নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় হাসপাতাল। উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষ এই হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতালে মূল প্রবেশ দ্বারের পাশে রয়েছে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা যায়, রামেক হাসপাতালে মূল প্রবেশ দ্বারের ঠিক বাম পাশেই এই ম্যানহোল টি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনা বিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এটি ছাড়াও রামেক হাসপাতালে দেওয়াল সংলগ্ন ফুটপাথে বিভিন্ন জায়গায় দেখা গেছে ম্যানহোলের ঢাকনা নেই। গুরুত্বপূর্ণ একটি হাসপাতালের বাইরে ঢাকনাবিহীন ম্যানহোল মারাত্মক বিপদজনক বলে মনে করছেন অনেকেই।
বিশেষ করে সন্ধ্যার পর এই জায়গাটি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে থাকে। তখন এই জায়গায় চলাচল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ম্যানহোলের ঢাকনা না থাকায় বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষদের জন্য এ ফুটপাথে চলাচল বিপদজনক বলে মনে করছেন অনেকেই। এছাড়া অসাবধানতাবশত যেকোনো সময় এখানে ঘটতে পারে মারাত্বক দুর্ঘটনা। এমনটাই মনে করছেন সমাজের সচেতন মহল।
মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে আসা সোহেল রানা, রোজিনা খাতুন, আবুল বাশার ও রিক্সা চালক আসাদ বলেন, এত বড় একটা মেডিকেলের সামনে ম্যানহোলের ঢাকনা কেন থাকবে না? করোনা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় এবং শীতজনিত কারণে নানা রকম অসুখ বিসুখ বেড়ে যাওয়ায় এখন হাসপাতালে রোগীর চাপ এমনিতেই বেশি। তাই হাসপাতালের বাইরে ও মানুষের আনাগোনা বেশি। এই ফুটপাত দিয়ে দিন-রাতই মানুষ চলাচল করে। এছাড়াও হাসপাতালের গেট দিয়েও সব সময় গাড়ি প্রবেশ ও বের হতে দেখা যায়। যখন তখনই এখানে একটা বড় দুর্ঘটনা ঘটার সম্ভাবনা আছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নয়তো একটা বড় কিছু হয়ে গেলে এর দায় কে নেবে বলে তারা প্রশ্ন করেন। এছাড়াও রিক্সা নিয়ে যেকোন সময়ে এর মধ্যে পরে গেলে জানমালের ক্ষতি হওয়ার আশংকা রয়েছে।
এ বিষয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার শামীম ইয়াজদানী জানান, দুই থেকে তিনবার সিটি কর্পোরেশনকে এটি নতুনভাবে ঠিক করে দেওয়ার জন্য চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু এখনো তা করা হয়নি। ওখানে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে থেকে স্থানীয় প্রশাসন ও সিটি কর্পোরেশনকে বারবারই অবগত করা হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কোন দুর্ঘটনা ঘটার পর হয়তো এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।