নিজস্ব প্রতিবেদন: নানা আয়োজন ও কর্মসূচীর মধ্যে দিয়ে রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে পালিত হলো মা মারীয়ার তীর্থ উৎসব। রোববার দিনব্যাপি গোদাগাড়ীর নবাই বটতলা মিশনে এই মহা তীর্থ উৎসবের আধ্যাত্মিক প্রস্তুতি স্বরূপ ৯ দিন ব্যাপী নভেনা ও খ্রীষ্টযাগ করা হয়। সকাল থেকেই অনেক ভক্তবিশ্বাসীগণ দলে দলে তীর্থ স্থানে আসতে শুরু করেন। সকাল সাড়ে ৮টায় খ্রীষ্টভক্তদের নিয়ে শোভাযাত্রা করা হয়। পরে সকাল সোয়া ১০টায় পরবীয় খ্রীষ্টযাগ শুরু হয়। পবিত্র খ্রীষ্টযাগ উৎসর্গ করেন বিশপ জের্ভাস রোজারিও।
বিশপ তাঁর উপদেশ সহভাগিতায় বলেন, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আশ্চর্যজনকভাবে রক্ষাকারিণী কুমারী মারিয়ার মধ্যস্থতায় পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে এই নবাইবটতলার ভক্তবিশ্বাসীগণ রক্ষা পেয়েছিলেন। নবাইবটতলার এই তীর্থ খ্রীষ্টধর্মের প্রতেক্যের জন্য আশির্বাদের কারণ মা মারিয়া তাদের সব সময় সাহায্য করেন বিপদ-আপদ থেকে রক্ষা করেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, “বর্তমান বিশ্বে মহামারী করোনা ভাইরাস এর হাত থেকেও মা মারিয়া আমাদের রক্ষা করে যাচ্ছেন। তাই সবার প্রতি আহ্বান মায়ের প্রতি যেন আমরা আরও বেশি বিশ্বাসী হই এবং রোজারি মালা প্রার্থনা করি, যেন ঈশ্বরের কৃপা ও আশির্বাদ আমরা মায়ের মধ্যস্থতায় লাভ করতে পারি। তিনি বলেন, যে আমাদের আত্মার পরিত্রানের জন্য মা মারিয়ার মদ্ধস্থতায় ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে ।সেই সাথে নিজেদের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা শুরুর পূর্বে প্রার্থনা করতে হবে । আধ্যাতিক জীবন যাপন করতে হবে। যার মধ্য দিয়ে আমরা পরিত্রাণ পাবো।
উল্লেখ্য ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় পাক হানাদার বাহিনী এই গ্রামে প্রবেশ করলে গ্রামের খ্রীষ্টান ধর্মের অনুসারীরা মিশনে যেয়ে মা মারিয়ার মুর্তির নিকট প্রাণ বাঁচানোর আবেদন করেন। তারা বিশ্বাস করেন তাদের অনুরোধে আশ্চর্যজনকভাবে সেদিন রক্ষাকারিণী কুমারী মারিয়ার মধ্যস্থতায় পাক হানাদার বাহিনীর হাত থেকে তারা সবাই রক্ষা পান। এই বিশ্বাস থেকে প্রতি বছর ১৬ জানুয়ারী এই দিনটি স্মরণ করে আসষে খ্রীষ্টান ধর্মের অনুসারীরা। সেখানে আগত ভক্তরা এটাই বিশ্বাস করে প্রতিবছর এখানে আসেন প্রার্থনা ও দান খয়রাত করেন।