নিজস্ব প্রতিবেদক: গৃহপালিত পশু গরু, মহিষ ও গাধা নয়, ‘যান্ত্রিক পশু’ ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা দিয়ে কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল উৎপাদন করে তাক তাগিয়ে দিয়েছেন রাজশাহীর শিবপুর বাজার এলাকার ইনজামুল হক টিপু। বাজারে যেসব সরিষার তেল পাওয়া যায় তার বেশিরভাগই মেশিনে প্রস্তুত। কিন্তু ‘যান্ত্রিক ইঞ্জিন’ দিয়ে কাঠের ঘানিতে স্বাস্থ্যসম্মত সরিষার তেল উৎপাদন হয়তবা এই প্রথম করছেন তিনি।
টিপুর বৈদ্যুতিক কলের পশু দিয়ে সরিষার তেলের ঘানি ঘরের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সারা ফেলেছে এলাকায়। এমন সাহসী ও ব্যতিক্রমী উদ্যোগে অনুপ্রাণিত হচ্ছেন অনেকে। সেইসাথে এই নতুন উদ্ভাবনকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন এবং অত্র এলাকার যুবসমাজরাও এর সাথে যুক্ত হওয়ার জন্য চিন্তাভাবনা করছেন বলে জানা গেছে। সেখানে গিয়ে দেখা যায় ঘানিতে ভারি বোঝা নিয়ে ঘুরপাক খাচ্ছে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা। আর তাতেই চুয়ে চুয়ে পড়ছে সরিষার তেল।
প্রচীন বাংলায় তেল উৎপাদনের একমাত্র অবলম্বন ছিলো কাঠের ঘানি। এক সময় গ্রামগঞ্জে ঘানি ভাঙা সরিষার তেলের সুগদ্ধে আশে পাশে মৌ মৌ করতো। এখন আর পাওয়া যায়না খাটি সরিষার তেলের সুগন্ধি। তবে প্রাচীনকাল থেকেই ব্যবহার হয়ে আসছে কাঠের ঘানি। সময় ও আধুনিকতার ছোঁয়াতে এখন এই ঘানির ব্যবহার নেই বল্লেই চলে। কিন্তু রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিবপুর হাটে টিপুর যুব এগ্রো ঘানি ঘরে ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সংমিশ্রনে কাঠের ঘানি থেকে উৎপাদন করছেন সরিষার তেল।
টিপু বলেন, গবাদিপশুর কষ্ট ও তেল উৎপাদনে সময় বেশি লাগার কারনে ৭০ হাজার টাকা ব্যায়ে অটোরিকশা দিয়ে তেলের ঘানি টানার পদ্ধতি তৈরি করেছেন তিনি। এতে ব্যবহার করেছেন অটো রিকশার ফ্রেম, চাকা, ব্যাটারি ও মোটর। এসব যন্ত্রাংশ দিয়ে তৈরি তেলের ঘানি টানার দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভীড় করছেন তাদের ঘানিতে। ঘানিঘর থেকে মাসে উপার্জন করছেন হাজার হাজার টাকা। প্রতিদিন তার ঘানিঘর থেকে ১২ লিটার সরিষার তেল উৎপাদন হচ্ছে। আর এই তেল স্থানীয়দের চাহিদা মিটিয়ে সরবরাহ হচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।