নিজস্ব প্রতিবেদক: ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, কোনো শিক্ষার্থী যাতে মাদকাসক্ত না হয়ে পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে। একটা ব্যক্তি, সরকার ও একা কখনো এটার রোধ করা সম্ভব নয়। মাদক রোধ করতে পারে গোটা জাতি ও এ দেশের জনগণ। আর এটাতে সবচাইতে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন শিক্ষক সমাজ। শনিবার দুপুরে রাজশাহী সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজের অডিটোরিয়ামে ২০২৬-শিক্ষাবর্ষের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা চেষ্টা করবেন এই মাদক থেকে ছাত্ররা, বাচ্চারা যেন দূরে থাকে। ভালো ছাত্ররাই অনেক সময় ইফেক্টেড হয়। যদি জানতে পারেন তাহলে বাসায় চলে যাবেন। নিজ সন্তানের মতো বাবা-মাকে সাথে নিয়ে বসে ক্লাসিক করুন। তাকে উপদেশ দেবেন। তাকে এই কঠিন বিপদ থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য তাকে আসক্তিমুক্ত করবেন। ঘৃণা করে আইনের হাতে ঠেলে দিলে সে আরো খারাপের পথে যাবে। তাকে ভালোবাসা, মমতা শিক্ষা দিয়ে তাকে ভালো পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার চেষ্টা করছেন ১৮ বছর না হওয়া পর্যন্ত কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। তিনি আশা করেন খুব তাড়াতাড়ি এটাতে সরকার যেতে পারবে। তিনি আরো বলেন,আপনারা আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো জানেন। তিনি খুবই আনন্দবোধ করছেন যেই প্রতিষ্ঠানে আজকে ছাত্র-ছাত্রী ভাই বোনেরা নির্বাচিত হয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শপথ নিয়েছেন। এই শপথটাই তাঁকে সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে মনে করেছে বলে উল্লেখ করেন। এরকম শপথ তিনিও নিয়েছিলেন উল্লেখ বলেন, এটি ক্ষমতা নয়, এটি দায়িত্ব।
অল্প বয়সের অনেকের অনেক লোভ হয়, কিন্তু আমরা যেন কেউ লোভে না পড়ি। আজকে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি তাদের সফলতা চান। রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শুধু রাজশাহী ও বাংলাদেশ নয় এই পুরো মহাদেশ সারা বিশ্বে অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদদের তারা সৃষ্টি করেছে। শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এই প্রতিষ্ঠানের রাষ্টদূত। আপনাদের কথাবার্তা, আপনাদের চলাচল, আপনাদের অনেক শিক্ষা আর সবকিছুই অন্যরা দেখবে।
রাজশাহী ও রাজশাহীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ যা আজকে চিন্তা করে, সারা দেশেই তার পরে চিন্তা করে। আপনারা সেই গর্বিত প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং, শিক্ষা এবং ডিগ্রি অর্জন করতে এসেছেন। আপনাদের অনেক সমস্যা আছে। সরকার বাজেটে শিক্ষা ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ করেছেন। তিনি বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে একটি নয় দুইটি হোস্টেল এর ব্যবস্থা করা হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়ার সাবেক উপাচার্য প্রফেসর রফিকুল ইসলাম। আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. শামীম আরা চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সরকারী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ রাজশাহীর অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ব্যানার্জি।