নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর পবা উপজেলার কাঁটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর অপসারণ নিয়ে রাজশাহী উত্তাল হয়ে উঠেছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণ নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য ও ম্যুরাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা এবং রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়ে অশ্লিল মন্তব্য করার প্রতিবাদে থানা, পৌরসভা, জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগ, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠন ও বীরমুক্তিযোদ্ধাগণ ফুঁসে উঠেছেন।
অশ্লিল মন্তব্যকারী কাঁটাখালি পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার ও গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ বুধবার সকালে রাজশাহী নগরী এবং কাঁটাখালি পৌরসভাতে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করেছে দলটির নেতাকর্মী ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এছাড়াও বিকেলে নগরের গণকপাড়া ও লক্ষ্মীপুর থেকে বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচী পালন করা হয়।
বুধবার সকাল নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে মানববন্ধন করা হয়। মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমান্ডের কমান্ডার ডাক্তার আব্দুল মান্নান।
মেয়র আব্বাস আলীকে দল থেকে বহিস্কারসহ তাকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবিতে এই মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক রুহুল আমিন প্রামানিক, রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার ও রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এদিকে, মেয়র আব্বাসকে দল থেকে বহিস্কার ও দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করেছে কাঁটাখালি পৌরসভা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। বুধবার সকাল ১১টায় কাঁটাখালি বাজারে জড়ো হয়ে সেখান থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা।
মিছিল শেষে পৌর আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অধ্যক্ষ জহুরুল আলম রিপনের সভাপতিত্বে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, পবা উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, জেলা শ্রমীক লীগের সাধারণ সম্পাদক আজাদ আলী, কাঁটাখালি পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মোতালেব মোল্লাহ, পৌর যুবলীগের আহবায়ক জনি ইসলাম ও পবা উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ফরিদুল ইসলাম রাজুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
মেয়র আব্বাস আলী একটি ঘোরোয়া বৈঠকে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের পৌরসভার অংশের উন্নয়নকাজ নিয়ে কথা বলার সময় বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটূক্তি করেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর মুর্যাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেন নৌকা প্রতীকে দুইবারের নির্বাচিত মেয়র আব্বাস আলী।
এছাড়াও তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়েও অশ্লিল মন্তব্য করেন। এ নিয়ে তাঁর ফাঁস হওয়া অডিও ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। রোববার রাত থেকে অডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে।
এদিকে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কটুক্তি, বঙ্গবন্ধু মুর্যাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা এবং সিটি মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনকে নিয়ে অশ্লিল মন্তব্য করার অভিযোগে মেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে থানায় তিনটি এজাহার দায়ের করা হয়। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহীর নগরের রাজপাড়া, বোয়ালিয়া ও চন্দ্রিমা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ তিনটি এজাহার দায়ের হয়েছে। পুলিশ এজাহারগুলো গ্রহন করে মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছেন।
এর মধ্যে বোয়ালিয়া থানায় দায়ের করা মামলার বাদি হয়েছেন, রাজশাহী নগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের ১৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মোমিন।
এছাড়াও চন্দ্রিমা থানায় দায়ের করা মামলার বাদি নগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ১৯ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর তৌহিদুল হক সুমন এবং রাজপাড়া থানায় ১৪ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনোয়ার হোসেন আনার বাদি হয়ে এজাহার গুলো দায়ের করেন বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য একটি ঘরোয়া বৈঠঠকেরর সময় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল তৈরী নিয়ে বলেন, ‘একটু থাইমি গেছি গেটটা নিয়ে, একটু ডিজাইন চেঞ্জ করতে হচ্ছে। বড় হুজুরের সঙ্গে আমাদের এক লোক বসেছিলে, বসি যে ম্যুরালটা দিছে বঙ্গবন্ধুর, এটা ইসলামী শরীয়াহত মোতাবেক সঠিক না। এ জন্য আমি ওকে থুব না। সব করবো, যা কিছু আছে, খালি শেষ মাথাতে মানুষ যেটা মাইন্ড করবে না ওড্যাই। আমি দেখতে পাছি যে, ম্যুরালটি ঠিক হবে না দিলে। আমার পাপ হবে। তো কেন দিব? দিব না, আমি তো কানা লোক না, আমাক বুঝাই দিছে। এ জন্য আমি ওটাকে চেঞ্জ করছি।’
গত সোমবার রাত থেকে মেয়র আব্বাসের এমন অধর্তব্য দুটি অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুক ও ম্যাসেঞ্জারে। এরই মধ্যে দাবি উঠেছে গাজিপুরের মেয়রের মতো কাটাখালি পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থাসহ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার।