নিজস্ব প্রতিবেদক: একটি দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা, বাজেট তৈরী, নির্বাচনের জন্য ভোটার হালনাগাদকরণ ও জনগণের সেবা প্রদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য কতজন জনগণ আছেন তার সঠিক তথ্য থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এর জন্য সঠিকভাবে জন্ম ও মৃত্যর হিসাব থাকা প্ররেয়াজন। এরজন্য স্থানীয় সরকার যেমন ইউনিয়নর পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনের গুরুত্ব অপরিসিম। কারন এই সকল প্রতিষ্ঠান জন্ম ও মৃত্যুর সনদ দিয়ে থাকে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন দিবন উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি এই কথা বলেন।
তিনি বলেন, জন্ম সনদ শিশুসহ সকল মানুষের জন্য প্রয়োজন। এটা ছাড়া যেমন শিশুদের টিকা দেয়া হয়না ও স্কুলে ভর্তি নেয়া হয়না। তেমনি জমি রেজিষ্ট্রি, চাকুরীর ক্ষেত্রে এবং সরকারের নিরাপত্তাবেষ্টনী হতে সেবা প্রদান করাও সরকারের পক্ষে সম্ভব হয়না। এতে করে প্রাপ্য ব্যক্তিরা অনেক সময় সেবার বাহিরে থেকে যায়। এছাড়াও মৃত্যু সনদও অনেক গুুরত্ব বহন করেন। মৃত্যু সনদ প্রদান না করলে যেমন ওয়ারিশন সনদ প্রদান করা সম্ভব নয়। এছাড়াও ব্যাংক ও বিমাসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অর্থ উত্তোলণ করা সম্ভব নয়। এজন্য তিনি সকল নাগরিককে জন্ম সনদ গ্রহন করার পরামর্শ দেন তিনি। সেইসাথে কোন ব্যক্তি মারা গেলে িিনজ নিজ ওয়ার্ড হতে মৃত্যু সনদ নেয়ার জন্য ওয়ারিশদের আহ্বান জানান তিনি।
প্রধান অতিথি আরও বলেন, রাজশাহী বিভাগে জন্ম ও মৃত্যু সনদ নির্ভূলভাবে এবং সঠিকভাবে করা হচ্ছে। এর ফলে ২০২০-২১ অর্থ বছরে রাজশাহী বিভাগ প্রথম স্থান অর্জন করেছিলো। তেমনি ২০২১-২২ অর্থ বছরেও রাজশাহী বিভাগ এ বিষয়ে প্রথম হয়েছে বলে উল্লেখ করেন। শুধুমাত্র ঘোষনার চলতি মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে উল্লেখ করেন। এই সফলতার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

‘নির্ভূল জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন করব শুদ্ধ তথ্যভান্ডার গড়ব’ এই প্রতিপাদ্য নিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার রাজশাহী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় রাজশাহী জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার রাজশাহী বিভাগের পরিচালক এনামুল হক। রাজশাহী বিভাগ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শাহানা আখতার জাহান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিভাগ স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক চিত্রলেখা নাজনীন, রাজশাহী বিভাগের স্বাস্থ্যের পরিচালক হাবিবুল আহসান তালুকদার, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রাজশাহীর উপপরিচালক শরমিন ফেরদৌস চৌধুরী, রাজশাহী সিভিল সার্জন আবু সাইদ মোহাম্মদ ফারুক ও পরিবার পরিকল্পনার উপপরিচালক ড. কস্তরী আমিনা কুইন।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুল ইসলাম ও ইউনিসেফ রাজশাহীর প্রোগ্রাম অফিসার বেগম জেরিন রেশমাসহ সরকারী-সেরকারী প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠনের নেতৃকৃন্দ, এনজিও প্রতিনিধি ও সাংবাদিকবৃন্দ। আলোচনা সভার করার পূর্বে অতিথিবৃন্দ র্যালি করেন।