নিজস্ব প্রতিবেদক: ভারত উপমহাদেশ গঠনের পরে বৃটিশরা এই উপমহাদেশ প্রায় ২০০ বছর শাসন করেছে। এই শাসনের মধ্যে দিয়ে মুসলিম ও হিন্দুদের মধ্যে মারাত্বক বিভেদ সৃষ্টি করেছিলো তারা। এই বিভেদের ফলে উভয় ধর্মের নেতারা নিজেদের আলাদা রাষ্ট্র কায়েম করার কথা বলেন। এর ফলে বৃটিশরা মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ঠদের পশ্চিম ও পুর্ব পাকিস্তান এবং হিন্দুদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র ভারত গঠন করে দেয় বলে সোমবার বিকেলে রাজশাহীতে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের আয়োজনে অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে শিশুদের রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্যে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি আব্দুল বাতেন এই কথা গুলো বলেন।

তিনি আরো বলেন, ১৯৪৮ সালে হঠাৎ করে তৎকালীন পাকিস্তানের রাষ্ট্র প্রধান কায়েদী আজম জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার ঘোষনা দেন। এই নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালীরদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিজের মাতৃভাষাকে রক্ষা করতে সে সময় থেকে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালীরা প্রতিবাদ করে আসছিলো। সে সময়ে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আন্দোলননত অবস্থায় গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরন করেন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠি। নিপিড়ন ও নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে উর্দূকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা অব্যাহত থাকলে এই প্রতিবাদী আন্দোলনের প্রকৃত রুপ নেয় ১৯৫২ সালে ২১ ফেব্রুয়ারী। এদিন আন্দোলনরত ছাত্র ও পেশাজীবীদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায় পাকিস্তানী পুলিশ। এতে নিহত হন রফিক, সালাম, বরকত ও জব্বারসহ আরো নাম না জানা অনেকে।
তিনি বলেন, তবুও এই আন্দোলন যখন পাকিস্তানী শাসকগোষ্ঠি দমন করতে পারলোনা তখন ১৯৫৬ সালে এসে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা ঘোষনা দিতে বাধ্য হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। পরবর্তীতে এই মাতৃভাষা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্ববীকৃতি পেয়েছে। আর এই আন্দোলনের জের ধরেই বাংলাদেশে স্বাধীনতা যুদ্ধ হয় এবং বাংলাদেশ নামে একটি ভূখন্ডের সৃষ্টি হয় বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন প্রধান অতিথি।
অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে সমস্ত বাংলা ভাষা ব্যবহারকারী জনগণের জন্য গৌরবোজ্জ্বল একটি দিন হিসেবে আখ্যায়তি করেন। অমর একুশের চেতনা তথা নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য আর গৌরবময় ইতিহাসকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা, সঠিক ইতিহাসকে জানা এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা করা। আমাদের ভবিষৎ প্রজন্ম যাতে নিজের ভাষার ইতিহাসকে জানার পাশাপাশি এ পৃথিবীর সকল ভাষাকে সম্মান করতে শেখে সে লক্ষ্যে সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে জানান তিনি।

উল্লেখ্য অমর একুশে ফেব্রুয়ারি ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২২ উদযাপন উপলক্ষ্যে ভবিষৎ প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ভাষা শহিদদের ইতিহাস ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী’তে শিক্ষার্থীদের জন্য রচনা লিখন প্রতিযোগীতা আয়োজন করে। প্রতিযোগীতায় রেঞ্জ কার্যালয়, রাজশাহী, জেলা পুলিশ, রাজশাহী, পিবিআই, রাজশাহী, নৌ-পুলিশ, টুরিস্ট পুলিশ, সিআইডি, আরআরএফ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত পুলিশ সদস্যের সন্তান এবং রাজশাহী মহানগরীর স্বনামধন্য স্কুল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহন করে।
প্রতিযোগীতায় ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ‘ক’ গ্রুপে অনধিক ৫০০ শব্দ দিয়ে ‘অমর একুশে ফেব্রুয়ারি’ সম্পর্কে, ৬ষ্ঠ, ৭ম ও ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ‘খ’ গ্রুপে অনধিক ৮০০ শব্দ দিয়ে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ সম্পর্কে এবং ৯ম ও ১০ম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ‘গ’ গ্রুপে অনধিক ১০০০ শব্দ দিয়ে ‘ভাষা আন্দোলন ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ সম্পর্কে রচনা লিখন প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণের জন্য বলা হলে এই প্রতিযোগীতায় ৫৬ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।
সোমবার ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, রাজশাহী’র কমান্ড্যান্ট (পুলিশ সুপার) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ এর উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর), রশীদুল হাসান, পিপিএম, রাজশাহী পুলিশ সুপার এ বি এম মাসুদ হোসেন, বিপিএম (বার) ও শহীদ মামুন মাহমুদ স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ গোলাম মওলা।
ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার রাজশাহীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, কামরুন নাহার এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন রেঞ্জ কার্যালয়, রাজশাহী, জেলা পুলিশ, রাজশাহী ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অফিসার ও ফোর্সসহ প্রতিযোগীতায় অংশগ্রহণকৃত শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ।