নিজস্ব প্রতিবেদক:‘ সময়ের অঙ্গিকার, কন্যাশিশুর অধিকার’ এই প্রতিবাদ্য বিষয় নিয়ে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় কন্যা শিশু দিবস পালিত হয়। রাজশাহী জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে আয়োজনে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর সপুরাস্থ মানব সম্পদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক শবনম শিরিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট সাবিহা সুলতানা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মানব সম্পদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজগর আলী। রাজশাহী মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম অফিসার রাশিদা পারভীন এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন প্রকল্প সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান। এছাড়াও অত্র অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারী, অভিভাবক ও মেয়ে শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাল্যবিবাহ বন্ধ হলে কন্যা শিশুরা আলোর মূখ দেখবে এবং তারা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। তিনি বলেন, প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যা শিশু দিবস পালন করা হয়। এর মুল কারন হচ্ছে অভিভাবক ও উপস্থিত কন্যা শিশুদের তাদের বয়সন্ধিকালে যে সকল সমস্যা হয় সে বিষয়ে যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর প্রচার প্রচারণা করছে সেগুলে মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং সেগুলো কাজে লাগানোসহ অন্যান্য বিষয়ে সচেতন হওয়া। সেইসাথে তিনি স্মার্ট ফোন ব্যবহারে যথেষ্ট সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন।

তিনি আরো বলেন, কন্যা ও নারীরা অবহেলার পাত্র নয়। সৃষ্টিকর্তা পৃথিবীকে টিকিয়ে রাখতে এবং তাঁর গুনগান ও আনুগত্য স্বীকার করার লক্ষে এভাবে সৃষ্টি করেছেন। নারী-পুরুষের কারনেই পরিবার গঠন হচ্ছে। অতএব অবদানের ক্ষেত্রে অংশিদারিত্ব কারো কম নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। কন্যা ও নারীদের সম্মানের স্থানে বসাতে এবং তাদের ন্যায্যতা পেতে পুরুষদের এগিয়ে আসতে হবে। সমাজ পরিবর্তন ও নারী নির্য়াতন ও বাল্য বিবাহ রোধে পুরুষ শাসিত সমাজে পুরুষদের মূখ্য ভূমিকা পালন করতে। সেইসাথে কন্যা শিশুদেরও সচেতন হবে। বাল্য বিবাহের কুফল সম্পর্কে জানতে হবে এবং নিজের এবং প্রতিবেশী কারো বাল্য বিবাহ হতে লাগলে আইনশৃংখলা বাহিনী, প্রশাসন ও স্থ্নানীয় সরকারের প্রতিনিধিদের জানানোর জন্য উপস্থিত সকলকে পরামর্শ দেন তিনি। বক্তব্য শেষে কন্যা শিশুদের মধ্যে উপহার তুলে দেন তিনি।