নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর টুলটুলিপাড়ায় নিজ বাড়ি রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন করেছে সামাদ এর ছেলে আলমগীর নামে একজন ভুক্তভোগি। সোমবার তিনি টুলটুলিপাড়ার একটি ওয়েলডিং কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। তিনি সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন মহানগরীর হড়গ্রাম পূর্বপাড়ায় হড়গ্রাম মৌজায়, যার দাগ নং- ২৪০৫, খতিয়ান নং-২৬৬৮, রকম পুকুর, জে.এল. নং-৫১, জমির পরিমান দেড় কাঠা। তিনি এই জমিটি দীর্ঘ চল্লিশ বছর পূর্বে ক্রয় করেন। কিন্তু পনের বছর পূর্বে তিনি সেখানে একটি দোতলা বাড়ি করে বাবা-মাসহ পরিবারের সকল সদস্যদের নিয়ে বসবাস করছেন।
সম্প্রতি রাজশাহী জেলা দুর্নীতি দমন অফিসার এস, আই হামিদুর রহমান (হামিদ), জেলা- রাজশাহী, জমির দাগ নং-২৪০৫, রকম-পুকুর, মৌজা- হড়গ্রাম, জে,এল নং-৫১ এই দাগে তার বাড়ির সাথে লাগানো তিন কাঠা জমি ক্রয় করেন। এরপর হামিদুর রহমান (হামিদ) বাড়ি করার জন্য সাত তলা প্ল্যান পাস করেছেন। সেইসাথে সেখানে পাইলিং করা শুরু করেছেন। জমির রকম পুকুর। পুকুরে কিভাবে আরডিএ প্ল্যান দেন বলে প্রশ্ন রাখেন তিনি। এই পাইলিং করার কারনে তার বাড়ির দেয়াল ফেটে গেছে। পাইলিং করার পুর্বে তিনি অনেকবার বললেও তাতে কর্ণপাত না করে সাপোর্টিং না দিয়ে পাইলিং করা শুরু করেছেন হামিদ।
তিনি আরো বলেন, বাড়িটি পুরাতন হওয়ার কারণে পাইলিং করার আগে প্রটেকশন দিয়ে মাটি খনন করার কথা বলেন। কিন্তু তা না করে লামসাম করে প্রটেকশন দিয়ে মাটি কাটা ও পাইলিং শুরু করায় তার বাড়িটি দেড় ইঞ্চি করে ফাঁটল ধরেছে। এতে করে যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় আছেন। এ বিষয়ে বলতে গেলে হামিদ তাকে শাসন-গর্জন করে ও ভয়ভীতি দেখায় বলে জানান তিনি। শুধু তাইনয় তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর মামলাও করবে বলে হুমকী দিচ্ছেন হামিদ।
এ নিয়ে তিনি গত বছরের ২৭ নভেম্বর কাশিয়াডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ বরাবরে লিখিত অভিযোগ করলে থানা কর্তৃপক্ষ বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে পাঠান। বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ করার জন্য বলে এবং বিবাদী ১ সপ্তাহ সময় নেয়। কিন্তু বিবাদী ঐ সময়ের মধ্যে ফায়সালা না করে তিনি ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ এর ৩ (খ) ধারা মোতাবেক কারণ দর্শানো নোটিশ এর জন্য রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বরাবর আবেদন করেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তিনি বিভিন্ন সময়ে এর প্রতিকার চেয়ে কাশিয়াডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ, রাজশাহী জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও রাজশাহী প্রশাসক বরাবরে প্রতিকার চেয়ে হামিদ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, বাড়িতে যাওয়ার মত বড় রাস্তা না থাকায় রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমতি নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়াও জমির ধরণ হচ্ছে পুকুর। পুকুরে কখনো রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ প্ল্যান দেবেনা। যদি প্ল্যান আরডিএ দেয় তাহলে তিনিও প্ল্যান নিয়ে পুণরায় বাড়ি করবেন বলে জানান। তিনি বলেন, তিনি মসজিদের মুষ্টি চাল আদায় করেন। সেইসাথে তিনি মাছ বিক্রি জীবিকা নির্বাহ করেন। তিনি একজন গরিব মানুষ, ধীরে ধীরে বাড়িটি তিনি নির্মাণ করেছেন। হামিদ পুকুর ভরাট করে বোরিং করার কারণে তার বাড়িতে ফাঁটল ধরেছে। এই ফাটলের জন্য যেকোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বা প্রাণহানি হতে পারে বলে তিনি জানান। তিনি তার বাড়ির ফাটলের জন্য ক্ষতিপুরন দাবী করেন। সেইসাথে উপযুক্ত বেড়িকেট দিয়ে পাইনিং করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, এনিয়ে দুইবার বসার তারিখ দিয়ে তিনি উপস্থিত হননি।
এ বিষয়ে জানতে রাজশাহী জেলা দুর্নীতি দমন অফিসার এস.আই হামিদুর রহমান (হামিদ) এর নিকট মোবাইল করলে তিনি রিসিভ না করে তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন রিসিভ করেন। এস.আই হামিদুর রহমানকে দিতে বললে তিনি মোবাইল নিয়ে যাওয়ার কথা বলে প্রায় এক মিনিটের বেশী সময় ধরে একই ভাবে থেকে কল কেটে দেন। এজন্য তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে সরেজমিনে ভূক্তভোগির বাড়ি দেখে ফেরার পথে এস.আই হামিদুর রহমান এর স্ত্রী শাহানাজ পারভীন সাংবাদিকদের দেখে একা একাই বলেন, যথাযথ ভাবে প্রটেকশন ওয়াল দেয়া হয়েছে।