নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলাম ধর্মের নীতি অনুযায়ী সুদ খাওয়া হারাম। যে সুদ খাবে তার জন্য আল্লাহ তায়ালা খারাপ সংবাদ রেখেছেন। কিন্তু মানুষ সেটা আমলে না নিয়ে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে এবং দ্রুত টাকা ওয়ালা বনে যেতে সুদে টাকা দিচ্ছেন। সুদের উপর টাকা খাটিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে। আর যারা অসহায় হয়ে সুদ গ্রহন করছে তাদের নিকট হতে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের সুদ। না দিতে পারলে কেড়ে নিচ্ছে সর্বোস্ব। এতে করে হারাচ্ছে তাদের সর্বোস্ব।
রাজশাহী শিরোইল ষ্টেশনপাড়া এলাকায় এমনি একজন সুদ খোর রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যার নাম রফিক সাগর। তিনি নিজেকে একজন ঠিকাদার দাবী করলেও নেই কোন লাইসেন্স। মুলত তিনি এভাবেই সুদের উপর টাকা খাটান।
ভূক্তোভোগি নগরীর ষ্টেশন কাঁচাবাজার এলাকার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি রফিক এর নিকট হতে তিনটি ষ্ট্যাম্প ও তিনটি ব্যাংকের চেক প্রদান করে পাঁচ লক্ষ টাকা নেন। তিনিও নিয়মিত সুদ প্রদান করতেন। কিন্তু এক সময় তার নিকট রফিক আঠার লক্ষ টাকা দাবী করেন। এ নিয়ে শালিস হয়। শালিসে উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুর হোসেন ও শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকার আনোয়ার। এতেও কোন কাজ না হলে রফিকের হুমকী শুনে তিনি বাড়ি বিক্রি করে সমুদ্বয় টাকা পরিশোধ করেন। এই ঘটনা মাত্র ৫-৬ মাস পূর্বে ঘটেছে বলে আনোয়ার জানান।
আনোয়ারের মিমংশা কারী মঞ্জুর আলম শেখ বলেন, রফিক সাগরের এরকম অনেক ঘটনা আছে। তাকে নিশেধ করলেও কোন কথা শোনেন না বলে জানান তিনি।
এদিকে আরেক ভূক্তভোগি নগরীর ডিঙ্গাডোবা (বাকীর মোড়) এলাকার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, তিনিও রফিকের নিকট হতে একই পদ্ধতিতে পাঁচ লক্ষ টাকা সুদের উপরে ঋন নেন। পাঁচ লাখ টাকার বিপরিতে প্রতি মাসে তাঁকে সুদ হিসেবে এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দিতে হতো। তিনি প্রায় ৫-৬ মাস এই হারে টাকা সুদ দিয়েছেন। এছাড়াও আসল টাকার মধ্যে সাড়ে তিন লক্ষ টাকা শোধ করেন। কিন্তু রফিক তার নিকট সুদে আসলে এখন আরো ১২ লক্ষ টাকা দাবী করছেন।
এছাড়াও এই টাকার জন্য গতমাসের (নভেম্বর) ১২ তারিখে রেলগেট লাইনের ধারে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে সাড়ে ৩লাখ টাকা দেয়ার পর ডকুমেন্ট চেলে তাকে লাঞ্ছিত করেন। সেইসাথে ২০ তারিখ রাত ১০টার দিকে শিরোইল তার নিজ দোকানের সামনে গিয়ে টাকার জন্য চিৎকার শুরু করে। সেইসাথে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। এ নিয়ে এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলে তিনি চলে যান। বর্তমানে এই টাকার চিন্তায় এবং হুমকীর মুখে ব্যবসা করতে পারছেন না বলে জানান। এছাড়াও গনি হোটেলের গনিসহ অনেকে এরকম ভুক্তভোগী আছেন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে কাউন্সিলার নিযাম উল আযিম এর সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, আমার এলাকায় রফিক সাগর আছে যে বিশ^ বাটপার ও সুদখোর। তাকে বারবার নিষেধ করা সত্বেও তিনি শোনেন নি। আর যারা টাকা নেয় তারাও দোষি। কারণ তারা কেন ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর দেবেন। আির সুদখোর রফিক ব্ল্যাঙ্ক চেক সই নিয়েই টাকা দেন। তারপর ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে নেন। ফলে যারা টাকা নেন তারা বিপদে পড়েন। এমনো লোক আছে নিজের বসত ভিটা বিক্রি করে তার টাকা শোধ করেছে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে কাউন্সিলার জানান, ওরা আইনের উর্ধ্বে। তবে যারা টাকা নিতে চান তাদের সাবধান হতে হবে। সেইসাথে কোন ব্ল্যাঙ্ক চেকে স্বাক্ষর করা যাবে না বলে পরামর্শ দেন তিনি।
এ বিষয়ে রফিকের নিকট জানতে চাইলে তিনি সুদের ব্যবসা করেন না বলে জানান। তবে ঠিকাদাররা যদি টাকার অভাবে কাজ করতে না পারে তখন তাদের টাকা দেন এবং কাজ শেষে কাজের যে লাভ হয় তা থেকে ১-২ পার্সেন্ট লাভ নেন বলে দাবী করেন রফিক। কথার এক পর্যায়ে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে তিনি দেখা করতে চান।