নিজস্ব প্রতিবেদক: হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর সহযোগিতায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুচিকিৎসা ও প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে মঙ্গলবার “টেকসই নিউক্যাসল ডিজিজ (ঘউ) বা রানীক্ষেত রোগ নিয়ন্ত্রণের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশে গ্রামীন মুরগি উৎপাদন উন্নয়নে অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রম গবেষণা” শীর্ষক সেমিনার ও ইনসেপশন মিটিং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নজরুল ইসলাম সায়েন্স বিল্ডিং-এ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. সালেহ হাসান নকীব।
সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুচিকিৎসা ও প্রাণীবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোইজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হেইফার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর নুরুন্নাহার। সঙ্গে ছিলেন ফ্যাকাল্টির ডিন প্রফেসরড. কে.এম. মোজাফফর হোসেন। নব উদ্ভাবিত থার্মোস্টেবল নিউক্যাসল ডিজিজ ভ্যাকসিনের ওপর মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক সোশে আহমেদ।
প্রোগ্রামে প্রকল্প থেকে উৎপাদিত থার্মোস্টেবল নিউক্যাসল ডিজিজ ভ্যাকসিনের বড়সড় সাফল্য তুলে ধরা হয়, যা পরীক্ষায় শক্তিশালী ফলাফল দেখাচ্ছে। এই উদ্ভাবনটি পোল্ট্রি মৃত্যুহার উল্লেখযোগ্য ভাবে কমাবে, গ্রামীণ আয় বৃদ্ধি করবে এবং বাংলাদেশের পোল্ট্রি শিল্পকে রূপান্তরিত করবে বলে আমা করেন অংশগ্রহনকারীরগণ।
কান্ট্রি ডিরেক্টর নুরুন্নাহার বলেন, “তারা সরকার এবং বেসরকারি খাতের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী অংশীদারিত্বের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন কৃষকদের সহায়তা, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষিক্ষেত্রে নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করতে। এদিকে মূলবক্তা সোশে আহমেদ বলেন, যদি তাঁরা এই আবহাওয়া-সহনীয় ভ্যাকসিন পুরোদেশে পৌঁছে দিতে পারেন তাহলে দেশী মুরগি উৎপাদন ৮০% বৃদ্ধি পাবে।”
প্রধান অতিথি বলেন, “ভ্যাকসিন প্রস্তুত। পরীক্ষায় সাফল্য দেখাচ্ছে। এখন আমাদের ছোট কৃষকদের শিক্ষিত করতে হবে। কারণ তারা গুরুত্তপূর্ণ ব্যবহারকারী হবেন। প্রফেসর ড. কে.এম. মোজাফফর হোসেন বলেন, স্থানীয় ভ্যাকসিন আছে, কিন্তু তাপমাত্রা বজায় থাকেনা। এই ভ্যাকসিন পোল্ট্রি শিল্পে বড় পরিবর্তন আনবে।
তিন বছরের এই প্রকল্পটি হেইফার ইন্টারন্যাশনালের সহায়তায় এবং অস্ট্রেলিয়ার কিমা ফাউন্ডেশন ও অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এর সহযোগিতায়, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, ইকো-সোশিয়াল ডেভেলপমেন্টাল অর্গানাইজেশন (ঊঝউঙ), জাগরণীচক্র ফাউন্ডেশন ও ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম (ঘউচ)দ্বারা বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পটি ৯৫টি গ্রামে ৫,০০০টি পরিবারকে সরাসরি উপকার করবে এবং বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তাও ঝউএং অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানরাখবে। ২০০-এর ও বেশি অংশগ্রহণকারীর মধ্যে ২২জন দেশী মুরগি উদ্যোক্তা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং নব উদ্ভাবিত ভ্যাকসিন সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করেছেন।