নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবায় এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি পালিত হয়। সরকারের আশ্বাস বাস্তবায়ন না হওয়া এবং রাজধানীতে আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এই কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালন করেছেন রাজশাহীর পবা উপজেলার ডাঙ্গেরহাট মহিলা কলেজের শিক্ষকবৃন্দ।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় ডাঙ্গেরহাট মহিলা কলেজ হলরুমে কর্মবিরতি পালনের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন অত্র কলেজের অধ্যক্ষ আসলাম আলি। এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রভাষক আজিজা গুলশান, আলিফ লাম মিম ইয়াসমিন, রাশিদা বেগম, জান্নাতুল ফেরদৌস, আসাদুজ্জামান, এম এ শাহাদাত হোসেনসহ কলেজের শিক্ষক ও কর্মচারীবৃন্দ।
ডাঙ্গেরহাট মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ আসলাম আলি বলেন, কলেজের শিক্ষকরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তবে তারা ক্লাসে যাননি। তিন দফা দাবির পক্ষে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলেও জানান।
শিক্ষক নেতারা অভিযোগ করেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বাড়িভাড়া ও চিকিৎসাভাতা না বাড়ানোয় তারা হতাশ ও ক্ষুব্ধ। তাদের দাবি, গত ১৩ আগস্ট জাতীয় প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত শিক্ষক সমাবেশে শিক্ষা উপদেষ্টা শিক্ষক নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বাড়িভাড়া, চিকিৎসাভাতা এবং কর্মচারীদের উৎসবভাতা উন্নীত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি পূরণের পরিবর্তে গত ৫ অক্টোবর শিক্ষক দিবসে অর্থ মন্ত্রণালয় মাত্র ৫০০ টাকা বাড়িভাড়া বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করে, যা শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে এক প্রকার তামাশা বলে মন্তব্য করেন আন্দোলনকারীরা। তারা জানিয়েছেন, সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলেও তারা ন্যায্য দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য ১২ অক্টোবর রোববার দুপুর পৌনে ২টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থানরত শিক্ষক-কর্মচারীদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে বহু শিক্ষক আহত হন। পরে আন্দোলনকারীরা বিভিন্ন দলে ছড়িয়ে পড়লেও অনেকে আবারও প্রেস ক্লাবের সামনে এবং শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। সেখান থেকেই তারা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।