নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে খুব একটা ভাল নেই। আর যারা হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন তারা অত্যন্ত অসহায় হয়ে আসেন। হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যায় মেটাতে তারা হিমশিম খান। আরেক দিকে মোটর সাইকেল ও বাইকেল রাখার গ্যারেজ ও রোগি বহনকারী ট্রলিম্যানদের নিকট প্রতিনয়িত হয়রানীর শিকাড় হচ্ছেন রোগি ও রোগির স্বজনেরা। এমনচিত্র রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের।
রাজশাহী একটি বিভাগীয় শহর। এই শহরের সারারাত মানুষ জেগে থাকে বিভিন্ন কাজের জন্য। আর স্বাভাবিকভাবে শহরের মানুষ ঘুমাতে যায় রাত ১২- সাড়ে ১২ টার মধ্যে। কিন্তু রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের কর্মকাণ্ড ভিন্ন। রাত ১১টা ১ মিনিট হলেই গারেজে রাখা মোটর সাইকেলে গুনতে হয় তিন ডবলের বেশী এবং ও বাইসাইকেলে গুণতে ডবল টাকা। এই গ্যারেজ পরিচালনা করেন বাংলাদেশ চতুর্থ শ্রেণি সরকারী কর্মচারী সমিতি রাজশাহী মেডিকেল হাসপাতাল। তারা গ্যারেজের সামনে মোটর সাইকেল ও বাইকেল রাখার চার্জ সম্মলিত একটি ব্যানার টাঙ্গিয়ে রেখেছেন।
সেখানে দেখা যায় একটি মোটরসাইকেলের নিয়মিত গ্যারেজ ভাড়া ১৫ টাকা। কিন্তু রাত ১১ টা ১ মিনিট হলেই গ্যারেজ ভাড়া গুনতে হয় তিন ডবলেরও বেশী, ৫০টাকা। আর বাইসাইকেল গারেজ চার্জ নিয়মিত ১০। কিন্তুরাত ১১ টা ১ মিনিট হলেই সারারাতের জন্য গুনতে হয় ২০ টাকা। এ নিয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসা রোগীর লোকজনের সাথে প্রতিনিয়ত গ্যারেজ পরিচালনা করা লোকজনের ঝগড়া ফ্যাসাদ হয়।
রোগির স্বজন আসলাম হোসেন, সুলতান আহম্মেদ, মোজাফ্ফর হোসেন, রঞ্জু, ফারুক, সুজন ও রবিউল আওয়াল বলেন, তারা এই শহরের এবং পার্শবর্তী এলাকার মানুষ। নগরবাসী ও পার্শবতী হওয়ায় অনেক সময় মোটর সাইকেল ও বাইসাইকেল নিয়ে তারা রোগির সেবা ও দেখতে আসেন। ফলে গ্যারেজ তাদের যানবাহন রাখতে হয়। প্রতিনিয়ত গ্যারেজে তাদের বিড়স্বনায় পড়তে হয়। অনেক সময় তারা ব্যানার না দেখেই হাসপাতালে চলে যান নিজ রোগির নিকট। এরপর তারা অনেক সময় সম্পর্কে ভূলে যান। এছাড়াও অনেক সময় বাধ্য হয়ে দেরী হয়ে যায়। এতে করে সাধারণ মানুষ এক প্রকার জিম্মিই হয়ে পরে গ্যারেজ পরিচালনাকারীদের নিকট।
তারা আরো বলেন, শহরের রাত ১১টা মানে সন্ধ্যা। এই সময়ে বর্ধিত গ্যারেজ চার্জ নেয়া ঠিক নয় বলে জানান তারা। ভূক্তভোগিসহ আরো অনেকে এই বর্ধিত ভাড়া রাত সাড়ে ১২টার পরে কার্যকরী করার জন্য কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল প্রশাসনের নিকট দাবী জানান।