নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর কর্ণহার থানার সামনে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভের পর পুলিশের করা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা ওই মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাতে মামলাটি করা হয়। মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২৮ আগস্ট দিবাগত রাতে আসামিরা পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দেন। এর আগে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কর্ণহার থানার সামনে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেন সদ্য পদত্যাগ করা জেলা তাঁতী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদমান সাকিবের কর্মী-সমর্থকেরা। সাদমান বর্তমানে এলাকায় ছাত্রদলকে সংগঠিত করছেন। তবে ছাত্রদলে তাঁর কোনো পদ নেই।
বিক্ষোভে সাদমান সাকিব অভিযোগ করেন, ২৮ আগস্ট মধ্যরাতে তাঁর দুই কর্মী নাজমুল ও রেফাজুল তাঁকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে মোটরসাইকেলে করে ফিরছিলেন। শিশাপাড়া ঈদগাহের সামনে কর্ণহার থানা পুলিশের একটি দল তাঁদের থামিয়ে দুর্ব্যবহার করেন। এ সময় পুলিশ তাঁর নাম শুনে আপত্তিকর মন্তব্য করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
পুলিশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, ওই রাতে পুলিশ সাদমান সাকিবকে চিনতে না পারায় তাঁকে ঘিরে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এর দুই দিন পর, ২৮ আগস্টের ঘটনার বিষয়ে মামলা করে পুলিশ। ওই মামলায় শিশাপাড়া গ্রামের ছাত্রদলকর্মী নাজমুল হোসেন, সরিষাকুণ্ডি গ্রামের রানা ও জনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।
নাজমুল হোসেনের বোন নীরা খাতুনের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে তাঁর ভাইকে বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। পরে রাতে মামলা করার পর তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। আটকের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মামলার বিষয়টি জানতে পেরে বৃহস্পতিবার থেকেই আত্মগোপনে রয়েছেন সাদমান সাকিব। হোয়াটসঅ্যাপে তিনি বলেন, পুলিশের হয়রানি এড়াতে অনুসারীরা তাঁকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে রেখেছেন। তাঁরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
সাদমানের দাবি, ২৮ আগস্ট রাতে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় ঘটনাস্থলে শুধু নাজমুল ও রেফাজুল ছিলেন। অথচ মামলায় অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। থানার সামনে বিক্ষোভের সময় জনি ব্যানারের সামনে ছিলেন বলে তাঁকে বৃহস্পতিবার রাতে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রানা ও নাজমুলকেও পৃথক সময়ে আটক করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
সাদমান আরও অভিযোগ করেন, বৃহস্পতিবার রাতে মুজাহিদ নামে তাঁর আরেক কর্মীকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশ তাঁর বাড়িতে অভিযান চালায়। তাঁকে না পেয়ে তাঁর চাচার বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় পুলিশ দরজা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করেছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আটকের প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর নাজমুলকে আদালতে পাঠানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কর্ণহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ করে নাম-ঠিকানা জানতে হয়। আটক সকালে হলেও তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। মামলা হওয়ার পর রাতে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাই এ নিয়ে কোনো অসুবিধা নেই।’ ঘটনার পাঁচ দিন পর মামলা করার কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘নাম-ঠিকানা জানতে সময় লাগে।’
বিক্ষোভের সঙ্গে মামলার কোনো সম্পর্ক নেই দাবি করে ওসি বলেন, ‘মধ্যরাতে পুলিশ আইন অনুযায়ী তল্লাশি করতে গেলে তাঁরা পুলিশের সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন। এ কারণে মামলা হয়েছে।’
এদিকে থানার সামনে সাদমান সাকিবের বিক্ষোভ ও মশাল মিছিলের পরদিন হুজরিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপি এ বিষয়ে সভা করে। সভায় ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আব্দুল্লাহ উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ‘সাদমান সাকিব ব্যক্তি রাজনীতি করেন। সেদিনের কর্মসূচিও ছিল তাঁর ব্যক্তিগত। তাই সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, এ বিষয়ে দল কোনো দায় নেবে না। পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।