নিজস্ব প্রতিবেদক: জাল সনদধারী ও মামলার আসামী নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক আব্দুর রব এখনো বহাল তবিয়্যতে অত্র কলেজে চাকরী করছেন বলে জানা গেছে। এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অত্র কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রভাষক রফিকুল ইসলাম দুলাল মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান বরাবরে একটি আবেদন করলেও অদ্যবধি কোন প্রকার তদন্ত হয়নি।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন নওহাটা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে আব্দুর রব (বাবু) গত ০৮-০১-২০১৫ ইং তারিখে যোগদান করে (২য় বার যোগদান)। যোগদানের সময় সরকার ও আদালত কর্তৃক অবৈধ দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সনদ সংগ্রহ করে কলেজে দাখিল করে। এমপিও ভুক্তির জন্য আওয়ামী লীগের এম পি, মন্ত্রী, নেতা-কর্মীর মাধ্যমে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হনন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০১৮ সালের ৮ আগষ্ট তারিখে কলেজটি সরকারি হওয়ার পর নতুন ভাবে ফাজিল ও কামিল এর সার্টিফিকেট ক্রয় করে সরকারি করনের চেষ্টা করেও ব্যার্থ হন। গত বছরের ৫ আগষ্ট এর পর শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ও মাউশির একজন কর্ম-কর্তা ও কর্ম-চারীর মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে ফাইলটি পাশ করানো হয়। ফাইলটি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে আছে। তার শিক্ষা গত যোগ্যতায় দাখিলে জিপিএ-৩.১৭, ফাজিলে ১.৯২।
তিনি আরো উল্লেখ করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী অনার্সে ভর্তির কোন যোগ্যতা তার নাই। কিভাবে তিনি ঐ পয়েন্ট নিয়ে অনার্স এ ভর্তি হন ও কিভাবে অনার্স পাশ করে ও শিক্ষক হিসেবে নিয়গ লাভ করেন। শুধু তাইনয় তিনি অত্র কলেজে প্রভাষক হিসেবে কলেজে যোগদান করার পরেও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ রাজশাহী জেলা শাখার ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও কলেজে অধ্যক্ষকে অস্ত্রের হুমকি দেওয়ার কারনে তাকে একবার শোকজ করা হয়েছিলো।
গত ১০-০২-২০২৫ ইং তারিখে ডেভিল হান্টের আওতায় যৌথ বাহিনী কর্তৃক গ্রেফতার হয়ে ৪০ দিন জেল-হাজতে তিনি ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে মাদক ব্যবসা করার কারনে দুই বার জেল হাজতে ছিলেন তিনি। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে মারামারি করে ৫ দিন হাসপাতালেও ছিলেন। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহন না করে বরং তাকে জামিনের জন্য প্রত্যয়ন দিয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলার মোহনপুর থানায় ৫ টি মামলা চলমান রয়েছে। এ বিষয় নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা কলেজের অধ্যক্ষকে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক বরাবরে আবেদন করেও এ পর্যন্ত কেউ কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন করেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রফিকুল ইসলাম দুলাল আরো বলেন, তার সনদ জাল তার সকল প্রমান রয়েছে। এছাড়াও ঐ সকল প্রমাণাদি আবেদনের সাথে যুক্ত করা হলেও কোন কারনে কেউ ব্যবস্থা নিচ্ছেন না, তা তার বোধগম্য নয় বলে উল্লেখ করে দ্রুত তদন্ত করে রবকে বরখাস্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবী জানান তিনি।
এ বিষয়ে সোমবার দুপুরের দিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর মোহা. আছাদুজ্জামান এর সাথে সরাসরি কথা বললে তিনি বলেন, এ বিষয় নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। দ্রুত তদন্ত কমিটি তদন্ত করে প্রতিবেদন করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সুপারিশ করা হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।