নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জিপিও, ঘোড়ামারা প্রধান ডাকঘর এবং এর আওতাধীন সাব-পোস্ট অফিসগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে আসা ১৩ জন দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারীকে কোন কারণ দর্শানো ছাড়াই চাকরিচ্যুত করার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজশাহী ডাকঘর। একতরফা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে কর্মচারীরা ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন।
বুধবার বিকেলে রাজশাহী জিপিওর প্রধান ফটকের সামনে ‘বাংলাদেশ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী বিভাগ’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে ছাঁটাই আদেশ বাতিল করে ভুক্তভোগীদের স্ব স্ব পদে পুনর্বহালের দাবিতে সিনিয়র পোস্টমাস্টার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
ডাক বিভাগের বঞ্চিত কর্মচারীদের এই ন্যায়সংগত আন্দোলনের সঙ্গে তাৎক্ষণিক একাত্মতা প্রকাশ করে কর্মসূচিতে অংশ নেন রাজশাহীর বিভিন্ন সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তরের শতাধিক কর্মচারী। এর মধ্যে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক), বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ), বিএডিসি, রাজশাহী ওয়াসা, রেশম উন্নয়ন বোর্ড, রাজশাহী বেতার ও গণপূর্ত বিভাগের কর্মচারীরা।
সমাবেশে উপস্থিত কর্মচারীরা “এক নোটিশে বন্ধ হওয়া ১৩ পরিবারের রুটি-রুজি ফিরিয়ে দাও”, “দাসত্ব নয়, শ্রমের স্বীকৃতি চাই” এবং “চাই চাকরির নিশ্চয়তা” সংবলিত বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
উল্লেখ্য রাজশাহী জিপিওর সিনিয়র পোস্টমাস্টারের কার্যালয় থেকে গত ১৬ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বরে ছাঁটাই আদেশ জারি করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, গত ৬ আগস্ট গঠিত একটি একতরফা কমিটির (স্মারক নং: ৮৪) প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে বক্তারা এই আদেশের তীব্র সমালোচনা করে বেশ কিছু প্রশাসনিক ও আইনি অসংগতি তুলে ধরে বলেন, উচ্চতর কোনো মন্ত্রণালয় বা ডাক অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই সম্পূর্ণ স্থানীয় পর্যায়ে এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে এই চাকরিচ্যুতির আদেশ জারি করা হয়েছে।
সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করে বলেন, “২৪ ঘণ্টার মধ্যে এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত সংশোধন করা না হলে ডাক সেবায় তৈরি হওয়া যেকোনো প্রশাসনিক বা সেবামূলক স্থবিরতার পূর্ণ দায় সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষকেই বহন করতে হবে।”

চাকরিচ্যুত করা ১৩ কর্মচারীরা হলেন- দৈনিক মজুরিভিত্তিক পোস্টাল অপারেটর (৯ জন) যথাক্রমে মমিনুল ইসলাম (রাজশাহী জিপিও), শকিলুর রহমান (রাজশাহী জিপিও), চৈতন্য দাস (রাজশাহী জিপিও), জাহিদা খাতুন (রাজশাহী জিপিও), পপি খাতুন (রাজশাহী জিপিও), মাসুদ রানা (ঘোড়ামারা প্রধান ডাকঘর), মনজিলা খাতুন (ঘোড়ামারা প্রধান ডাকঘর), শামীউল আলীম (ঘোড়ামারা প্রধান ডাকঘর), খন্দকার মতিউর রহমান (রাজশাহী কোর্ট টাউন সাব পোস্ট অফিস), দৈনিক মজুরিভিত্তিক প্যাকার (২ জন) যথাক্রমে- লতিফা খাতুন (রাজশাহী জিপিও), হারুন আর রশিদ (রাজশাহী কোর্ট টাউন সাব পোস্ট অফিস) এবং দৈনিক মজুরিভিত্তিক নৈশপ্রহরী (২ জন) যথাক্রমে – হানিফ শেখ (পদ্মা আবাসিক টাউন সাব পোস্ট অফিস), চৌধুরী আব্দুল কাদের (রাজশাহী ক্যান্টনমেন্ট টাউন সাব পোস্ট অফিস)।
মানববন্ধনে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ দৈনিক মজুরি ভিত্তিক কর্মচারী সমিতি, রাজশাহী বিভাগীর কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি আনোয়ার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক পায়েল হোসেন, সদস্য জসিম উদ্দিন তাসেন, পাবনা জেলা কমিটির সভাপতি নার্গিস আকতার, ঘোড়ামারা প্রধান ডাকঘরে দৈ.ম.ভি পোস্টাল অপারেটর (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) শামীউল আলীম শাওন সহ অন্যান্যরা।