নিজস্ব প্রতিবেদক: পবার হড়গ্রাম ইউনিয়নের আদাড়িয়াপাড়া জামে মসজিদের স্থায়ী সম্পত্তি জনগণের মতামত না নিয়ে একক সিদ্ধান্তে ক্রয় ও বিক্রয় এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার করার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এলাকাবাসরি আয়োজনে আদাড়িয়াপাড়া গ্রামে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আদাড়িয়াপাড়া মসজিদ কমিটির সদস্য তসলিম উদ্দিন।
তিনি উল্লেখ করেন অত্র গ্রামের জামে মসজিদ এর জন্য মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও জামায়াত নেতা অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ অত্র গ্রামের জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করে একক সিদ্ধান্তে মসজিদের স্থায়ী সম্পত্তি বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে গোপনে রেজুলেশন করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কমিটির সদস্যদের স্বাক্ষর গ্রহন করেন। যাহা সম্পুর্ন বে-আইনী ও ফৌজদারী মামলার সামিল।
তিনি আরো উল্লেখ করেন আবুল কালাম আজাদ দুই কাঠা জমি বিক্রির নামে এক বিঘা জমি বিক্রির পাঁয়তারা করেছিলেন। এ নিয়ে তিনি একটি রেজুলেশন করেন। এই রেজুলেশন সম্পর্কে কোন সদস্য জানতেন না। এমনকি ঐ রেজুলেশনে কোন তারিখ উল্লেখ করা নাই। তিনি রেজুলেশন করে এলাকার একজন গ্রহনযোগ্য ব্যক্তিকে দিয়ে অনেক সদস্যর নিকট হতে ভূল বুঝিয়ে স্বাক্ষর নেন। কিন্তু তিনিসহ আরো কয়েকজন রেজুলেশনটি পড়তে গিয়ে দেখেন রেজুলেশনে দুই কাঠা জমির জায়গায় এক বিঘা জমি বিক্রির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটা দেখে তারা আর ঐ রেজুলেশনে আর স্বাক্ষর করেন তিনি। এনিয়ে মসজিদের মুসল্লিদের জানালে তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো উল্লেখ করেন প্রকৃত ঘটনা হলো আব্দুল মালেক এর নিকট হতে মসজিদের জন্য দুই কাঠা জমি নেয়া হয়। বিনিময়ে তাকেও দুইকাঠা জমি মৌখিকভাবে প্রদান করা হয়। ঐ জমিটা হলো অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ এর বাড়ির নিকটে। এখানে কোন প্রকার জমি ক্রয় ও বিক্রয় করা সিদ্ধান্ত হয়নি। জমিটি দুইটি বিনিময় করা হয়েছে মাত্র। কিন্তু আবুল কালাম আজাদ এই সুযোগে এক বিঘা জমি বিক্রির ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলে জানান তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন কোন প্রতিষ্ঠানের স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয় বা বিক্রয় করতে হলে কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা অন্তে সাধারণ সভা আহ্বান করে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে হয়। মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক তিনি একক সিদ্ধান্তে ক্রয়-বিক্রয়ের সিদ্ধান্তের কারনে সাধারণ মুসল্লীদের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে সাধারণ জনগণকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে দলীয় ত´া লাগিয়ে তাদের বিরুদ্ধে আইনের ভয় দেখিয়ে উল্টো নিজেই সংবাদ সম্মেলন করেন।
তিনি সংবাদ সম্মেলনে যেসব তথ্য উপস্থাপন করেছেন তা সম্পুর্ন মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত। তারা বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনাটি উন্মোচন করার জন্য সাংবাদিকদে অনুরোধ করেন। তারা আরো বলেন, সকল ধর্মের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ না করি। সেইসাথে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সমুহকে ব্যক্তিগত সার্থে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ সময়ে আরো উপস্থিত ছিলেন আদাড়িয়াপাড়া মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি আসগর আলী, সদস্য মাইনুল হক, রাজু ও আসাদুল ইসলাম, এলাকাবাসী আরফান আলী, আবুশামা, নাজিম উদ্দিন, রেজাউল করিম হাফিজ, খলিল উদ্দীন, আব্দুস সাত্তার, রিয়াজুল ইসলাম ও সোহেল রানাসহ শতাধিক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।