নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ছাত্রলীগের ষড়যন্ত্রমূলক মানববন্ধনের প্রতিবাদে সংবাদ করা হয়। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে নগরীর ভদ্রা এলাকার একটি চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে হল রুমে রুয়েটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসফাক ইয়াসির ইপু ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী মাহফুজুর রহমান তপুর মিথ্যাচার মুলক মানববন্ধনের বিরুদ্ধে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রলীগ কর্মী তানভির আহমেদ আবির ও রুয়েট ছাত্রলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক সামিউর রহমান আল-নাহিয়ান।
সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রুয়েট ১৩ সিরিজের ঊঊঊ ডিপার্টমেন্ট এর ছাত্র তানভির আহমেদ আবির। বক্তব্যে তিনি বলেন, ৩রা নভেম্বর জেলহত্যা দিবস বাঙ্গালী জাতির জন্য কলঙ্কময় দিন। এই দিনে রুয়েট ছাত্রলীগ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতির নির্দেশে সহ-সভাপতি ওসমান হায়দার তমাল ও তার দলবল নিয়ে এসে তাদের উপর চড়াও হয় এবং রুয়েট ছেড়ে চলে যেতে বলে। কিন্তু তিনি এই ক্যাম্পাসের একজন ছাত্র। তারা আমার ছাত্র হিসেবে মৌলিক অধিকার, আমার নাগরিক অধিকার হরনের চেষ্টা করেছে।
তিনি এর তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন । এরপর রুয়েটে পুলিশ প্রশাসন আসলে ইপু বাহিনী ডাইরেক্ট এ্যাকসন স্লোগান দিতে থাকে এবং তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগালাজ করে। ৩রা নভেম্বর এর মত দিনে এমন শ্লোগান যা অত্যন্ত নিন্দনীয় । তিনি এই বিষয়টিরও তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন। এরপর পুলিশ প্রশাসন অনুরোধ করলে তাদের প্রতি ও ৩রা নভেম্বর এর দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যান বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
এ সময়ে ৩-৪ জন সহকর্মী একটু পেছনে পরে গেলে তাদের একা পেয়ে ইপু ও তপুর নির্দেশে তাদের মারধোর ও লাঞ্ছিত করেন। মারধরের শিকার হওয়া প্রত্যেকেই আবাসিক হলের ছাত্র। এছাড়াও তারা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিচালিত এম.এ. ওয়াজেদ মিয়া সাইনস একাডেমীতে করোনা কালীন সময়ে সারা বাংলাদেশে বিনা পারিশ্রমিকে টিউশন প্রদান করেন। শুধু তাইনয় অন্যান্য সমর্থনকারী সহকর্মী যারা হলের আবাসিক ছাত্র, তাদের রুমে এক্সট্রা তালা লাগানো হয় এবং তাদের বিভিন্ন মাধ্যম হতে হুমকি ধামকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তাদের ছাত্র হিসেবে মৌলিক অধিকার ক্ষুন্ন হচ্ছে । এতে তাদের সমর্থক সহকর্মীদের জীবন চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের সহাযোগিতা কমনা করেন।
এখানেই তারা ক্ষ্যান্ত হয়নি ৪ নভেম্বর ইপু-তপুর তত্ত্বাবধানে মিথ্যাচার মূলক মানববন্ধন করে এবং সেখানে আমাকে ও আমার পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। এমনকি আমাদের জামায়েত-বিএনপি ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী পরিবার বলা হয়েছে। আমার বাবার নামে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য রটানো হয় যে, তাকে চাকুরীচ্যুত করা হয়েছে, আমাকে জনসম্মুখ্যে সন্ত্রাসী বলা হয়েছে । অথচ আমার বাবা নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে অবসরগ্রহন ও নিয়মিত অবসর ভাতা উত্তোলন করেন । যার প্রমান তাদের নিকট রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন।
তারা আরো উল্লেখ করেন তার নানা একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা, তার গেজেট নং ১০৭৪ । তারা একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ও একটি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে হেয় প্রতিপন্ন করেছে যা মহান মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করার শামিল । তিনি এর তীব্র নিন্দা জানান। এ বিষয় নিয়ে পরিবার থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি প্রেরন করা হবে, যাতে এই অসম্মানের সঠিক বিচার পান। এছাড়াও তার বাবার অসম্মানের জন্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে জানান।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উল্লেখ করা হয় রুয়েটে বর্তমান প্রশ্নবিদ্ধ কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইসফাক ইয়াসসির ইপু, রুয়েট ছাত্রলীগ কর্মী অপহরন মামলায় গ্রেপ্তার হোন এবং ৩ দিনের রিমান্ডে তাকে নেওয়া হয়। যা সে সময়ে দেশের বেশ কয়েকটি পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালে প্রকাশ হয়েছিল। ২০১৮ সালের ৮ই মার্চ ছাত্রলীগ হয়ে ছাত্রলীগের অন্য গ্রুপ। যারা হামিদ হলে অবস্থানরত ছিলো তাদের উপর হামলা ও লুটপাট চালানো হয় এবং তখন ইপুকে হাশুয়া ও পিস্তলসহ সিসি টিভির ফুটেজে দেখা যায় । যার প্রমান সংরক্ষিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
মানববন্ধনকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে তারা বনে, এরা নানা অপকর্মের সাথে জড়িত এবং তাদের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। এরা হলেন তপু, নাহিদ ও লতিফ। জামায়েত-বিএনপি এর অর্থের জোগানে ও মদতে নুরুর অনুসারী এরা । যার প্রমান রয়েছে । আসলে তারা বঙ্গবন্ধুর এই প্রানের সংগঠন ছাত্রলীগকে সুস্থ্য স্বাভাবিক রাখতে চায়না। তারা কোনো মিথ্যাচারী ও ধোকাবাজীর ছাত্রলীগের জায়গা নেই বলে জানান ।
এবিষয়ে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি নুর মোহাম্মদ সিয়ামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং আওয়ামী লীগের রাজশাহীর অভিভাবক হিসেবে আমরা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নগর পিতার এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে জানি ও বুঝি। রুয়েটে একটু ঝামেলা হয়েছিল কিন্তু এখন স্বাভাবিক আছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের নিজ হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগ। তবে আজকের সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে জানা নাই। যদি কোন সমস্যা হয় তাহলে অবশ্যই নগর পিতা এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তা সমাধান করবেন বলে জানান তিনি।