বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
অসুস্থ বিএনপি নেতা বাদশার পাশে এমপি মিলন পবার খড়খড়ি এলাকার শ্রী শ্রী গোপালদেব ঠাকুর মন্দির পরিদর্শন করলেন এমপি মিলন অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মিনুর পাশে এমপি মিলন রাজশাহীতে আনন্দ-বিষাদে দেবী দুর্গাকে বিদায়: পদ্মায় প্রতিমা বিসর্জন ৫ দফা দাবিতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি কাঁকনহাট পৌর সাবেক মেয়র আব্দুল মজিদ এর ইন্তেকাল পবার বড়বিলের উন্নয়নে নানা পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে: এমপি মিলন প্রধানমন্ত্রীকে ক্যাপ এবং গেঞ্জি উপহার বিএমডিএ এর সাথে রেহান আসিফ আসাদ মতবিনিময় সভা কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে, রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় প্রধানমন্ত্রী

রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চলে কৃষকদের পাশে বিএমডিএ

  • প্রকাশ সময় মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২১
  • ৬৪৬ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল খ্যাত গোদাগাড়ী উপজেলা। এই উপজেলায় চলতি মৌসুমে আমন ধানের চাষ হয়েছে প্রায় ৩৩০০০ হেক্টর জমিতে। এই মৌসুমে কৃষকরা আমন ধান চাষ করেন বৃষ্টির উপর নির্ভর করে। কিন্তু এই মৌসুমের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ হতে হঠাৎ করে খরা শুরু হওয়ায় কৃষকগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষকগনের এই সংকট মুহুর্তে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। গোদাগাড়ী উপজেলায় প্রায় ৪০০০ সরকারী খাস পুকুর থাকলেও পুকুরগুলি লীজ দেওয়ার ফলে কৃষকগণ পুকুর হতে জমিতে সেচ দিতে পারেন না।

বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির সমস্যা দূরীকরনের বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গোদাগাড়ী উপজেলার বালিয়াঘাট্টা নামক স্থানে মহানন্দা নদীতে পন্টুন স্থাপন পূর্বক ৬.৫০ কি. মি. পাইপ লাইন নির্মান করে ১০ টি পুকুরসহ মির্জাপুর খাড়ীতে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছে। মির্জাপুর খাড়ী হতে ১৩ টি এলএলপি এর মাধ্যমে প্রায় ৯০০ হেক্টর জমিতে সম্পূরক সেচ প্রদান করছে এবং তা চলমান রয়েছে। এছাড়াও বিএমডিএ ভূ-উপরিস্থ পানির ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে গোদাগাড়ী উপজেলায় পদ্মা নদীর সুলতানগঞ্জ, সারেংপুর ও হাটপাড়া নামক স্থানে পন্টুন স্থাপন করেছে এবং স্থাপিত পন্টুন হতে পানি উত্তোলন করে ১০টি পুকুর ও প্রায় ৪০ কি. মি. খালে পানি সংরক্ষনের ব্যবস্থা করেছে।

সংরক্ষিত পানি হতে ৬০ টি এলএলপি এর মাধ্যমে প্রায় ৪৫০০ হেক্টর জমিতে সেচ প্রদান করে ভূ-পরিস্থ পানি ব্যবহারের একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বিএমডিএ। ফরিদপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, তার প্রায় ৬৫ বিঘা জমিতে সেচের অভাবে শুধুমাত্র একটি ফসল হতো, এ বছরের মত আমন মৌসুমে খরা হলে মাত্র ১ টি সেচের জন্য আমন ধান মরে যেতো। তার জমিতে এখন তিনটি ফসল হয়। যা তিনি কল্পনা করতে পারেননি। এ ধরনের আরো প্রকল্প তৈরী করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

মির্জাপুর এলাকার কৃষক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তার জমির পাশে খাড়ীতে বিএমডিএ এর একটি সোলার চালিত এলএলপি আছে। মহানন্দা নদী হতে এই খাড়ীতে পানি আসে। চলতি আমন মৌসুমে প্রথম ২ দিন খাড়ীতে বৃষ্টির পানি ছিল। পরে তা শেষ হয়ে যায়। পরবর্তীতে নদী হতে পানি এনে আমনে জরুরী সেচ প্রদান করা হচ্ছে। চলতি মৌসুমে এমন খরা বিগত ১০ বছরের মধ্যে দেখা যায় নি বলে জানান তিনি। সোলার এলএলপি না থাকলে ১ টি সেচের জন্য প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আমন ধান মরে যেতো। সরকারী ভাবে নিষেধাজ্ঞার কারনে গোদাগাড়ী উপজেলায় গভীর নলকূপ খনন করা হচ্ছে না। পূর্বে খননকৃত ৭১৪ টি গভীর নলকুপের মধ্যে ৬১৯ টি গভীর নলকুপ মাধ্যমে আমন মৌসুমে খরা মোকাবেলায় ৩৩০০০ হেক্টর জমিতে সম্পূরক সেচ প্রদান করা হচ্ছে।

এদিকে গোদাগাড়ী বরেন্দ্র অফিসের সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল হাসান বলেন, গোদাগাড়ী উপজেলায় ৭১৪ টি গভীর নলকুপ এবং ৬০ টি এলএলপি আছে। বিগত বছরর গুলোতে আমন মৌসুমে খুব একটা সেচের প্রয়োজন হতো না। আমন ধান মূলতঃ বৃষ্টি নির্ভর ফসল। হঠাৎ করে বছর খরা হওয়ায় কৃষকগণ দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সবগুলি এলএলপি ও গভীর নলকুপ জরুরী ভাবে চালু করে কৃষকদের আমন ধান চাষাবাদের চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।

তিনি আরো বলেন, সেচের কারনে কোন আমন ফসলের ক্ষতি হবে না। তবে সরকারী খাস পুকুরগুলি হতে যদি জরুরী সেচের ব্যবস্থা করা যেতো তাহলে বিএমডিএ এর উপর চাপ কমে যেতো এবং যে সমস্ত এলাকায় সেচের কোন ব্যবস্থা নেই, সেইসব এলাকার খাস পুকুরগুলি সেচের জন্য উন্মুক্ত করে দিলে অসহায় কৃষকদের আমন ধান খরার কারনে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকতো না বলে উল্লেখ করেন তিনি।

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin