সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নগর উন্নয়নের সঙ্গে পরিবেশের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে: সুইট রাজশাহী বার এসোসিয়েশন ভবনের বিদ্যুতের তার চুরি, ভোগান্তিতে আইনজীবী ও সেবা গ্রহিতারা রাজশাহীতে এডভোকেট খোরশেদ আলম এর মৃত্যুতে ফুলকোর্ট রেভারেন্স রাজশাহীতে বিএসটিআই’র অনুমোদনহীন বেকারীকে দশ হাজার টাকা জরিমানা বরেন্দ্রের মাঠপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিএমডিএ নির্বাহী পরিচালক এর মতবিনিময় রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

কারাগারের দেয়াল পেরিয়ে মৃত সন্তানের মুখ দেখলেন এক বাবা

  • প্রকাশ সময় রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১৯৯ বার দেখা হয়েছে

নিজম্ব প্রতিবেদক: মানবিকতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে রাজশাহী কারা প্রশাসন। রোববার কারাগারের কঠোর নিরাপত্তা ও নিয়ম-কানুনের মধ্যেও এক বন্দি বাবাকে তার মৃত সন্তানের শেষ মুখ দেখার সুযোগ করে দিয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে তৈরি হয়েছে এক আবেগঘন মুহূর্ত। চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা দুলাল, যিনি বর্তমানে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোগ করছেন, তার ছেলে আব্দুল্লাহ শনিবার (২ এপ্রিল) একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। আকস্মিক এই মৃত্যুর খবরে পুরো পরিবারে নেমে আসে শোকের ছায়া। কারাগারে থাকা বাবা দুলালও সন্তানের মৃত্যু সংবাদে ভেঙে পড়েন। এমন পরিস্থিতিতে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার আকুতি জানান তার স্ত্রী।

পরিবারের এই আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন্স)-এর মৌখিক নির্দেশনায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুনের তত্ত্বাবধানে কারাগারের প্রধান ফটকে নিয়ে আসা হয় নিহত আব্দুল্লাহর মরদেহ। নিরাপত্তা বিধি মেনে সেখানে বন্দি দুলালকে শেষবারের মতো সন্তানের মুখ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। কারাগারের গেটে সেই দৃশ্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। ছেলের নিথর দেহ দেখে নিজেকে আর সামলে রাখতে পারেননি দুলাল। অঝোরে কাঁদতে থাকেন তিনি। উপস্থিত কারারক্ষী ও স্বজনদের অনেকেই এই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আইন ও নিরাপত্তা বজায় রেখে মানবিক দিক বিবেচনায় এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন্দিদের জীবনেও যে আবেগ ও সম্পর্কের মূল্য রয়েছে, এই ঘটনার মাধ্যমে সেটিই তুলে ধরা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, অপরাধের শাস্তি ভোগ করলেও একজন মানুষ তার পারিবারিক অনুভূতি থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা দেয় এবং প্রশাসনের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ায়। এই ঘটনা প্রমাণ করে, কঠোর নিয়মের মধ্যেও মানবিকতা জায়গা করে নিতে পারে। রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin