নিজস্ব প্রতিবেদক: দ্রুত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দাবিতে সাধারণ জনগণের জোরালো দাবীতে রাজশাহীতে সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের উদ্যোগে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। মানববন্ধনে স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের চেষ্টার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। একইসাথে দ্রুত একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জোর দাবি জানানো হয়।
এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয়তাবাদী মহিলাদল কেন্দ্রীয় কমিটির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক রোকসানা বেগম টুকটুকি বলেন,“বিরোধী দলের নেতাদের গুমের খবর জানেন তো?” তিনি প্রশ্ন রাখেন, যারা অতীতে স্বৈরাচার ও দমন-পীড়নের মাধ্যমে জনগণের অধিকার হরণ করেছে, আজ তাদের কেন পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে? এ চক্রান্ত গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ভয়াবহ হুমকি।
“গুম-খুনের সাথে জড়িত মেজর জিয়াউল আহসানের শাস্তি চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, একাধিক গুম ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় যার নাম বারবার উঠে এসেছে, তার বিচার না করে তাকে আড়াল করার প্রয়াস জাতির সঙ্গে প্রতারণা। তিনি আরো বলেন, ৬৭ জন সেনা হত্যায় খবর কি জানতে চেয়ে টুকটুকি আরো বলেন, সেনা হত্যার ঘটনায় আজও কোনো স্বচ্ছ তদন্ত বা বিচার হয়নি। এটি নিছক অবহেলা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ধামাচাপা।
“গণঅভ্যুথানের পরে সেনা হেফাজতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় প্রকাশ ও বর্তমান অবস্থা জাতি জানতে চাই উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় যেসব ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল, তাদের পরিচয় এবং বর্তমান অবস্থা নিয়ে নীরবতা রহস্যজনক। জাতিকে এই তথ্য জানাতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক গোপন সত্য ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের খবর আড়াল করা হচ্ছে। সরকার যেন একটি অদৃশ্য শক্তির হয়ে কাজ করছে। তাঁরা আর কোনো নাটক চান না। জনগণের সরকার চান, গুটিকয়েক সুবিধাভোগীর নয়। অবিলম্বে নিরপেক্ষ নির্বাচন দিন, নইলে রাজপথেই জবাব পাবেন বলে হুঁশিয়ারী দেন তিনি।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী হাবিবুন নাহার জাপান, ও কাঁটাখালী পৌরসভা ২নং ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার বেদেনা বেগমসহ মানববন্ধনে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, তরুণ সমাজ, শিক্ষার্থী ও সমাজ সচেতন নাগরিকরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, এই আন্দোলন কেবল শুরু, সামনে আরও বড় কর্মসূচি আসছে।