মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবীতে নওহাটায় মানববন্ধন অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়নাল এর পাশে বিএনপি নেতা সুলতান আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: বিভাগীয় কমিশনার পবা ইউএনও এর উদ্যোগে দীর্ঘ ২২ বছরের দুর্ভোগ কাটল এক দিনে নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময়

কাঁচা ও পাকা তালের উপকারিতা ও গুণাগুন

  • প্রকাশ সময় শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৩৩৬ বার দেখা হয়েছে

ফজলুল করিম বাবলু: তাল ট্যাডগোলা একটি ফল, যা ইংরেজিতে পাম ফ্রুট নামে পরিচিত। এই ফলের গাছটি প্রায় ২০ থেকে ৪০ ফুট উঁচু হয়ে থাকে। এই গাছগুলির কোনও শাখা নেই এবং গাছগুলি খুব সোজা আকৃতির হয়। এই গাছ কাঁটাযুক্ত হয়। এই গাছটি প্রধানত গরম জায়গায় জন্মায়। এই গাছ ফল এবং ফুল বহন করে এবং ফুল হলুদ বর্ণ ধারণ করে, যা দুর্দান্ত সুবাস দেয়। একটি ডালে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ তাল শাস হয়। তাল শাস কাঁচা অবস্থায় সবুজ ও পেকে যাওয়ার পর হলদে হয়ে যায়। তাল শাস ফল খাবারে মিষ্টি ও সুস্বাদু। এটি পেটের উত্তাপকে শীতল করে। এই ফলের মধ্যে অনেকগুলি ভিটামিন এবং খনিজ রয়েছে যা স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

তালের ফল এবং বীজ দুইই বাঙালি খাদ্য। কচি অবস্থায় তালের বীজও খাওয়া হয় যা তালশাঁস নামে পরিচিত। এই তাল পাকলে এর ঘন নির্যাস দিয়ে তালসত্ব, পিঠা ও কেক তৈরী করা হয়। এগুলো অনেক সুস্বাদুও বটে। তাল গাছের কাণ্ড থেকেও রস সংগ্রহ হয় এবং তা থেকে গুড়, পাটালি, মিছরি, তাড়ি ইত্যাদি তৈরি হয়। তালে রয়েছে ভিটামিন এ, বি ও সি, জিংক, পটাসিয়াম, আয়রন ও ক্যালসিয়াম সহ আরও অনেক খনিজ উপাদান। এর সঙ্গে আরও আছে অ্যান্টি অক্সিজেন ও অ্যান্টি ইনফ্লামেটরি উপাদান।

পাকা তালের প্রতি ১০০ গ্রাম খাদ্যযোগ্য অংশে রয়েছে- খাদ্যশক্তি ৮৭ কিলোক্যালরি, জলীয় অংশ ৭৭.৫ গ্রাম, আমিষ .৮ গ্রাম, চর্বি .১ গ্রাম, শর্করা ১০.৯ গ্রাম, খাদ্য আঁশ ১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ২৭ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ৩০ মিলিগ্রাম, আয়রন ১ মিলিগ্রাম, থায়ামিন .০৪ মিলিগ্রাম, রিবোফ্লাভিন .০২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন .৩ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৫ মিলিগ্রাম।

পাকা তাল নানভাবে খাওয়া যায় যেমন, তালসত্ব – তালের রস ও চিনি দিয়ে বানানো হয় তালসত্ব। এটি রোদে শুকিয়ে সারাবছর খাওয়া যায়। অনেকে ভাত ও দুধের সঙ্গে এই তালসত্ব খেয়ে থাকেন। তালের জুস – তালের রস, দুধ, চিনি দিয়ে জুস বানানো যায়। তেল যেহেতু ভাদ্র মাসে পাকে, সেই সময়ের গরমে এই জুস খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। তালের পিঠা- তালের ঘন নির্যাসের সঙ্গে ডিম, চালের গুঁড়া, গুড় বা চিনি এবং কখনো নারিকেল দিয়ে তালের পিঠা তৈরি করা হয়। গ্রামগঞ্জে এই পিঠার ঐতিহ্য রয়েছে। তালের পিঠার সুন্দর একটি ফ্লেভার রয়েছে। তালের কেক- কেকের সব উপকরণের সঙ্গে তালের রস মিশিয়ে কেক বানানো হয়। এর রং খুবই আকর্ষণীয় হয়। তালের কেকের মধ্যে চিনি কম এবং ডিমের সাদা অংশ ব্যবহার করলে ডায়াবেটিস ও হৃদরোগীদের জন্য ভালো খাবার হতে পারে।

