নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী লক্ষিপুর ভাটাপাড়ায় এক নারী কাউন্সিলরের পিতার বিরুদ্ধে মন্দিরের পরিত্যক্ত যায়গা দখল করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে রাস্তা কেটে ঐ ঘরের প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার দুপুরে সরজমিনে গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।
নগরীর লক্ষিপুর ভাটাপাড়া ৬ নং ওয়ার্ডে হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি প্রাচীন মট এবং মটের পাসে একটি পুকুর রয়েছে। যা মট পুকুর নামে পরিচিত। প্রাচীন এ মন্দিরটি সংরক্ষনের অভাবে পরিত্যক্ত স্থানে পরিণত হয়েছে। আর এই সুযোগে মটের চার পাসে বাড়ি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। এর জায়গা দখল করতে ছাড়েননি রাসিকের সংরক্ষিত আসন ৩,৫,৬ (জোন ২) কাউন্সিলর আয়েশা খাতুন নাদিরার পিতা হাজী নাদের হোসেন। তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে মন্দিরের যায়গা দখল করে র্দীঘদিন আগেই ঘর নির্মাণ করেছেন। সেই সাথে সোমবার ঐ ঘরের ছাদ নির্মাণের জন্য মিস্ত্রী কাজ করছিলেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, মন্দিরের মটের দক্ষিণ দিকে অনেক আগেই কাউন্সিলরের পিতা হাজী নাদের হোসেন একটি ঘর নির্মাণ করেছিলেন। সেই ঘরে নতুন করে মিস্ত্রি লাগিয়ে ঘরটিতে ছাদ দেয়ার কাজ করছেন। সেই সাথে রাস্তা কেটে রাস্তার উপরেই ঐ ঘরের প্রাচীর নির্মাণ কাজ করছেন মিস্ত্রীরা। হিন্দু সাম্প্রদায়ের মন্দিরের জমি দখল করে নারী কাউন্সিলরের পিতার এমন ক্ষমতার অপব্যবহারে ক্ষুব্ধ ওয়ার্ডবাসী এবং অত্র ওয়ার্ড কাউন্সিলর নরুজ্জামন টুকু।
এ বিষয়ে নুরুজ্জামান টুকুর নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, র্দীঘদিন যাবত ঐ মন্দির পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। এটি একটি হিন্দু সাম্প্রদায়ের প্রাচীন নিদর্শন। এটি সরকারি ভাবে সংরক্ষিত করার জন্য আবেদন করেছেন। মন্দিরটি সংরক্ষনের অভাবে ও আনুষ্ঠানিক কর্মকান্ড সে খানে না চলায় মন্দিরের যায়গা দখল হয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, হিন্দু সাম্প্রদায়ের মানুষ র্দীঘদিন যাবত ঐ মন্দিরের মটে কেউ পুজা করতে আসেনা। আর সেই সুযোগে মটের চারিপাসে জায়গা দখল হয়ে গেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনপ্রতিনিধির পিতা যদি মন্দিরের যায়গা দখল করে ঘর নির্মান করে থাকেন তাহলে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ।
এ বিষয় রাসিকের সংরক্ষিত আসন ৩,৫,৬ (জোন ২) কাউন্সিলর আয়েশা খাতুন নাদিরা বলেন, তাঁর বাবা যেখানে ঘর নির্মাণ করেছে সেই যায়গা তাঁর দাদা তাঁর মাকে লিখে দিয়েছেন। সেই জমি তাঁর মায়ের নামে রেজিস্ট্রি এবং খাজনা খারিজও করা হয়েছে। ঐখানে মন্দিরের কোন যায়গা নেই। মন্দিরের যায়গা তাঁর পিতা দখল করে ঘর নির্মান করছে এমন অভিযোগ কেউ করে থাকলে তা বিভ্রান্ত ছড়াতেই এমন মিথ্যা তথ্য দিয়েছে বলে জানান নাদিরা।
এ বিষয় ঐ নারী কাউন্সিলরের পিতা হাজী নাদের হোসেন বলেন, এখানে মন্দিরের কোন যায়গা নেই। এ জায়গা র্দীঘদিন আগে হিন্দুদের নিকট থেকে কিনে নিয়েছেন তারা। আর মন্দিরের মট তাঁরাই দেখে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি।