন। তিনি তাঁর পিছনে কেন এভাবে ষড়যন্ত্র করছেন তা তিনি জানেন না। অযাচিতভাবে সভাপতি সঙ্গীদের নিয়ে তাঁর বিরুদ্বে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ছেন এবং বিভিন্ন সময়ে হামলা করছে।
অধ্যক্ষ বলেন, এসব কারনে সভাপতির পক্ষে পরিচালনা পরিষদের কেউ নাই। সভাপতির অশালীন আচরণ ও অন্যায় কাজের জন্য তাঁরা সবাই পদত্যাগ করেছেন। তিনি আরো বলেন, সভাপতি নিজের স্বার্থ হাসিল ও অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তিনি তা করতে দিচ্ছেন না। এ কারনে তাঁকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বরখাস্ত করছেন। তাঁর কক্ষে তালা মেরে দিচ্ছেন। আবারও নিয়ম বহির্ভূতভাবে আরেকজন শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ করে চেয়ারে বসাচ্ছেন বলে জানান তিনি। এক কথায় তিনি মনগড়াভাবে যা ইচ্ছা তাই করছেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, প্রতিষ্ঠানের রেজুলেশন খাতা তিনি অফিস থেকে নিয়ে গিয়ে পেছনে তারিখ দিয়ে রেজুলেশন করে তাকে বহিস্কার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি বলেন এই রেজুলেশন খাতায় রেজুলেশন লেখার পূর্বেই সভাপতি স্বাক্ষর নেন। কিন্তু এই রেজুলেশনে অধ্যক্ষকে বকিস্কার করার সিদ্ধান্ত লেখা হবে তা অন্যান্য সদস্যরা জানতেন না। পরে জানতে পেরে এই রেজুলেশন বাতিলের জন্য রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান বরাবরে সকল সদস্য মিলে একটি আবেদন করেন। তাঁকে বহিস্কার করার কথা শুনে এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসে তাঁকে আবারও অধ্যক্ষ এর চেয়ারে বসিয়ে যান বলে জানা তিনি। বিভিন্ন পত্রিকায় সভাপতি আমাকে নিয়ে মিথ্যাচার করছে। আমাকে দুর্নীতিবাজ বানিয়েছে। দুর্নীতির দায়ে আমাকে বহিস্কার করা হয়েছে বলে মিথ্যাচার করছেন। এছাড়াও তাঁকে আমি ধারলো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেছি বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। আমি তাঁকে কোন প্রকার আঘাত করিনি। আর দুর্নীতিতো প্রশ্নই ওঠেনা।
অধ্যক্ষ বলেন, ২ অক্টোবর সভাপতি ও তার কথিত নয়া ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিলে আবারও তাঁর কক্ষে তালা মেরে চলে যান। এ অবস্থা দেখে তিনি হতভম্ব হয়ে পরেন। কারন অফিস কক্ষে সকল প্রকার নিয়োগ ফাইলসহ দাপ্তরিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রয়েছে। এজন্য তিনি নতুন তালা এনে ঐ তালার উপরে লাগিয়ে দেন। পরে ঐ তালা সভাপতি ভাঙ্গেন এবং সকাল ৮টার দিকে আমার বাসার সামনে গিয়ে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন।
সেইসাথে নিচে নেমে আসার জন্য ডাকতে থাকেন। এসময়ে তিনি নিচে নেমে আসলে সভাপতি আমার উপরে চড়াও হন। এর এক পার্যায়ে উভয়ের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। এ সময়ে তিনি চিৎকার শুরু করলে পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা নিচে নেমে এসে আমাকে তাদের হাত থেকে রক্ষা করেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে সভাপতি মাহবুবুল আলম বাবুকে মুঠোফোনে কল করলে তিনি বলেন, অধ্যক্ষ রুহুল আমিনের নানাবিধ দুর্নীতি রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে মনগড়া রেজুলেশন করেছেন যা তিনি জানেন না। এছাড়াও শিক্ষকদের সাথে অধ্যক্ষের সম্পর্ক ভাল নাই। আর তিনি কাউকে মারেন নি। উপরোন্ত তাঁকেই অধ্যক্ষ ও স্ত্রী মিলে মারপিট করেছেন বলে জানান সভাপতি। তবে তিনি এর শেষ দেখে ছাড়বেন বলে জানান।