বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
বিএমডিএ’র মাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত রাজশাহী বোর্ডে পুনর্নিরীক্ষিত খাতা পুনরায় দেখার অভিযোগ পবা মোহনপুরের প্রতিটা কমিউনিটি ক্লিনিকের আধুনিকায়ন করা হবে পবার চর মাঝার দিয়ারে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প উদ্বোধনীতে : এমপি মিলন রাজশাহীর বারাহী, নবগঙ্গা ও বারনই নদীর দূষণ বন্ধের দাবীতে নওহাটায় মানববন্ধন অসুস্থ স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জয়নাল এর পাশে বিএনপি নেতা সুলতান আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং-এর মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহীতে সারের কোনো সংকট নেই: বিভাগীয় কমিশনার পবা ইউএনও এর উদ্যোগে দীর্ঘ ২২ বছরের দুর্ভোগ কাটল এক দিনে নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা

মজিজুর রহমান এর অধ্যক্ষ ও চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব একসাথে পালনে হয়রানির মুখে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা, দুর্ভোগে ইউনিয়নবাসী

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ৬ জুলাই, ২০২৪
  • ২৩৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার গোগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দারা নিদারুণ দুর্ভোগের মধ্যে আছেন। তারা যে কোন কাজের জন্য গেলে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমানের দেখা পান না। তিনি গোদাগাড়ীর প্রেমতলী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ। বেশিরভাগ সময় সেখানেই থাকেন। আবার তিনি ইউপি কার্যালয়ে গেলে কলেজের প্রশাসনিক কাজে জটিলতা দেখা দেয়।

গোদাগাড়ীর মাটিকাটা ডিগ্রী কলেজের উপাধ্যক্ষ থাকাকালে ২০১৬ সালে তিনি প্রথম গোগ্রাম ইউপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এরপর ২০২১ সালে দ্বিতীয়বার ইউপি চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি। সম্প্রতি তাকে প্রেমতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মজিবর রহমান গোগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দলের উপজেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও তিনি। কলেজ-পরিষদ ছেড়ে অনেক সময় তিনি রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ব্যস্ত থাকেন। ফলে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগের শিকার হন। আবার কলেজ শেষ করে অধ্যক্ষ মজিবর রহমান রাজশাহী নগরীর রানীবাজারের বাড়িতে ফিরে আসেন। ফলে ইউনিয়ন এলাকার গ্রামের মানুষ কোন প্রয়োজনে তাঁকে খুঁজে পান না।

গত ১৫ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। এতে ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে সরকার নির্ধারিত সময়ে অফিসে অবস্থান করে বিধিবদ্ধ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মজিবর রহমান ইউপি কার্যালয়ে থাকেন না বলে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী ব্যক্তি রাজশাহীর জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। জেলা প্রশাসক এরপর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছ থেকে একটি প্রতিবেদন নিয়েছেন। পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য এই প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

গোগ্রাম ইউনিয়নের ফরাদপুর গ্রামের বাসিন্দা তসিকুল ইসলাম বলেন, ‘তাঁর স্ত্রী আসমা বেগমের জাতীয় পরিচয়পত্রে বাবার নাম ভুল আছে। এটি ঠিক করতে হলে আগে ইউনিয়ন পরিষদে জন্ম নিবন্ধন ঠিক করতে হবে। এই কাজের জন্য ১০-১২ দিন ঘুরেও চেয়ারম্যানের দেখা পাইনি। তিনি ব্যবসায়িক মানুষ, কাজের ওপর থাকেন। কতদিন যাওয়া যায়? ঘুরে ঘুরেও চেয়ারম্যানের দেখা না পেয়ে হাল ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি । চেয়ারম্যানকে যেহেতু পাওয়াই যায়না, এ নিয়ে যাহ হবার যা হবার হবে।’

