রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৪২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান রাজশাহীতে জিয়া মঞ্চের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ কেশরহাট পৌরসভাকে আধুনিকায়ন করা হবে: এমপি মিলন রাজশাহীতে সিএনজি মালিক সমিতির উদ্যোগে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন রাজশাহী আরডিএ পার্কের পুকুরে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপর করেন আরডিএ চেয়ারম্যান

স্কুল কমিটি গঠন নিয়ে রাজশাহীর কাটাখালীতে গ্রামবাসীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা

  • প্রকাশ সময় মঙ্গলবার, ৮ নভেম্বর, ২০২২
  • ৫৪৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর কাটাখালিতে স্কুলকমিটি গঠন নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। জানা গেছে কাটাখালী থানা এলাকায় স্থানীয় লোকজনের সাথে আলোচনা না করে এবং স্কুল পরিচালনা পরিষদের নির্বাচনী মনোনয়ন না দেয়ায়, প্রধান শিক্ষক ও এডহক কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে বেলঘড়িয়া গ্রামবাসী। মঙ্গলবার অভিভাবক সদস্যের মনোনয়ন ফরম জমা শেষ দিনে এ নিয়ে বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেলঘড়িয়া আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি বিদ্যমান। কিছুদিন আগে প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম কাউকে না জানিয়ে এডহক কমিটি সভাপতি মুক্তার হোসেনকে সভাপতি করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের জন্য চারঘাট মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে পাঠান। এই কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, রিপন আকতার, তোফাজ্জল হোসেন, রবিউল ইসলাম ও পারভীন বেগম। এ ঘটনায় ফুঁসে উঠে অত্র এলাকার সাধারণ জনগণ। তাদের দাবি, নির্বাচন দিয়ে বিধি মোতাবেক কমিটি গঠন করা হোক।
কিন্তু প্রধান শিক্ষক তা না করে পেশি শক্তি ব্যবহার করে নিজের ইচ্ছায় পকেট কমিটি গঠন করছেন বলে দাবি গ্রামবাসীর। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। যে কোন সময় বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হতে পারে বলেও ধারণা করছেন অনেকে। তবে এলাকাবাসী অভিযোগ দিলে প্রধান শিক্ষকের দেয়া কমিটি বাতিল করে দেয় চারঘাট শিক্ষা অফিস। পাশাপাশি বিধি মোতাবেক কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়। সেই মোতাবেক মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক সদস্যের মনোনয়ন উত্তোলন ও দাখিলের শেষ সময় ছিল। মনোনয়ন প্রত্যাহারের দিন আগামী ১০ নভেম্বর ও নির্বাচন ২২ নভেম্বর।
জানা যায়, শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিতে ঐ স্কুলের কম্পিউটার শিক্ষক ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতার মেয়ে রিনা পারভীন মনোনয়ন উত্তোলন করেন। কিন্তু তিনি মনোনয়ন ফরমে প্রস্তাবকারী পেলেও সনাক্তকারি পাননি। কারণ হিসেবে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক ও বর্তমান এডহক কমিটির সভাপতি মুক্তার হোসেন অন্যান্য শিক্ষকদের পেশিশক্তি দেখিয়ে বেতন-ভাতা বন্ধের হুমকী দেয়।
এতে তার সহকর্মী শিক্ষকরা তাঁর পক্ষে সনাক্তকারি হতে ভয় পাচ্ছে। এমনকি তার প্রস্তাবকারি হওয়ায় কাব্য তীর্থ শিক্ষককে গালি-গালাজসহ চাকরি কেড়ে নেওয়া হুমকী দেয়। মঙ্গলবার দুপুরে ওই শিক্ষিকাসহ অভিভাবক সদস্যের মনোনয়ন প্রত্যাশি অনেকে মনোনয়নপত্র নিতে গেলে অফিসের মধ্যে একে-অপরের প্রতি কথাকাটা শুরু হয়। এতে অবৈধ গোপন কমিটির রিপন আকতার ও বর্তমান সভাপতি মুক্তার হোসেন মনোনয়ন প্রত্যাশিদের অকথ্যভাষায় গালি-গালাজ ও দেখে নেয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষকদের মধ্যে অনেকে বলেন, একরকম চাপ প্রয়োগ করেই প্রধান শিক্ষক ও এডহক কমিটির সভাপতি মুক্তার হোসেন মনোনীত শিক্ষক প্রতিনিধি হবে মর্মে স্বাক্ষর নেয়। অনেকে মান সম্মান খোয়ানো ও গন্ডগোল এড়ানোর জন্য স্বাক্ষর করেন। এলাকাবাসির অনেকে জানান, ৩ নভেম্বর থেকে ৮ নভেম্বর মনোনয়ন উত্তোলন জমা দানের শেষ সময় থাকলেও প্রধান শিক্ষক চারদিন অনুপস্থিত থাকেন। এছাড়াও প্রধান শিক্ষক ও এডহক কমিটির সভাপতি মুক্তার হোসেন তাদের কাছের লোকদের মনোনয়ন উত্তোলনের সুযোগ দেন হ বলে তারা অভিযোগ করেন।
এব্যাপারে ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম গোপন কমিটির অনুমোদনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, এবারে বিধিবিধান মতই কমিটি গঠন হচ্ছে। বাধা দেওয়ার বিষয়টি মিথ্যা। নইলে ১১টি মনোনয়ন উত্তোলন ও জমা হতো না। সঠিক সময়ে নিয়মে ও নির্ধারিত দিনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
এডহক কমিটির সভাপতি মুক্তার হোসেন বলেন, মরহুম আব্দুস সাত্তার এই প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন। তিনি নিজেও এই বিদ্যালয়ের উন্নয়নে জমি দান করেছেন। এলাকার জনগণ ও অভিভাবক সদস্যরাই আমাকে সভাপতি করেছে। নির্বাচনে অনেকে হেরে যাওয়ার ভয়ে মনোনয়ন উত্তোলন না করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে। অফিসের মধ্যে হট্টোগোলের বিষয়ে তিনি বলেন, এলাকার সকল মানুষ একমত হবে-এমনটি আশা যায় না। তাই পক্ষে-বিপক্ষে একটু কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরে সবাই শান্ত হয়েই অফিসকক্ষ ত্যাগ করেন বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin