আমি মো. শাকিল মণ্ডল, রাজশাহী মহানগরের শাহ মখদুম থানা মোড় এলাকার বাসিন্দা এবং রাজশাহী পলিটেকনিক ছাত্রদলের সভাপতি (বর্তমানে সাময়িক স্থগিত কমিটি)। সম্প্রতি বিভিন্ন অনলাইন ও গণমাধ্যমে “চাঁদাবাজির ঘটনায় ছাত্রদলের নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা” শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তাতে আমাকে এবং ছাত্রদলকে জড়িয়ে যে অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, যাচাই-বাছাইহীন, অতিরঞ্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আমি দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, আমি কিংবা ছাত্রদলের কোনো নেতা-কর্মী উক্ত কথিত চাঁদাবাজির ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। প্রকৃতপক্ষে এটি একটি সাজানো ও ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ, যার মাধ্যমে আমাকে ব্যক্তিগতভাবে এবং ছাত্রদলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আমরা একজন বৃদ্ধ ব্যক্তির কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছি। অথচ প্রকৃত ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
গত ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে জয়পুরহাট জেলার বাসিন্দা দুলাল নামের এক ব্যক্তিকে শালবাগান এলাকায় এক অজ্ঞাত নারীর সঙ্গে অনৈতিক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত অবস্থায় স্থানীয় লোকজন আটক করেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আমি এবং এলাকার কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি এবং সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে না নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের আহ্বান জানাই। ওই সময় সংশ্লিষ্ট মালি এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছেলে ও মেয়ে নিজেদের ভুল স্বীকার করে এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
মেয়েটির পরিবারের সম্মান ও সামাজিক মর্যাদার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তাকে নিরাপদে সসম্মানে বিদায় দেওয়া হয়। অপরদিকে দুলালকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে নিরাপদে সরিয়ে থানা মোড়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
ঠিক সেই সময় শাহীন মোল্লা নামের এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলে এসে তাদের কাছ থেকে কিছু আর্থিক লেনদেন করে ব্যাপারটি মীমাংসার কথা বলেন যা আমরা প্রত্যাখ্যান করি। তারপর থেকেই তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভিডিও ধারণ শুরু করেন এবং আমাদের সম্পর্কে উসকানিমূলক ও আপত্তিকর মন্তব্য করতে থাকেন। উল্লেখ্য, তিনি আমাদের পূর্বপরিচিত ছিলেন না। আমরা তাকে ভদ্রভাবে ভিডিও ধারণ না করার অনুরোধ জানালে তিনি আমাদের এবং উপস্থিত এলাকাবাসীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন।
এ সময় কয়েকজন উঠতি বয়সী ছেলের সঙ্গে তার সামান্য ধাক্কাধাক্কি হলেও কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি। বরং আমরা তাকে পরিস্থিতি থেকে নিরাপদে সরে যাওয়ার অনুরোধ করি এবং তিনি পরে স্থান ত্যাগ করেন। এ ঘটনার অসংখ্য প্রত্যক্ষদর্শী রয়েছেন।
পরবর্তীতে দুলাল এলাকাবাসীর সামনে নিজের ভুল স্বীকার করলে তাকেও সেখান থেকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। অর্থাৎ ঘটনাটি সেদিন রাতেই স্থানীয়ভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হয়ে যায়।
কিন্তু পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি, শাহীন মোল্লা আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছেন, যা প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ এবং বাস্তবতার পরিপন্থী।
আপনারা সবাই জানেন বিকাশের মাধ্যমে বড় অঙ্কের অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তথ্য ও রেকর্ড সংরক্ষিত থাকে। আমরা চ্যালেঞ্জ করে বলতে চাই, অভিযোগে উল্লিখিত তারিখে আমি বা আমাদের কারও নামে এ ধরনের কোনো লেনদেনের প্রমাণ দেখানো সম্ভব নয়।
একইভাবে, মামলায় যেভাবে মারধর, চাঁদাবাজি কিংবা বিকাশে অর্থ আদায়ের কথা বলা হয়েছে, তারও কোনো প্রত্যক্ষ বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং বাস্তবে আমরা উত্তেজিত জনতার হাত থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নিরাপদে সরিয়ে দিয়েছিলাম।
আরও দুঃখজনক বিষয় হলো, পরবর্তীতে বিভিন্ন মাধ্যমে আমাদের কাছে খবর আসে যে মামলার বাদী শাহীন মোল্লা দুই লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছেন। যেহেতু আমরা কোনো অপরাধ করিনি, তাই এমন কোনো প্রস্তাবে সাড়া দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি সামাজিক সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতে গিয়েই আজ আমরা মিথ্যা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছি। অতীতে আমার বা আমাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের কোনো অভিযোগের নজির নেই। শুধুমাত্র ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কারণেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে আমরা মনে করি।
আমি আইনের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল। এই মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে আমরা আইনগতভাবে লড়াই করব এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে বলে বিশ্বাস করি।