সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৫৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

ট্র্যাঙ্কলরির ইঞ্জিনের আয়ুস্কাল যদি আজীবন হয়, তাহলে বাস-ট্রাকের কি দোষ: দুধু

  • প্রকাশ সময় সোমবার, ৭ জুলাই, ২০২৫
  • ২৩৯ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেদেশর পরবর্তিত পরিস্থিতিতে গণপরিবহনগুলো বিভাগের সকল জেলায় সুষ্ঠুভাবে চলাচলওে জন্য উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতি’র জরুরী সভা সোমবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২৩০টা পর্যন্ত রাজশাহী মহানগরীর গ্রেটার রোডস্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশন ঢাকার সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুধু। প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বলেন, যানবাহন রাস্তায় চললে কোননা কোনভাবেই দূর্ঘটনা হবেই। এরজন্য একক পক্ষ কখনোই দায়ী হয়না। সেই দূর্ঘটনায় একমাত্র দোষি বাস-ট্রাক চালক ও মালিক। তাদের কোন জামিন দেয়া হবেনা মর্মে আইন করা হয়েছে। এই কালো তিনি প্রত্যাক্ষান করেন।

তিনি আরো বলেন, আদালতে জামিন না মঞ্জুর এবং দশ হাজার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিনা করার তিনি প্রতিবাদ করেছিলেন। পতিত সরকারের সাবেক সড়ক ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের একটি সভা করে তার প্রেস সচিব দিয়ে এই ঘোষনা দেয়ার সাথে সাথে তিনি প্রতিবাদ করেন। কিন্তু পতিত সরকারের আমলে আগে থেকে মালিক ও শ্রমিক নেতারা এই কালো আইনে স্বাক্ষর করায় সে সময়ে কিছু করা সম্ভব হয়েছিলো না। নির্বাচিত সরকার আসলে এই আইন বাতিল করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ নিয়ে জরিমানা সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা করার জন্য বিআরটিসহ সড়ক সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা আছে বলে জানান তিনি।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, বাস-ট্রাক এর সাথে সরকারের সব থেকে বৈষম্য বেশী। কারন বিশ বছওে যেমন বাসের কিছু হয়না, তেমনি পঁচিশ বছওে ট্রাক এর কিছু হয়না। কারন এগুলো লোহার জিনিস। মরিচা ধরুক আর ক্ষয় হোক পরিবর্তন করলেই আবার নতুন হয়। তেমনি পার্স নষ্ট হলে নতুন করে লাগালেই আবার ইঞ্জিন নতুন হয়। এর পরেও যদি বাস এবং ট্রাক আনফিট করে রাস্তা থেকে ক্লোজ করা হয় তাহলে সরকারকে একটি ডেমারেজ মূল্য দিতে হবে। সেইসাথে নতুন করে বাস-ট্রাক ক্রয় করতে একেবারেই স্বল্প সুদে কোন প্রকার মরগেজ ছাড়া ঋন দেয়ার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ট্র্যাংঙ্কলরি রেলওয়ে ইঞ্জিনের যদি আয়ুস্কাল আজীবন হয়, তাহলে বাস ট্রাক এর অপরাধ কোথায় উল্লেখ করে তিনি বলেন যানবাহনের জন্য কোন প্রকার বীমা তারা করবেন না। কারন বীমার টাকা পাইতে পাইতে গাড়ী আবার বিশে পা দিয়ে দেবে। এর উদাহরণস্বরুপ তিনি বলেন, তিনি নিজে একটি বীমার টাকা পেয়েছেন ছয় বছর পরে। তিনি দাবী আদায়ে সবাইকে একতাবদ্ধভাবে কাজ করা এবং আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে থাকার আহ্বান জানান। সেইসাথে তারা যে দাবী জানিয় সরকারের নিকট আবেদন করেছেন তা না মানলে আগামীতে আরো কঠোর আন্দোলন গেড়ে তোলা হবে বলে জানান তিনি। বক্তব্য শেষে উত্তরবঙ্গ সড়ক পরিবহন সমিতি’র ৩১ সদস্য বিশিষ্ট নয়া কমিটির গঠন করে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর নাম ঘোষনা করলেও সামান্য জটিলতার কারনে সভাপতি নাম এক সপ্তাহ পরে জানানোর কথা বলে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নজরুল ইসলাম হেলাল এর নাম ঘোষনা করা হয়।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ এর আয়োজনে সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপ সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশষ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি, ঢাকার কোষাধ্যক্ষ খোকন মিয়া ও বাজশাহী জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি রুকুনুজ্জামান আলম। এছাড়াও সভায় রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের ষোলটি জেলার মধ্যে সিরাজগঞ্জ জেলা বাদে পনেরটি জেলার বাস-ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও বাস-ট্রাক এর মালিকগণ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ২০১৮ সালে পতিত সরকার ঘোষিত কালো আইন বাতিলের দাবী জানান। এই আইনে বাস এর মেয়াদ বিশ বছর এবং ট্রাক এর মেয়াদ পঁচিশ বছর হলেই তা ফিটনেসহীন দেখিয়ে রাস্তা থেকে তুলে দেয়ার কথা বলা হয়। তারা বলেন, সরকারকে তারা প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করেন। এছাড়াও এই সেক্টরে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক কাজ করেন। তারা এখান থেকে পরিবারের ব্যায় মেটান। এরপরেও এই সেক্টরের কোন মূল্য নেই। সবাই নেতিবাচক হিসেবে দেখে। মানুষ থেকে পন্য পরিবহন করে তারা দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তারা। তারা আরো বলেন, রাস্তায় চলতে গেলে নানা কারনে দূর্ঘটনা ঘটে। এই দূর্ঘটনা শুধু বাস-ট্রাক ড্রাইভারদের কারনেই ঘনেটা। পথচারী ও অনান্য যানবাহনের কারন এবং রাস্তা খারাপ হওয়ার ফলে এই দূর্ঘটনা ঘটে।

তারা বলেন, ইচ্ছা করে কোন ড্রাইবার মালিকের বাস-ট্রাক দূর্ঘটনার কবলে ফেলেনা। দূর্ঘটনা হলেই ঘাতক বলে আখ্যায়িত করা হয় এবং বাস-ট্রাক আটক করে থানায় নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়। দিনের পর দিন আইনী জটিলতায় থানার সামনে অযন্তে অবহেলার সেগুলো পরে থেকে নষ্ট হয়। তাদের লক্ষ লক্ষ টাকার বাস-ট্রাক এভাবে আর ফেলে রাখবে না। তারা এক থেকে তিন দিনের মধ্যে সকল আইনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মালিক এর নিকট যানবাহন তুলে দেয়ার দাবী জানান।

বক্তারা আরো বলেন, একটি বাস কিংবা ট্রাক দূর্ঘটনায় পতিত হলে পূর্বে দশ হাজার টাকা ক্ষতিপুরন দেয়ার নিয়ম ছিলো। কিন্তু পতিত সরকারের আমলে তা বাড়িয়ে পাঁচ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। এটা সম্পুর্নভাবে বে-আইনী ও বাস-ট্রাক সেক্টরকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা মাত্র জানিয়ে তারা পাঁচ লক্ষ টাকা তারা জরিমানা দেবেননা বলে সাফ জানিয়ে দেন। সেইসাথে মহাসড়ক হতে লসিমন, করিমন, থ্রি-হুইলার, অটোরিক্সা ও অটো চলাচল নিষিদ্ধ করার দাবী জানান। দাবী না মানলে তারা রাস্তার নেমে আন্দোলন করার হুমকীদেন।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin