নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর শাহমখদুম থানা এলাকায় কিশোর গ্যাং কর্তৃক একজন রিকশাচালককে হামলা এবং মারপিটের একটি ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির এর নজরে আসে। পুলিশ কমিশনার তৎক্ষণাৎ কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
কমিশনার প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে শাহমখদুম থানা অভিযান পরিচালনা করে দ্রুততম কিশোর গাঙ্গের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন- শাহমখদুম থানার কালুরমোড় গ্রামের মৃত রুহুল আমিনের ছেলে রাকসান (২০) সহ একই থানার লাম ও আবিদ, চন্দ্রিমা থানার জাহিদুল ও শাহমখদুম থানার সাব্বির এবং প্রান্ত।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ৩ জুলাই ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে শাহমখদুম থানার ডাবতলা হতে সিটিহাটগামী সড়কের পাশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ পার্টি অফিসের সামনে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা রিক্সাচালক এর গতিরোধ করে। পরে তারা সংঘবদ্ধভাবে লাঠি ও কাঠের বাটাম দিয়ে তাকে এলোপাতাড়িভাবে মারধর করে গুরুতর জখম করে।
এ সময় হামলাকারীরা তার নিকট থাকা মোবাইল ফোন কেনার ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং রিক্সার মিটার ভাঙচুর করে ক্ষতিসাধন করে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরবর্তীতে ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে শাহমখদুম থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। মামলার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কিশোর গ্যাঙের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে শাহমখদুম থানা পুলিশ।
কিশোর গ্যাং এর সদস্যদের মধ্যে আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত কয়েকজন শিশু থাকায় শিশু আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে গ্রেপ্তারকৃত কিশোর গাং এর ছয় সদস্যের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে আরএমপি পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। যেকোনো অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ সদাই তৎপর বলে উল্লেখ করেন তিনি।