নিজস্ব প্রতিবেদক: ‘শেখ রাসেল নির্মলতার প্রতীক দুরন্ত প্রাণবন্ত নির্ভিক’ এই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে নানা আয়োজনে মঙ্গলবার রাজশাহীতে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন করা হয়। এদিন দ্বিতীয়বারের মত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসার কনিষ্ঠ পুত্র শহিদ শেখ রাসেলের ৫৮তম জন্মদিন পালন করা হলো। রাজশাহী বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসনের আয়োজনে এ লক্ষে সকালে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরউল্লাহ্ এনডিসি আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত বক্তৃতা করেন। শেখ রাসেলের ছবিতে স্মার্ট, চৌকশ ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষের প্রতিচ্ছবি ফুটে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সকল বিভিন্ন ছবি থেকে শেখ রাসেলের একজন নিখুঁত মানুষের পরিচয় পাওয়া যায়। তাঁর এক-একটি ছবি যেন এক-একটি অভিব্যক্তি।
তিনি বলেন, এদিনটি আনন্দ ও বেদনার দিন। মাত্র ১০ বছর ১০ মাস বয়সের একটি শিশুকে কি কেউ হত্যা করতে পারে?Ñ কিন্তু ঘাতকেরা ছোট রাসেলকে সেদিন রেহাই দেয়নি। নতুন প্রজন্মকে বারুদের মতো হয়ে গড়ে ওঠার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, নতুন প্রজন্মকে চারিত্রিক দৃঢ়তা নিয়ে বড় হতে হবে। তাদের বারুদের মতো হয়ে গড়ে উঠতে হবে। কারণÑ আজকের শিশুরাই আগামীর ভবিষ্যত বিনির্মাণ করবে। এই ছোট সোনামনিরা-ই ২০৪১ সালের উন্নত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা সভার শুরুতে প্রথান অতিথি শিশুদের নিয়ে শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে কেক কাটেন। এর আগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় হতে একটি র্যালি বের করে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে গিয়ে শেষ করা হয়। পরে একাডেমি চত্বরে শেখ রাসেলের প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের প্রফেসর ড. মলয় ভৌমিক অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে বক্তৃতা করেন।

জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃব্য রাখেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল বাতেন, আরএমপি’র কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক, পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন ও রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামাল। অনুষ্ঠানে সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও সংস্থার কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। পরে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।