সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

রাবিতে ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন

  • প্রকাশ সময় বুধবার, ২৮ মে, ২০২৫
  • ২০০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোটের পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিক সম্মেলন করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্রজোট রাবি শাখার নেতৃবৃন্দ। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেটে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী এটিএম আজহারউদ্দীনকে দায় মুক্তি প্রদানের প্রতিবাদে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মশাল মিছিল ডাকে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট। একই সময়ে ছাত্র শিবিরের একটি আনন্দ মিছিল পরিবহন মার্কেটে বামপন্থীদের আড্ডার স্থলকে ঘিরে বারবার প্রদক্ষিণ করতে থাকে। তাদের কর্মসূচি সমাপ্ত হওয়ার অপেক্ষা করতে থাকেন তারা এবং তাদের সমাবেশ শেষ হওয়ার পরে ৪৫ মিনিট বিলম্বে সোয়া ৮টায় মিছিল শুরু করেন তারা বলে উল্লেখ করেন।

সাংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করেন সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র শিবিরের প্রচার সম্পাদক নওসাজজামান, ছাত্র মিশনের জিএ সাব্বিরসহ আরো অনেকের নেতৃত্বে আনুমানিক ২০০ জনের একটি দল তাদের দিকে তেড়ে আসে এবং অতর্কিত ইট পাটকেল, চেয়ার ও লাঠি ছুঁড়ে মারতে শুরু করে। তারা উত্তেজিত না হয়ে, সংঘর্ষ এড়িয়ে মিছিল নিয়ে সামনে অগ্রসর হয়। পরবর্তীতে মিছিলটি নিয়ে তারা বুদ্ধিজীবী চত্বর সংলগ্ন প্যারিস রোডে পৌঁছালে আরো দুই দফা হামলা করা হয়। এ সময় তারা প্রায় সকলেই এলোপাথাড়ি ইট, পাটকেলের মাধ্যমে আঘাত প্রাপ্ত হন। ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক নাসিম সরকারকে মাটিতে ফেলে এলোপাথাড়ি লাথি ঘুষি মারা হয় এবং বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের সংগঠক তারেক আশারাফকে ইটের আঘাতে রক্তাক্ত করা হয়।

২৪ পরবর্তী ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ কায়দায় এই ভয়াবহ সন্ত্রাসী আক্রমণের বিচার চাইতে তারা প্রক্টর অফিসে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন প্রক্টরিয়াল বডি চা চক্রে বসে সিসিটিভি ফুটেজ দেখছেন। এতোবড় হামলা ঘটনা ঠেকানোর তারা কোন চেষ্টাই করেননি। পরিবহনে হামলা পরে আরো দুই দফা হামলা করা হয়। প্রক্টরিয়াল বডি তৎক্ষণাৎ পদক্ষেপ নিলে তাদের সহযোদ্ধারা এভাবে রক্তাক্ত হতোনা।

বডি শুরুতে একটা পরিকল্পিত সন্ত্রাসী হামলাকে মারামারি হিসেবে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। হামলাকারীদের সঙ্গে কথা না বলে কোন ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয় বলে জানান তারা। শুধু তাই নয়, যে গোষ্ঠীটি বিনা উস্কানিতে তাদের উপরে সন্ত্রাসী হামলা করেছে। যে গোষ্ঠীটি তাদেরকে প্রতিনিয়ত হত্যা যোগ্য করে তুলতে চায়, তাদের সঙ্গে সাংলাপে বসানোর চেষ্টা চালায়। যেন এটি সন্ত্রাসী হামলা নয়, কোন দৈনন্দিন দ্বিপাক্ষিক ঝগড়া।

তারা সন্ত্রাসী হামলার বিচার এবং নিজেদের নিরাপত্তার দাবিতে প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন। তাদের দাবি ছিলো ভিসির উপস্থিত হয়ে এই সন্ত্রাসী হামলার বিচার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পদক্ষেপ নেবেন। পরবর্তীতে ভিসি রাজশাহীতে নেই জানতে পেরে ভিসির অনুপস্থিতিতে সর্বোচ্চ ঊর্ধ্বতন কর্মকতা দুই প্রোভিসির উপস্থিতি দাবি করেন। কিন্তু ঐ সময় প্রোভিসিদের প্রত্যেকেই প্রশাসনিক ভবনে অবস্থান করা সত্ত্বেও তাদের খোঁজ নিতে এগিয়ে আসেনি। বরং প্রোভিসি (শিক্ষা) ফরিদ উদ্দীন খান অবস্থান চলাকালীন তদেরকে পাশ কাটিয়ে প্রশাসনিক ভবন ছেড়ে বেরিয়ে যান।

এই ঘটনায় তারা প্রশাসন বিরোধী স্লোগান দিতে থাকলে প্রোভিসি (প্রশাসন) মাঈনুদ্দীন সল্প সময়ের জন্যে তাদের সঙ্গে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দিতে বলেন। এসময় তারা নিজেদের নিরাপত্তা চাইলে তিনি বলেন, তাদের জন্যে বিশেষ কোন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ওনাদের পক্ষে সম্ভব নয়।

আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলের প্রশাসনকে দেখতেন ছাত্রলীগের সন্ত্রাসকে প্রত্যক্ষভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করতে। আজ অভ্যুত্থান পরবর্তী রাবি প্রশাসনকেও দেখতে পান ছাত্র শিবিরের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে সমর্থন যোগাতে। যেন এটাও ফ্যাসিবাদী আমলের সেই দলীয় প্রশাসন, কেবল দলটা ভিন্ন। অভ্যুত্থান পরবর্তী রাবি ক্যাম্পাস আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলের সেই দমবন্ধকারী পরিস্থিতে ফিরে যাক তা তারা চান না। প্রশাসন যদি অবিলম্বে হামলাকারী শিবির সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলা না করে। সেক্ষেত্রে অতারা এই প্রশাসনকে সন্ত্রাসীদের তাবেদার মনে করে অপসারণ চাইতে বাধ্য হবেন বলে উল্লেখ করেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ছাত্র ইউনিয়ন রাবি সংসদ কোষাধ্যক্ষ কাউসার আহমেদ, বিপ্লবী ছাত্র-যুব আন্দোলনের আহবায়ক তারেক আশরাফ, বিপ্লবী ছাত্র-মৈত্রী সাংগঠনিক সম্পাদক শাহরিয়ার আলিফ, রাবি ছাত্রগণমঞ্চ এর আহবায়ক নাসিম সরকার ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের আহবায়ক ফুয়াদ রাতুলসহ অন্যান্যরা।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin