সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৬ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

রাজশাহীতে দিনব্যাপি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির ঐতিহ্যবাহী ওয়ানগালা ও লবান উৎসব উদযাপন

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ৮ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীতে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’(নবান্ন) উৎসব উদযাপিত হয়। গারো, সাঁওতাল, পাহাড়িরা, মাহালি, ওঁরাও এই পাঁচ সম্প্রদায় প্রতিবছর তাদের শস্য দেবতা ‘মিসি সালজং’-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে এবং নতুন ফসল খাওয়ার অনুমতি চেয়ে এই উৎসবটি পালন করে আসছেন। এ বছরও শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর বাগানপাড়ায় অবস্থিত উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গীর্জা প্রাঙ্গণে সৃষ্টিকর্তার পূজার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক শুরু হয়। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যেমন ‘আমুয়া’ ও ‘রুগালা’ পালনের পর শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে গারো শিল্পীরা তাদের নিজস্ব ভাষায় গান পরিবেশন করেন, যা উৎসবে উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ আকর্ষণ ছিল গারোদের ঐতিহ্যবাহী ‘জুম নাচ’, যা উৎসবের পরিবেশে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। এরপর সাঁতাল, উরাওসহ অন্যান্য জাতীগোষ্ঠির শিল্পিরাও নাচ গান করে।

উৎসবের আলোচনা পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী কাথলিক ধর্মপ্রদেশের ডিডি বিশপ জের্ভাস রোজারিও। তিনি বলেন,“বাংলাদেশ একটি বহু-জাতি, ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্যময় অসাম্প্রদায়িক দেশ। এই ধরনের উৎসবের মাধ্যমে জাতিগত ঐতিহ্য রক্ষায় আমাদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করা উচিত।” তিনি আরো বলেন,“ঐতিহ্যবাহী উৎসব ওয়ানগালা ও লবান আমাদের একতা এবং সমন্বয়কে প্রতিফলিত করে।”

রাজশাহী অঞ্চলের কারিতাস বাংলাদেশের আঞ্চলিক পরিচালক ড. আরোক টপ্য বলেন, “ওয়ানগালা ও লবান শুধু ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি তাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। এ উৎসব ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কাথলিক ধর্মপ্রদেশের ভিকার জেনারেল ফাদার ফাবিয়ান মারান্ডী, রাজশাহী নানকিং গ্রুপের প্রোপাইটর এহসানুল হুদা, রাজশাহী পার্লার এসোসিয়েশনের সভাপতি মিসেস রুকসানা হুদা এবং উত্তম মেষপালক ক্যাথিড্রাল গীর্জার পালকীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ফ্রান্সিস সরেন। তারা সবাই গারো বরেন্দ্র ভুমির ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির ভাষায়, ‘ওয়ানগালা’ ও ‘লবান’(নবান্ন) উৎসব মূলত শস্য চাষের সাথে সম্পর্কিত একটি উৎসব। নতুন ফসল তোলার পর নকমা (গ্রামপ্রধান) গারো সম্প্রদায়ের সঙ্গে আলোচনা করে উৎসবের তারিখ নির্ধারণ করেন। রাজশাহীতে বসবাসরত গারো ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির অন্যান্য সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে প্রতি বছর নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে এই উৎসবটি উদযাপন করে আসছে। উৎসবের দিন গীর্জার মাঠে শতশত আদিবাসী একত্রিত হন। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির গ্রামে গ্রামে এই উৎসব হয়ে আসছে। এতে তারা একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে এবং নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খেয়ে নতুন ফসলের উদ্বোধন করেন। তারা ধান, আলু, কুমড়া, ঝিঙ্গে, সিম, লাউ, শামুক, কাঁকড়ার মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলোসহ আরো অন্যান্য খাবার প্রদর্শন করে। এই খাবার গুলো উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে।

রাজশাহী ওয়ানগালা ও লবান উৎসব উদযাপন কমিটির নকমা লোটাস চিসিম বলেন, “ওয়ানগালা ও লবান আজ শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার একটি অনবদ্য আন্দোলন। আমরা আমাদের ঐতিহ্যকে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এ উৎসবটি পালন করি।”

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠির ভাষায়, ওয়ানগালা ও লবান উৎসব তাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক। এটি তাদের সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করার পাশাপাশি, জাতিগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মধ্যে একাত্মতার বার্তা দেয়। শহুরে জীবনের কর্মব্যস্ততার মাঝে এই উৎসব তাদের জন্য এক ধরনের আনন্দ এবং মিলনমেলা হয়ে ওঠে। এদিনের উৎসবটি শুধু তাদের জন্যই নয়, এটি বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের এক উদাহরণ হিসেবে অনেকের কাছে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হয়ে উঠেছে বলে তারা মনে করেন।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin