নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের সংবিধান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার আইন-কানুন সংস্কারের দাবিতে দেশের সব বিভাগীয় শহরে প্রতিনিধি সম্মেলন ও আলোচনা সভা শুরু করেছে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন। শনিবার রাজশাহীতে প্রথম এই প্রতিনিধি সম্মেলন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়ন (আরইউজে) মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ুম। তিনি বলেন, দেশে এখন দুটি সংকট চলছে। এর একটি রাজনৈতিক সংকট এবং অন্যটি শাসনতান্ত্রিক বা সাংবিধানিক সংকট। এ দুই সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে সংবিধান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার আইন-কানুন সংস্কার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ কোন রাজনৈতিক দলকে পাঁচ বছরের বেশি রাষ্ট্র ক্ষমতায় দেখতে চায় না। কিন্তু নির্বাচন ব্যবস্থা এমন, সরকার প্রধান যেভাবে চান সেভাবেই নির্বাচন হয়। ফলে জনগণের মতের অমিলের যে মৌলিক গুণ, তার কোন প্রতিফলন ঘটে না। এ কারণে সংবিধান এবং রাষ্ট্র পরিচালনার আইন-কানুন সংস্কার জরুরি।
দেশের উন্নয়ন হলেও লুটপাট থেমে নেই উল্লেখ করে হাসনাত কাইয়ুম আরও বলেন, গত পৌনে ৩০০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিকভাবে সবচেয়ে ভাল আছে। কিন্তু ১০০ টাকা কর নিয়ে ১৫ টাকার উন্নয়ন হচ্ছে। ২৫ টাকা নেতাকর্মীদের মাঝে বণ্টন হচ্ছে। বাকি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। অর্থপাচার বন্ধ হলে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার মত দেশে পরিণত হতো। আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে রাষ্ট্রের সংস্কার না হলে বাংলাদেশেরও অত্যন্ত গরীব দেশে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি আছে। পৃথিবীর বহু দেশে এমন নজির আছে।
‘জনগণের জন্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যয়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংবিধান ও রাষ্ট্র সংস্কার কেন জরুরি’ শীর্ষক এই প্রতিনিধি সম্মেলন ও আলোচনা সভার আয়োজন করে রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন, রাজশাহী। এতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা ও সাংবাদিক মাহমুদ জামাল কাদেরী।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সমন্বয়ক ইমরান ইমন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাসনাত বেগ ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্ষুদে ব্যবসায়ী নূর হোসেন মোল্লা প্রমুখ। প্রতিনিধি সভায় বিভাগের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সংগঠনকে গতিশীল করতে সভায় বেশকিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।