নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, শিক্ষা নিয়ে কোন প্রকার অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবেনা। অতিতেও করতে হয়নি। এখনো করতে দেয়া হবে। এছাড়াও গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সন্তানকে নিজ প্রতিষ্ঠানে পড়াতে হবে। তাহলেই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের প্রতি যত্নবান হবেন। শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ অডিটোরিয়ামে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা- ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজশাহী বিভাগের সকল জেলার কেন্দ্র সচিবদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, যার নিজের সন্তানকে নিজের স্কুলে পড়ানোর মতো আস্থা নেই, সে ভালো শিক্ষক হতে পারে না। আপনি নিজের সন্তানের মতো অন্যের সন্তানকে আদর-সোহাগ করেন না। আবার দেখা যায়, বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা বলেন, আমার সন্তানকে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে দিতে হবে। কিন্তু আপনার বিশ্ববিদ্যালয়ে তো ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে। আপনার সন্তান যদি ভর্তি পরীক্ষায় না টেকে তাহলে আপনি কি যোগ্য শিক্ষক হয়েছেন? ডিসির ছেলে-মেয়েরা কেন ঢাকায় পড়বে- এ প্রশ্ন রেখে যারা জেলার দায়িত্বে থাকবে তাদের ছেলেমেয়েকে জেলার স্কুলেই পড়তে হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, যাদের স্কুলে জিরো পার্সেন্ট পাস করবে তাদের এমপিও বাতিল করা হবে কিন্তু এবার করবো না। পদত্যাগ আমাকেও করতে হবে, যদি আমি পরীক্ষা ঠিক মতো নিতে না পারি, শিক্ষার মানোন্নয়ন করতে না পারি, আন্তর্জাতিক মানে নিতে না পারি তাহলে আমার পদত্যাগ অপরিহার্য।
এহছানুল হক মিলন বলেন, পরীক্ষা হচ্ছে আনন্দের বিষয়। এবারের পরীক্ষা হতে হবে সবচেয়ে সুন্দর এবং আনন্দমুখর। বিগত সরকারের সময় পরীক্ষার ফলাফলে ধস নেমেছিল। অন্তর্বর্তী সরকার কিছুটা হলেও সেখান থেকে উত্তরণ ঘটিয়েছিল। আপনারা পরীক্ষা নেবেন, শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেবে, তাদের ভয়ভীতি দেখানোর কোনো দরকার নাই।
২০০১ হতে ২০০৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকরাই নকল প্রতিরোধ করেছিল উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সে সময় অনেক আইন-কানুন করেছিলাম। আজকের প্রেক্ষাপটে সেই আইন-কানুনের আর প্রয়োজন নাই। এখন ডিজিটাল সবকিছু। সেজন্য ১৯৮০ সালের আইনে পরিবর্তন আনা দরকার। এই আইনের পরিবর্তন বিষয়ে ক্যাবিনেট মিটিং-এ কথা হয়েছে। খুব শীঘ্রই পরিবর্তন করা হবে। পাবলিক পরীক্ষা বলতে শুধু এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষা নয়, নিয়োগ পরীক্ষাসহ সব ধরনের পাবলিক পরীক্ষাকে আমরা একটি নিয়মের মধ্যেই নিয়ে আসতে চাচ্ছি।
তিনি শিক্ষকদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা গুরুত্বসহকারে খাতা দেখবেন। শিক্ষার্থীর লেখার উপর ভিত্তি করে নাম্বার দিবেন। অনেক শিক্ষককে দেখেছি গুরুত্বসহকারে খাতা দেখে, আবার কিছু শিক্ষক সহযোগী দিয়ে খাতা দেখিয়ে নেয়। সে বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব। পরীক্ষকের কোনো ঘাটতি থাকলে প্রয়োজনে আমরা তাদের প্রশিক্ষণ দেব।
তিনি বলেন, সব কেন্দ্রে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে যাতে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থী কোনো পক্ষই ফাঁকি দিতে না পারে। আমাদের সেই আগের দিন নেই যে হঠাৎ করে হেলিকপ্টার নিয়ে চলে যাব। এখন ঘর থেকেই পৃথিবী দেখা যায়। সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে আমি এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সবকিছু ঘরে বসে দেখবো ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবো।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী আরও বলেন, যেসব শিক্ষার্থী লেখাপড়া বাদ দিয়ে টিকটক করে বেড়ায়, তাদের নিয়ে আমাদের চিন্তা নেই। তবে যারা মনোযোগ দিয়ে লেখাপড়া করে, তাদের প্রতিই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বক্তব্যের শেষের দিকে তিনি উপস্থিত কেন্দ্র সচিব ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ পরীক্ষা ফি, এবং একাধিক রেজিষ্ট্রেশনসহ নানা সমস্যা তুলে ধুরেন। মন্ত্রী তাদের কথা মনোযোগসহকারে শোনেন উত্তর দেন। সেইসাথে শ্ক্ষিা নিয়ে আগামীর পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ.ন.ম. মোফাখখারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব দাউদ মিয়া, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ.ন.ম বজলুর রশীদ, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা এডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মিয়া মোহাম্মদ নুরুল হক প্রমুখ বক্তৃতা করেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।