নিজস্ব প্রতিবেদক: শুরু হয়েছে নতুন বছর ২০২৬ সাল। এই সালকে এবার জনগণ সাদামাঠাভাবে গ্রহন করেছে। কারন তিনবারের সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী, বিএনপি চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেছেন। এজন্য সরকারীভাবে দেশে চলছে তিনদিনের শোক। এই শোকের কারণেই এরার কোন উৎসব করা হয়নি। উৎসব না হলেও সরকার বছরের প্রথম দিনেই নতুন বই প্রি-প্রাথমিক, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেয়ার নির্দেশনা দেন। সে মোতাবেক দেশের প্রতিটি বিদ্যালয়ে বই বিতরণ করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় রাজশাহীর সকল প্রি-প্রাইমারী, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বই বিতরণ করা হয়। নতুন বছরের প্রথম দিনে হাতে নতুন পাঠ্যবই পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা। আর এই আনন্দই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তোলে। নতুন বইয়ের গন্ধ, ঝকঝকে মলাট আর নতুন পাঠের হাতছানি শিক্ষার্থীদের মনে তৈরি করে উদ্দীপনা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় পবা উপজেলার নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বই তুলে দেখা যায়।
নতুন বই হাতে পেয়ে নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান হাসান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে,“নতুন বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। নতুন বই মানেই নতুন প্রস্তুতি। বইগুলো হাতে পেয়ে এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করতে পারবে বলে উল্লেখ করে সে।”একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মাইশা নিশাত নতুন বই হাতে পেয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলে,“নতুন বইয়ের গন্ধ আর নতুন পাতা উল্টানোর আনন্দ আলাদা। উৎসব না হলেও বই পেয়ে খুব খুশি হয়েছে সে।”
নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওমর আলী বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই না পেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পাঠ্যবই হাতে থাকলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পাঠ অনুসরণ করতে পারে এবং বাড়িতে পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। ফলে সময়মতো পাঠ্যবই বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
তিনি আরও বলেন, তার বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ ও নবম শ্রেণির বই পাওয়া গেছে। তবে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জানুয়ারির মধ্যেই সব বই পাওয়া যাবে এবং শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে। এদিকে নওহাটা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আখতার ফারুক বলেন, বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং নিয়মিত পাঠদানে গতি আসে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রি-প্রাথমিকে জেলায় মোট চাহিদা ৪১ হাজার ৬২৬টি এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত জেলায় চাহিদা মোট ১১ লাখ ১৯ হাজার ২০৪টি বই। রাজশাহী জেলার ৯টি উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চাহিদার শতভাগ পাঠ্যবই ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পৌঁছেছে। এবিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এ.কে.এম আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রি-প্রাথমিকের জেলায় মোট চাহিদার ৪১ হাজার ৬২৬টি বই এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত চাহিদার মোট ১১ লাখ ১৯ হাজার ২০৪টি বই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হয়েছে। ফলে জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হবে।
তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে বই সরবরাহে এখনো ঘাটতি রয়েছে। জেলা শিক্ষা অফিসার জায়েদুর রহমান জানান, জেলায় ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৪৬৫ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬৭৫ কপি, যা মোট চাহিদার ৪১ দশমিক ৯০ শতাংশ। এসএসসি ভোকেশনাল পর্যায়ে ২ লাখ ৯০ হাজার ৮০ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে বিতরণ করা হয়েছে ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩০০ কপি, অর্থাৎ ৬৬ দশমিক ৬৩ শতাংশ। দাখিল ও ইফতেদায়ি পর্যায়ে ১০ লাখ ৬৯ হাজার ১০১ কপি বইয়ের চাহিদার বিপরীতে পাওয়া গেছে ৬ লাখ ৩৬ হাজার ১৭১ কপি, যা ৫৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।

তিনি আরো বলেন, যেসব বই পাওয়া গেছে, সেগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যালয়গুলোতে পাঠানো হয়েছে। সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির বই এখনো এসে পৌঁছায়নি। অবশিষ্ট বই ১৫ জানুয়ারির মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বই আসামাত্রই বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা হবে।
জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য প্রাক্-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ৮ কোটি ৫৯ লাখ ২৫ হাজার ৩৭৯ কপি বই ছাপা, বাঁধাই ও কাটিং শেষ করে বিতরণের জন্য উপজেলায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে মাধ্যমিক, দাখিল, ভোকেশনাল ও কারিগরি স্তরের ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির মোট ১৮ কোটি ৩২ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ কপি বইয়ের মধ্যে ৭৮ দশমিক ৭২ শতাংশ ছাপা শেষ হয়েছে। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সরবরাহ করা হয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বছরের প্রথম দিনেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগ্রহ তৈরি করে। তাই অবশিষ্ট বই দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করে সব শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।