নিজস্ব প্রতিবেদক: ওয়েস্ট-১ ডিভিশনের রাজশাহীতে বেসরকারী উন্নয়ন সংস্থা ‘ব্র্যাক’ মাইক্রোফাইন্যান্স (দাবি) কর্মসূচির আওতাধীন দরিদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের মৎস্য চাষীর মাঝে পোনা মাছ বিতরণ করা হয়। ‘ফিশ ফার্মিং প্রকল্প’র উদ্যোগে রাজশাহী-১ ২ ও ৩ এবং নওগাঁ-৩ অঞ্চলের মোট ২২৬ জন মৎস্য চাষীদের মধ্যে প্রত্যেককে বিনামূল্যে ‘এক হাজার’ পিস করে দুই লাখ ২৬ হাজার পিস গুণগতমান সম্পন্ন তেলাপিয়া মাছের পোনা বিতরণ করা হয়। মাছের পোনা পেয়ে উপকারভোগী মৎস্য চাষী সদস্যরা ব্র্যাকের এধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
বুধবার সকালে পবা উপজেলার রামচন্দ্রপুর হাট শাখা অফিস সহ ওয়েস্ট- ১ ডিভিশনের রাজশাহী জেলার চারটি উপজেলার ১৬টি শাখার ১৪০ জন মাছ চাষীকে এক লাখ চল্লিশ হাজার পিস এবং নওগাঁ জেলার দুটি উপজেলার ১০টি শাখার ৮৬ জন মাছ চাষীকে ৮৬ হাজার পিস তেলাপিয়া মাছের পোনা প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী-১ অঞ্চলের ৩টি শাখায় ২৪ জন, রাজশাহী-২ অঞ্চলের ৫টি শাখায় ৪৬ জন ও রাজশাহী-৩ অঞ্চলের ৮টি শাখায় ৭০ জন এবং নওগাঁ-৩ অঞ্চলের ১০টি শাখায় ৮৬ জন মৎস্য চাষী। পর্যায়ক্রমে রাজশাহী, নওগাঁ ও নাটোর জেলার আরো মোট ৫০০ জন মাছ চাষীর মাঝে ৫ লাখ পিস তেলাপিয়া মাছের পোনা বিতরণ করা হবে।
পোনা মাছ বিতরণ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স কর্মসূচির রাজশাহী ১ অঞ্চলের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক আব্দুল মতিন খান। এসময় তিনি বলেন, ‘দরিদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের উপকারভোগী মৎস্য চাষী সদস্যদের আয়বৃদ্ধিমুলক কাজে উৎসাহিত করার জন্য এ উদ্যোগ। ব্র্যাক শুধু ঋণ কার্যক্রম করে থাকে না, পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন উন্নয়নমুলক কাজে সহযোগিতা করে থাকে। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স একটি টেকসই, লাভজনক এবং পরিবেশবান্ধব মৎস্য খাত গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে যার প্রভাব পড়ছে চাষীদের জীবনযাত্রা ও আঞ্চলিক অর্থনীতিতে।’
ফিশ ফার্মিং প্রকল্পের ডিভিশনাল সেক্টর স্পেশালিস্ট আশরাফুল আলম বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে মৎস্য খাতকে আরো উৎপাদনশীল, টেকসই ও লাভজনক করে তোলা সম্ভব। ফিশ ফার্মিং প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা শুধু মাছ নয়, আত্মবিশ্বাস, দক্ষতা ও আত্মনির্ভরশীলতার বীজ বুনে চলেছি একটি সমৃদ্ধ কৃষিনির্ভর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে।’
শস্য বীমা ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর রবিউল আউয়াল বলেন, ‘কৃষির বিকাশ ও টেকসই মৎস্য চাষের মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে চাষীদের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও পুষ্টি ঘাটতি মোকাবেলায় এ ধরনের কার্যক্রম সহায়ক হবে। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্রাঞ্চ ম্যানেজার নাসরিন সুলতানা সহ উপকারভোগী সদস্য এবং ব্র্যাকের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ।