বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবীতে নওহাটায় মানববন্ধন অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়নাল এর পাশে বিএনপি নেতা সুলতান আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: বিভাগীয় কমিশনার পবা ইউএনও এর উদ্যোগে দীর্ঘ ২২ বছরের দুর্ভোগ কাটল এক দিনে নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময়

রাজশাহীতে মাদ্রাসা ছাত্রকে অমানবিকভাবে পেটোনোর দায়ে শিক্ষক আটক

  • প্রকাশ সময় শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৬১৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ফারহিব (১৬) নামে হিফজখানার এক শিক্ষার্থীকে সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ অমানবিকভাবে পিটিয়ে মাদ্রাসায় আটকিয়ে রাখে শিক্ষক হাফেজ মাওলানা মিজান। নয়দিন আটকিয়ে রেখে সামান্য প্যারাসিটামল ট্যাবলেট খাইয়ে তার ব্যাথা নিবারন করার চেষ্টা করে। নয়দিন পর অত্র শিক্ষার্থী মাদ্রাসা থেকে বাড়ি চলে গিয়ে পরিবারকে জানালে পরিবারের পক্ষ একটি মামলা দায়ে করা হয় আরএমপি শাহ্ মখ্দুম থানায়।

ঘটনাটি ঘটে নওদাপাড়া আবাসিক এলাকায় অবস্থিত জামিয়া দারুল হাবীব হাফেজিয়া মাদ্রাসায়। ভূক্তোভোগি শিক্ষার্থীর বাড়ি নগরীর মতিহার থানার ধরমপুর জাহাজঘাট এলাকার। পিতা শেখ ফরিদ, মাতা হাসিনা খাতুন। ফারহিব বলেন, একই মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত আরেক শিক্ষার্থীকে তিন থেকে সাড়ে তিন মাস পূর্বে এই শিক্ষক জোরপূর্বক বলাৎকার করেন। পরে বিষয়টি ঐ শিক্ষার্র্থীর অভিভাবক জানতে পারলে অত্র মাদ্রাসা থেকে তার ছেলেকে নিয়ে চলে যান। লোক লজ্জার ভয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়নি সে সময়ে তারা। তবে বলাৎকারকারী শিক্ষক মিজানের সাথে ঐ শিশুর মা মোবাইলে কথা বলেন এবং তা রেকর্ড করে রাখেন। মোবাইলে তিনি ঘটনা স্বীকার করেন।

এ বিষয় নিয়ে ফারহিব মাদ্রাসার ভিতরেই অন্য দুই একজন ছাত্রকে বলেন এবং এর প্রতিবাদ জানান। এতে ঐ শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ ভোর বেলায় ফজর নামাজের পরে সকল শিক্ষার্থীকে জোরে জোরে কোরআন পড়ার নির্দেশ দিয়ে তাকে কাঠের বাটাম দিয়ে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে গুরুতর আহত করেন এবং আটকিয়ে রাখে বলে জানান ফারহিব। এ নিয়ে ২৫ সেপ্টেম্বর ফারহিব এর মা হাসিনা খাতুন বাদি হয়ে ঐ শিক্ষকের নামে শাহ্ মখ্দুম থানায় একটি মামলা করেন। এই মামলা শুক্রবার সাড়ে ১১টার দিকে অভিযুক্ত শিক্ষকে অত্র থানা পুলিশ আটক করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে বলাৎকার হওয়া ঐ শিশুর মা রিতা বেগম শুক্রবার অত্র থানায় যান। কিন্তু কিছু কাগজপত্র না থাকায় তিনি মামলা করেন নি। তবে আজ শনিবার ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছেলেকে বলাৎকারের অভিযোগে মামলা করবেন বলে জানান রিতা।

এদিকে ফারহিব ও বলাৎকার হওয়া শিশুর মা রিতাসহ থানায় উপস্থিত তাদের আত্মীয়স্বজন এই ধরনের শিক্ষকদের প্রতিষ্ঠান থেকে চাকরিচ্যুত করা এবং আইনের আওতায় বিচারের মাধ্যমে কঠোর শাস্তির দাবী জানান তারা।

শাহ্ মখ্দুম থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদি হাসান বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর ভিকটিমের মা বাদি হয়ে তার থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু আসামী সে সময়ে রাজশাহীর বাহিরে থাকায় তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়নি। ঐ শিক্ষক মাদ্রাসায় আসার খবর পেয়ে শুক্রবার তাকে আটক করতে সক্ষম হন বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, শুক্রবার দুপুর পরে তাকে কোর্টের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin