সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

রাজশাহী জনস্বাস্থ্যের প্রকৌশলী মি. ওয়ান পার্সেন্ট হারুনের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়

  • প্রকাশ সময় সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ২৪০ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনস্বাস্থ্য বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মসহ রাজশাহী জনস্বাস্থ্য বিভাগকে জিম্মি করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে জমেছে অভিযোগের পাহাড়। এরপরও ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের দোসর এই প্রকৌশলীর দাপট একটুও কমেনি। এনিয়ে বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ফরহাদ হোসেন নামের একজন ঠিকাদার স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে রাজশাহী জনস্বাস্থ্যের নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী লীগের একজন সুবিধাভোগী দোসর। গোপনে দরপত্রের রেট ফাঁস করে এখনো আওয়ামী লীগের ঠিকাদারদের কাজ দিচ্ছেন এই নির্বাহী প্রকৌশলী। তিনি অফিস সময়কে তোয়াক্কা করেন না। রাতে বাসবভনে বসান দপ্তর। কোনদিন অফিসে আসলে পোষা কুকুর নিয়ে আসেন। কুকুরের ভয়ে তটস্থ থাকেন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা। তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে উপদেষ্টা বরাবর দেওয়া অভিযোগে।

অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ প্রায়ই অফিস করেন না। অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারিদের ডেকে নিয়ে সন্ধ্যার পর বাসভবনে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন। বাধ্য হয়ে অধস্তনরা নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনে গভীর রাত অবধি কাজ করেন। এছাড়াও তিনি ঠিকাদারদের বিল আটকে অনৈতিক সুবিধা আদায় করেন। গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগ নেতা কামাল হোসেনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সম্প্রতি আরও ১১ কোটি টাকার কাজ দিয়েছেন বলে ঐ অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু তাইনয় নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ ফ্যাসিষ্ট সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের একনিষ্ঠ সমর্থক ও সুবিধাভোগী। গত বছর আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তিনি দাপটের সঙ্গে স্বেচ্ছাচারিতা অব্যাহত রেখেছেন। হারুন অর রশিদ ২০২২ সালের আগস্টে রাজশাহী জনস্বাস্থ্য বিভাগে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে যোগদান করেন। গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কোন কাজ আওয়ামী লীগপন্থি ঠিকাদার ছাড়া কাউকে দেননি। আওয়ামী লীগ সরকার চলে গেলেও তার স্বেচ্ছাচারিতা একটুও কমেনি।

তিনি বৃহস্পতিবার অফিস শেষ না করেই গ্রামের বাড়ি পাবনায় রওনা করেন। তিনদিন বাড়িতে কাটিয়ে সোমবার বিকেলে ফেরেন রাজশাহীতে। সঙ্গে নিয়ে যান সরকারি গাড়ি। সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত অফিস হলেও নির্বাহী প্রকৌশলী ইচ্ছেমতো বিকেল তিনটার পর অফিসে আসেন। বিকেলে ঠিকাদার ও সেবাগ্রহীতারা অফিসে ভিড় করলেও তিনি অফিসে কোন ফাইল দেখেন না। এক দেড় ঘন্টা পর বাসায় চলে যান।

উপদেষ্টাকে দেওয়া অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে নির্বাহী প্রকৌশলী জনস্বাস্থ্য কম্পাউন্ডে সরকারি বাসার শয়ন কক্ষে পিকনিক মুডে রাতে শুরু করেন দাপ্তরিক কাজ। অফিসের হিসাব রক্ষক শফিকুল ইসলাম ও কম্পিউটার অপারেটর সিরাজুল ইসলাম এবং এষ্টিমেটর উম্মে সালমা নির্বাহী প্রকৌশলীর শয়ন কক্ষের দপ্তরে কাজ করেন গভীর রাত পর্যন্ত। অধস্তনরা সকাল সাড়ে ৯টায় অফিসে হাজির হন। সারাদিন অফিস করে রাতে আবার নির্বাহী প্রকৌশলীর বাসভবনে অফিস করেন। চাকরি রক্ষায় তারা নীরবে এসব স্বেচ্ছাচারিতা সহ্য করতে বাধ্য হন।

এমনকী নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনের পাবনার বাড়িতে গিয়েও ফাইল পত্র স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হয় কর্মচারিদের। জনস্বাস্থ্যের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তাকে একাধিকবার অফিস সময়ে অফিসে থাকার জন্য চিঠি দিলেও তাতে কর্ণপাত করেননি তিনি। তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নির্বাহী প্রকৌশরী হারুনের বিরুদ্ধে একাধিকবার প্রধান কার্যালয়ে রিপোর্ট করেন। কিন্তু তাতেও কোন কাজ হয়নি।

অভিযোগনামা থেকে আরও জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ কট্টর আওয়ামী ভাবাপন্ন কর্মকর্তা। গত ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকীতে এক বন্ধুর পোষ্টে তিনি তার ভেরিভাইড ফেসবুক আইডি থেকে লেখেন ‘ গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি’। এ নিয়ে কর্মকর্তা কর্মচারিদের মাঝে কানাঘুষা হলেও তিনি কোন তোয়াক্কা করেননি। এদিকে নির্বাহী প্রকৌশলীর বন্ধু সাদের ফেসবুক আইডি খুঁজে দেখা গেছে, তিনি আওয়ামী লীগের কট্রর সমর্থক এবং নির্বাহী প্রকৌশলীর নিকটাত্মীয়।

জানা গেছে, নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নিজের লোকজনকে কাজ দিয়ে অঢেল অর্থ হাতিয়েছেন। বর্তমানেও সে ধারা অব্যাহত রয়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে আওয়ামীপন্থি ঠিকাদারকে কাজ দিচ্ছেন।

অন্যদিকে কামালের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়ার মাধ্যমে সরকারি নির্দেশনা লঙ্ঘন করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসকল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের পূর্ববর্তী কাজ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতে পারে নি, ওই সকল ঠিকাদারকে নতুন করে কাজ দেয়া যাবে না। কিন্তু নির্বাহী প্রকৌশলী সেই নির্দেশনা অমান্য করে একই ঠিকাদারকে আবারও কাজ দিয়েছেন। জেলার গোদাগাড়ী উপজেলায় ২০২২ সালের ১৮ কোটি টাকার প্ল্যানটেশনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। নির্বাহী প্রকৌশলীর সাথে সখ্যতা থাকায় ২০২২ সালের কাজ নানা অজুহাতে ২০২৫ সালে শুরু করেন। এছাড়া জেলার নয়টি উপজেলায় এখনও ৪০ শতাংশ কাজ অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এর ফলে বাড়ছে জনভোগান্তি। অভিযোগ রয়েছে আওয়ামী লীগ নেতা কামালের অন্যতম ব্যবসায়িক পার্টনার নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন।

নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশিদ দীর্ঘ সময় বিল আটকিয়ে ঠিকাদারদের হয়রানি করেন। এরপর তিনি ঠিকাদারদের চেক দেয়ার সময় বিলের এক শতাংশ উৎকোচ দিতে বাধ্য করান। একারণে তিনি ইতোমধ্যে মিস্টার ওয়ান পার্সেন্ট হিসেবে পরিচিতি পেয়ছেন। এ অনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি বছরে কোটি টাকার ওপর হাতিয়ে নেন। ঠিকাদারদের সময়মত বিল আটকানো ছাড়াও তিনি জামানতের টাকা ফেরত দিতে নানা কৌশলের আশ্রয় নেন।

এরপর টাকা ছাড়ের জন্য মোটা অঙ্কের অনৈতিক সুবিধা নেন। আর নির্বাহী প্রকৌশলীর নানা অপকর্মের মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া মোটা অঙ্কের অবৈধ টাকা এস্টিমেটর সালমার স্বামী মামুনের অ্যাকাউন্টে জমা হয়। মামুন রাজশাহী মহানগরীর উপকণ্ঠ গুড়িপাড়া চালনা সাকো এলাকার বাসিন্দা। স্থানীয় হওয়ার কারণে মামুন তার অ্যাকাউন্টে অবৈধ টাকার লেনদেন করতে তোয়াক্কা করেন না। সুষ্ঠু তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে এবং বিষয়টির যথার্থতা পাওয়া যাবে।

Rajshahi Engineer- Health Complain

অভিযোগের বিষয়ে হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি নিয়মিত অফিস করেন। শারীরিক সমস্যার কারণে অফিসে যেতে কিছুটা দেরি হয়। আর একারণে কিছু সময় সরকারি কোয়ার্টারে দাপ্তরিক কিছু কাজ করতে হয়। গোপন রেট জানানোর অভিযোগও ভিত্তিহীন বলে দাবী করেন তিনি। ঠিকাদারদের বিল বা জামানত আটকিয়ে টাকা আদাায়ের অভিযোগ ঠিক নয়। যেসব ঠিকাদার কাজ পান না, তারাই এ ধরনের অপপ্রচার করছেন। তার রাজশাহীতে তিন বছর হয়েছে, নিজেই এ অফিস থেকে বদলির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

তবে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর রাজশাহী সার্কেলের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ বলেন, তিনি রংপুর সার্কেলের দায়িত্বে আছেন। রাজশাহীতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। নির্বাহী প্রকৌশলী হারুনের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসায় তিনিও বিব্রত। তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও ফোন ধরেন না। অফিসেও সময়ত উপস্থিত হন না। তাকে রাজশাহী থেকে অন্যত্র বদলির জন্য উর্ধ্বতন কর্তপক্ষের নিকট অনুরোধ করেছেন তিনি। তাকে বদলি করার প্রস্তাব প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin