নিজস্ব প্রতিবেদক: আসছে ১৭ তারিখ রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচন। এই নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতারুজ্জামান মোটর সাইকেল প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদন্দিতা করছেন। এই নির্বাচনের প্রতিক বরাদ্দের পূর্ব থেকে বর্তমান পর্যন্ত সরকারী দলের প্রার্থীর নানা অনিয়ম, নির্বাচন আচরণ বিধি লংঘন, মারপিট ও সরকার দলীয় সংসদ সদস্যর প্রচারণায় অংশগ্রহন ও মারপিটের মদদ এর প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর কোর্ট ঢালানের মোড় এলাকার একটি কমিউিনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলন করেন প্রার্থী আখতারুজ্জামান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করে বলেন, মনোনয়নের শুরু থেকেই নানা প্রতিকুলতার মধ্য দিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা করছেন। প্রতীক বরাদ্দের পর তা আরো প্রকোট আকার ধারণ করেছে। নির্বাচনী প্রচার প্রচারনায় তিনিসহ তাঁর পক্ষের নেতাকর্মীরা প্রতিনিয়ত হুমকি, মামলা ও হামলার শিকার হচ্ছেন। অপরদিকে ভোটারদের উপর তাঁর প্রতিপক্ষের প্রার্থী ও তাঁর নির্বাচনী সহযোগীরা কালো টাকার প্রভাব খাটিয়ে ভোটারদের উপর অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। প্রতিপক্ষের হামলায় চলতি মাসের ৫ তারিখ রাত্রি অনুমানিক সাড়ে ১০টায় রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ধুরইল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় এমপি আয়েন উদ্দিনের উপস্থিতিতে তাঁর প্রচারনা কাজে বাধা সৃষ্টি, নেতাকর্মীদেরকে মারপিট করে ইউনিয়ন পরিষদে আটকে রেখে এমপি ও চেয়ারম্যান উভয়েই তাদের নির্যাতন ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এই সময় মোহনপুর থানার ওসির নেতৃত্বে পুলিশ বিভাগের সদস্যরা উপস্থিত হয়ে আটক থাকা নির্বাচনের সমন্বয়কারী এডভোকেট আবু রায়হান মাসুদসহ অন্যদেরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান। এই সময়ে তাঁর নেতাকর্মীদের ব্যবহৃত দুইটি মাইক্রোবাস এমপি ও ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ভাঙচুর করা হয়, যা নির্বাচনী আইনের সরাসরি বরখেলাপ বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরবর্তীতে থানা থেকে নির্বাচন সমন্বয়কারীসহ উদ্ধারকৃতদের তাঁর জিম্মায় থানা থেকে নিয়ে আসেন। ইউনিয়ন পরিষদে আটক অবস্থায় তাদের নিকট রক্ষিত মোবাইল ফোন ও টাকাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয় সরকারী দলের প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা।
তিনি উল্লেখ করেন জেলা পরিষদ নির্বাচন অন্য নির্বাচনের মত নয়। এই নির্বাচনটি স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি দ্বারা নির্বাচিত হয়। এই নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দীতাপূর্ন ও উৎসবমুখর করার ক্ষেত্রে তাঁর প্রতিপক্ষ প্রার্থী ও তাদের সন্ত্রাসী ক্যাডার বাহিনী অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার পর থেকেই প্রচার প্রচারণাকালে বেশ কয়েকবার তাঁর ও কর্মীদের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় প্রার্থীতা প্রত্যাহারের জন্য তাঁকে নানাভাবে হুমকি ও ভয়ভিতি দেখানো হয়। এরমধ্যে গত ২৯-৯-২০২২ তারিখে দুর্গাপুর পৌরসভায় মেয়র দপ্তরে ভোটারদের সাথে মতবিনিময়কালে স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাঁর উপর হামলা চালায়। এবং দুর্গাপুর থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য চাপ দিতে থাকে। এ সময় উপস্থিত ভোটারদেরহস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। এছাড়াও বাঘা পৌরসভায় প্রচারণাকালে ২-১০-২০২২ তারিখ প্রতিপক্ষরা হুমকী দিয়ে স্থান ত্যাগের কথা বলেন।
তিনি আরো উল্লেখ করে বলেন, শুধু হামলা ও মারপিট নয় মোহনপুর থানায় এডভোকেট আবু রায়হান মাসুদকে প্রধান আসামী করে প্রায় ১৯ জন নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে । তিনি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এসব ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে রির্টার্নিং কর্মকর্তা বরাবরে ইতোমধ্যে তিনি তিনটি অভিযোগ দাখিল করেছন। এর প্রেক্ষিতে রাজশাহী জেলা পরিষদ নির্বাচন ২০২২ এর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হতে পুঠিয়া দুর্গাপুরের সংসদ সদস্য ডা. মুনছুর রহমান, পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন এবং রাজশাহী সিটি মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে নির্বাচনী প্রচারণা থেকে সরে যেতে অনুরোধ করেন। তাঁরা সকলেই আমার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কাজে অংশগ্রহণ করছিলেন।
এর প্রেক্ষিতে রির্টার্নিং কর্মকর্তার চিঠি দেওয়ার পর নির্বাচনী কর্মকান্ড থেকে সংসদ সদস্য ডা. মুনছুর রহমান ও রাজশাহী সিটি মেয়র রিবত থাকলেও সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন নির্বাচনী আইনকে তোয়ক্কা না করে আমার প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর পক্ষে প্রকাশ্যে ভোটারদেরকে হুমকি, প্রভাব বিস্তারের অন্যায় চেষ্টায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। চিঠি পাওয়ার পরও রির্টার্নিং কর্মকর্তাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এসব অপকর্ম তিনি চালিয়ে যাচ্ছেন। যা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের সামিল বলে তিনি মনে করেন।
এদিকে সরকার দলীয় প্রার্থী নির্বাচন কমিশনের দেওয়া নির্দেশনা অমান্য করে প্রচার সংখ্যার কয়েক গুন বেশি পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন ছাপিয়ে তা বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে। যা নির্বাচনী আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে আমার যে সকল পোস্টার লাগানো হয়েছে সেগুলোও তারা প্রতিনিয়ত ছিঁড়ে ফেলছে। এ সব ঘটনার পরে তিনি প্রার্থী হিসেবে নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না বলে জানান তিনি। সেক্ষেত্রে অবাধ ও নিরোপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তিনি এবং ভোটারদের নিরাপত্তা বিধানে রির্টার্নিং কর্মকর্তার নিকট আকুল আবেদন জানান তিনি। কারন এসব ঘটনা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় বরে উল্লেখ করেন চেয়ারম্যান প্রার্থী আখতারুজ্জামান আখতার।