নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর নওহাটা পৌরসভায় অবস্থিত হাতিবান্ধা ব্রীজ সংস্কার নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। ব্রীজ নওহাটা কলেজ মোড় হতে মাত্র ১০০গজ পশ্চিমে। গত রোজার ঈদের মাত্র কয়েকদিন পূর্বে বীজ্রের নিচের কিছু উঠে যাওয়া পলেস্তরা নাম মাত্র সংস্কার করে পরে উপরে চুনকাম করে সংস্কার করা দেখানো হয়েছে। এখানে দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ন হিসেবে সাইনবোর্ড দেয়া ছিল। এখন তা উঠে গেছে।
এছাড়াও দুর্নীতি আড়াল করতে নামফলকটি আবার লাল রং দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। এত করে কি ব্রীজটি ঝুঁকিমুক্ত হয়েছে? এমন প্রশ্ন সেখানকার জনগণের মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে। তারা বলছেন এই ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন অনেক ভারী যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে যে অবস্থা হয়ে আছে যে কোন সময়ে বড় ধরনের দূর্ঘটনা ঘটে প্রানহানী হতে পারে।
ব্রীজের নিকটবর্তী ব্যবসায়ীরা বলেন, ঈদ-উল ফিতরের কয়েকদিন পূর্বে হঠাৎ করে ঠিকাদারের লোকজন এসে তড়িঘরি করে করে কাজ শুরু করে। তারা মনে করেছিলেন খুব ভাল করে তারা কাজ করবেন। কিন্তু ঈদের পূর্বে মাত্র সপ্তাহ খানেকের মধ্যে তারা কাজ করে চলে যায় বলে জানান তারা। ভ্যান চালক আব্দুল মতিন, পথচারী মোবাশ্বের হোসেন, কালু ও রুবেলসহ আরো অনেকে বলেন, এই ব্রীজটি দীর্ঘদিন থেকে ঝুঁকিপূর্ন হয়ে আছে। সে হিসেবে সাইনবোর্ড দেয়া হয়েছিলো। এখন সে সাইনবোর্ড নেই। এখন এ অবস্থায় জনগণের ঝুঁকি আরো বেড়ে গেল। এই ব্রীজ সংস্কারে ৭০-৮০ হাজার টাকার উপরে ব্যয় হয়নি বলে জানান তারা।
উল্লেখ্য গ্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস প্রকল্পের মাধ্যমে এই ব্রীজ সংস্কার করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংক এই কাজে অর্থায়ন করেছে। এই ব্রীজের মোট চুক্তিমূল্য ৬,২৯,৬৯৮.১৬টাকা। ব্রীজের কাজটি বাস্তবায়ন করেছে এলজিইডি। পবা এলজিইডি এর নির্বাহী প্রকৌশলী মকবুল হোসেনের নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ব্রীজ এর কাজ এখনো শেষ হয়নি। ঠিকাদার চালাকী করে কাজ শেষ না করে এবং তাদের কিছু না বলে রং করে চলেগিয়েছিলেন। এ নিয়ে তাঁরা ঠিকাদারকে ধরেছেন এবং আবারও কাজ শুরু করার কথা বলেছেন। তবে ঠিকাদারকে এই কাজের জন্য কোন প্রকার বিল প্রদান করা হয়নি বলে জানান তিনি।