একটি পাকা তাল অনেক গুনে গুনান্বিত। এর অনেক গুন রয়েছে যেমন-তাল অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুণসমৃদ্ধ হওয়ায় ক্যান্সার প্রতিরোধে সক্ষম। এ ছাড়া স্বাস্থ্য রক্ষায়ও তাল ভূমিকা রাখে। স্মৃতিশক্তি ভালো রাখতে সাহায্য করে। তাল ভিটামিন বি-এর আধার। তাই ভিটামিন বি-এর অভাবজনিত রোগ প্রতিরোধে তাল ভূমিকা রাখে।তালে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস আছে, যা দাঁত ও হাড়ের ক্ষয় প্রতিরোধে সহায়ক।কাষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের রোগ ভালো করতে তাল ভাল ভূমিকা রাখে।

এতো গেল পাকা তলের কথা। এবার আসা যাক কাঁচ তাল মানব দেহের জন্য কতটা উপকারী- তাল শাসের আটটি অসাধারণ সুবিধা রয়েছে যেমন- তাল শাস এর অনেক পুষ্টিকর উপাদান এবং খনিজ রয়েছে। এটিতে ক্যালরি, ফ্যাট, সোডিয়াম, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, চিনি, প্রোটিন, পটাসিয়াম, তামা, ভিটামিন বি ৬ এবং দস্তা রয়েছে। এছাড়াও তাল শাস এর অনেক ঔষধি উপাদান রয়েছে। এর মধ্যে উপস্থিত ভিনেগার পাচন হিসেবে কাজ করে এবং শরীরকে ফ্যাট এবং মজবুত করে তোলে। এর পাকা ফল পিত্তকে প্রস্রাব দ্বারা বার করতে সহায়তা করে এবং প্রস্রাব বাড়ায় এবং বীর্যের সংখ্যা বাড়াতে কাজ করে। এটি রক্ত সম্পর্কিত সমস্যা দূর করে। এছাড়াও, এটি শরীরের ক্লান্তি হ্রাস করে এবং প্রস্রাব পরিষ্কার করে।

তাল শাস খেলে ঢেকুর কমে যায়। সেইসাথে এর কারনে অনেকে প্রায়শই পেটের সমস্যায় ভোগেন। পেটের সমস্যা নিরাময়ে তালের শাস খুব উপকারী। কারণ এই ফলের কাঁচা পানি খেলে পেটের ব্যাথা কমে যায়। এগুলি ছাড়াও এটি বমিভাবের সমস্যা হ্রাস করে। পেটের রোগ নিরাময়ে তাল শাস পেটের ব্যাধি নিরাময় করে। দিনে দুবার গুড়ের সাথে তাল শাস খাওয়া পেটের রোগ নিরাময় করতে এবং স্বাস্থ্যকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। এই প্রক্রিয়াটি সপ্তাহে দু’দিন করতে হবে। তবে মনে রাখবেন এটি সঠিক পরিমাণে সেবন করা উচিত। কারণ অতিরিক্ত খাওয়া নেতিবাচক ফলাফল দেয়।

হেঁচকির সমস্যা হলে তালের বীজ দুধের সাথে মিশিয়ে নিয়ে খেলে উপকার হয়। এটি একটি ঠান্ডা জাতীয় ফল। শরীর শীতল রাখতে তাল শাস অতুলনীয়। গ্রীষ্মের মৌসুমে মানুষ তাল শাঁস খেতে বেশি পছন্দ করে। কারণ এটি পেটে শীতলতার অনুভূতি দেয়। শরীরে ক্লান্তি হ্রাস করে ও শক্তি সরবরাহ করে। তাল শাস এর পানি শরীরের জন্য উপকারী। গ্রীষ্মের সময় এটি খাওয়া উচিত। এছাড়াও ফোলাভাব কমাতে তালের পাতার রস পান করা উপকারী। এটি ফোলা এবং আঘাতের সমস্যা হ্রাস করে।

শুধু তাই নয় তাল শাস ফলে এমন কিছু ঔষধি গুণ রয়েছে যা মানসিক সমস্যা হ্রাস করতে সহায়তা করে। দিনে দুবার তাল শাস এর রস পান করলে হতাশার সমস্যা ও অজ্ঞন হয়ে পড়ার সমস্যা কমে যায়। অন্যান্য রোগ থেকেও রক্ষা -করে। টাইফয়েড জ্বর নিরাময়ে তাল পাতা উপকারী। দিনে দুবার এর রস খাওয়ার ফলে জ্বরের তাপমাত্রা কমে যায়। টাইফয়েড জ্বর ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। তাল শাস ফুল থেকে বের করা রস পান করলে প্রস্রাব সঠিকভাবে হতে সহায়তা করে এবং জলরোধী সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। জল শরীরের জন্য উপকারী তবে অতিরিক্ত জল ক্ষতিকারক হতে পারে।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin