নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীতে লুট করার উদ্দেশ্যে বাড়িতে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে এক নারীকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও বাড়ি ভাঙচুর, স্বর্ণ ও নগদ টাকা নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করা হয়। থানায় অভিযোগ করা হলে প্রাণনাশের হুমকি পাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার। বুধবার নগরীর অলোকার মোড়ে একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। এর আগে শনিবার রাতে বাড়িতে হামলা চালানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হামলায় আহত ঝর্ণা খাতুন। তিনি বলেন, শনিবার রাতে বাড়িতে লুট করার উদ্দেশ্যে এসেছিল কিছু যুবক। যারা এলাকায় কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত। তারা বাড়িতে প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে। এতে নাকের পাশে কেটে যায়। সেখানে চারটি সেলাই দেওয়া হয়। তাকে আহত করে বাড়িতে থাকা স্বর্ণ ও নগদ অর্থ নিয়ে যায়। যাওয়ার আগে বাড়িতে তারা ব্যাপক ভাঙ্গচুর চালিয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের কাছে অস্ত্র থাকায় প্রতিবেশীরা এগিয়ে আসতে পারেনি। তার স্বামীকে মোবাইলে কল দিয়ে ডাকলে তারা বাড়িতে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। পরে অন্যদের সহযোগিতায় তাকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করে। ঐ রাতে হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে চেলে ছেলে বিজয় ও ছোটভাই সামসের এর উপরে হামলা চালিয়ে আহত করে। তাদেরও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী এই নারী বলেন, এ ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনার তিনদিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। যারা হামলা চালিয়ে তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। অভিযোগ না তুললে তার পরিবারের সবাইকে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়। হুমকি পাওয়ার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তারা। তারা সবসময় বাড়ির চারিদিকে ঘোরাফেরা করছে ও পরিবারের সদস্যদের লক্ষ্য রাখছে। এসময় ঝর্ণা খাতুনের স্বামী সাইফুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম বলেন, ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে তা তদন্ত করতে দেওয়া হয়েছে। যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে তারা সব পালিয়ে বেড়াচ্ছে। তাই কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার বিষয়টি তাদের জানায়নি।