নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীতে এসএসসি পরীক্ষার্থীকে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর লাশ নিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা। সোমবার বেলা সাড়ে ৩ টার দিকে মহানগরীর রেলগেট শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান চত্বরে এই বিক্ষোভ হয়। অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও স্বজনেরা। বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে কিশোর গাং এর মুলহোতা এবং এদের লালন পালন কারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়।
নিহত সানির লাশ নিয়ে বিক্ষোভকারীরা হত্যা কান্ডের সাথে জড়িত সকলকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানান। এক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা লাশ নিয়ে মহাসড়কে বসে পড়লে রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ মহাসড়কের সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাস্তার দীর্ঘ যানজট বেঁধে যায়।
নিহত সানির মা জানান, গত রোববার তার ছেলের জন্মদিন ছিলো। তারা বন্ধুরা মিলে জন্মদিন পালন করতে গিয়ে একজন আহত হয় । তাকে চিকিৎসা করানোর জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে হাসাপাতাল থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্রদিয়ে কুপিয়ে তার ছেলেকে হত্যা করে ঐ খুনিরা। তাদের সকলের দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবী করেন তিনি।
নিহত সানির বাবা রফিকুল ইসলাম পাখি বলেন, তাঁর ছেলে ঐ খুনিদের পূর্ব থেকে চিনেনা ও জানে না। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তার ছেলেকে ছেলেকে হত্যা করেছে ঐ খুনিরা। এই ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে বোয়ালিয়া থানায় হত্যা মামলা করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। সেইসাথে দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্ট্রান্তমূলক শাস্তির জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত রোববার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে নগরের হেতেমখা সবজিপাড়া এলাকায় সানি (১৭) কে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। সানি রাজশাহী পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম পাখির ছোট ছেলে। তিনি এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি নগরের বোয়ালিয়া থানার দড়িখরবনা এলাকায়।
পুলিশ ও নিহত কিশোরের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাতে আহত এক বন্ধুকে হাসপাতালে দেখতে যান সানি। এ সময় কয়েকজন যুবক হাসপাতাল থেকে তাকে জোড় করে তুলে নিয়ে যায়। পরে তারা তাকে হেতেমখা সবজিপাড়া এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে রাস্তার পাশে ড্রেনে ফেলে চলে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন টের পেয়ে সানিকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান পরিবারের সদস্যরা। তাদের আহাজারি-আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠে হাসপাতালের বাতাস। নিহত সানির বাবা পাখি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আজ তার ছোট ছেলে সানির জন্মদিন। তার ছেলে এবার এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। বন্যার কারণে তাদের পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে। বন্ধুরা মিলে জন্মদিন পালন করতে গিয়ে এক বন্ধু পরে গিয়ে আহত হয়, সেই বন্ধুকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তারা চার বন্ধু। সেখান থেকে মহানগর মহিলা দলের নেত্রী বিথির ছেলে আন্নাফ এর নেতৃত্বে সানিসহ অন্য এক বন্ধু তুলে নিয়ে যায়। বন্ধুরা মিলে মারধর করলে ঘটনাস্থলে সানি মারা যান।
বোয়ালিয়া থানার ওসি মাজাহারুল ইসলাম বলেন, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত সানির লাশ পুলিশ পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হলে পরে পরে জানাযা শেষে সানি লাশ দাফন করা হয়। ।এ ঘটনার সাথে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশী অভিযান শুরু হয়েছে। আশা করছি দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করা হবে। সেইসাথে রাস্তা অবরোধ করা এলাকাবাসীকে তিনি এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেন এবং দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।