বড়শিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আবু বাক্কার বলেন, ‘বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদে যাতায়াত করতে ২০০ টাকা খরচা হয়। কোন কাজের জন্য গেলেই দেখি চেয়ারম্যান নাই। চেয়ারম্যানের দালাল ছাড়া আছে। তারা টাকা নিয়ে কাজ করে। কিন্তু কিছু কিছু সময় তো চেয়ারম্যানকেই দরকার। সেই সময়টা আমরা তাকে পাই না। একটা লোক দলের সভাপতি, কলেজের প্রিন্সিপাল আবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। কোনদিক করবে? আমরা খুব দুর্ভোগে।’

একই কথা বললেন ধাৎমা গ্রামের বাসিন্দা সেলিম মুলু। তিনি বলেন, ‘শুনি যে চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্মানী নেন আবার অধ্যক্ষ হিসেবেও বেতন-ভাতা নেন। কিন্তু তিনি কোন কাজই ঠিকভাবে করেন না। ২০১৬ সালে যখন প্রথমবার চেয়ারম্যান হন, তখনও দুই জায়গা থেকেই বেতন-ভাতা তুলেছেন। কিন্তু মানুষকে সেবা দেননি। এভাবে তো চলতে পারে না।’

মজিবর রহমান যে একইসঙ্গে চেয়ারম্যান ও অধ্যক্ষ হিসেবে বেতনভাতা নেন তার প্রমাণ পাওয়া গেছে কাগজপত্রে। গত ৮ এপ্রিল ইউএনও আতিকুল ইসলাম উপজেলার সব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সম্মানী ভাতার চেক ছাড় করেন। ঐ চিঠিতে গোগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের জন্য ১ লাখ ২১ হাজার ৫০০ টাকার চেক ছাড় করা হয়। আবার প্রেমতলী ডিগ্রী কলেজের গত মে মাসের মান্থলি পে অর্ডারে (এমপিও) অধ্যক্ষ হিসেবে মজিবর রহমানের ব্যাংক হিসাবে বেতন-ভাতা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। অধ্যক্ষ ও ইউপি চেয়ারম্যান মজিবর রহমান নিজেও দুই জায়গা থেকে বেতন-ভাতা গ্রহণের কথা স্বীকার করেছেন।

মজিবর রহমান বলেন, ‘কলেজ থেকে আমি বেতন-ভাতা নিই। আর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সম্মানী নিই। সেটা নেওয়া যায়। প্রথমবার আমি যখন চেয়ারম্যান ছিলাম, তখনও নিয়েছি। কোন সমস্যা হয়নি।’ পরিষদে না থাকার কারণে নাগরিক দুর্ভোগ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকালে আমি কলেজে যাই। কলেজ সেরে বিকালে পরিষদে আসি। গ্রামের মানুষ দুপুরের পর থেকেই পরিষদে আসে। কারও কোন হয়রানি হয় না। তারপরও সরকার একটা পরিপত্র দিয়েছে যে, পুরোটা সময় পরিষদে অফিস করতে হবে। কিন্তু সারাদেশে এ রকম অনেক চেয়ারম্যান আছেন যারা শিক্ষক। তারা এটা পারবেন না। আমাদের বিষয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত দিতে হবে।’

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগ পেয়ে আমরা গোদাগাড়ীর ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন চেয়েছিলাম। তিনি প্রতিবেদন দিয়েছেন। এখন করণীয় নির্ধারণে প্রতিবেদনটি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।’

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের বিভাগীয় পরিচালক ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জী বলেন, বেসরকারী চাকরির বিধিমালায় আছে কেউ একইসঙ্গে দুই জায়গা থেকে বেতন-ভাতা বা সম্মানী নিতে পারবেন না। কেউ এটা নিয়ে থাকলে ফেরত দিতে হবে। মজিবর রহমানের বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। কেউ আমার কাছে লিখিত অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নেব। তাকে যে কোন একটি বেছে নিতে হবে। একইসঙ্গে অধ্যক্ষ ও ইউপি চেয়ারম্যান থাকতে পারবেন না।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin