নিজস্ব প্রতিবেদক: মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, উন্নয়নের রুপকার, বাংলার রাখাল রাজা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) এর ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব), রাজশাহী জেলা শাখার আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১২টার থেকে দুপুর ১:৩০টা পর্যন্ত রাজশাহী মেডিকেল কলেজের আমির উদ্দিন লেকচার গ্যালারিতে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ড্যাব, রাজশাহী জেলা শাখার সভাপতি ডা. ওয়াসিম হোসেন এর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খন্দকার ফয়সল আলম, ড্যাব রাজশাহী জেলা শাখার সদস্য সচিব ও ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ রাজশাহী সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. এ.কে.এম. গোলাম কিবরিয়া ডন, কমিউনিটি মেডিসিন ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিএমএ, রাজশাহীর সহযোগী অধ্যাপক, মোফাক্কুর ইসলাম (অবঃ), রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি নূর ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক রীমন আলীসহ ড্যাব এর অন্যান্য সদস্য এবং ডাক্তারগণ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ মেজর জিয়াউর রহমানের বর্নাঢ্য জীবনের উপরে আলোচনা করতে যেয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান ১৯৩৬ সালের ১৯ জানুয়ারি তারিখে ব্রিটিশ বেঙ্গলের বগুড়া জেলার নশিপুর ইউনিয়নের বাগবাড়ী গ্রামের মণ্ডল বাড়ীতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মনসুর রহমান এবং মাতার নাম ছিল জাহানারা খাতুন ওরফে রানী। পাঁচ ভাইদের মধ্যে জিয়াউর রহমান ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর পিতা কলকাতা শহরে এক সরকারি দপ্তরে রসায়নবিদ রূপে কর্মরত ছিলেন। তার ডাক নাম ছিলো কমল।
জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, প্রাক্তন সেনাপ্রধান এবং একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তান সামরিক বাহিনী বাঙালি জনগণের উপর আক্রমণ করার পর তিনি তার পাকিস্তানি অধিনায়ককে বন্দি করে বিদ্রোহ করেন এবং সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। পরে ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ তিনি চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাঁকে বীর উত্তম উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ সালের ২১শে এপ্রিল বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী থেকে ১৯৭৮ সালে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে অবসর গ্রহণ করেন। ১৯৭৮ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি চার বছর বাংলাদেশ শাসন করার পর ১৯৮১ সালের ৩০শে মে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে নির্মমভাবে শহীদ হন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসামান্য অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। দেশ গঠনে তাঁর প্রবর্তিত বহুদলীয় গণতন্ত্র আজ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে দেশ একটি স্বনির্ভর ও আধুনিক রাষ্ট্রে রূপ নিতে শুরু করেছিল। সভা শেষে শহীদ জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া পরিচালনা করা হয় এবং কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়।