নিজস্ব প্রতিবেদক: আর একদিন পরে অনুষ্ঠিত হবে ঈদ-উল আযহা। এই দিনে বিশেষ একটি গুরুত্বপুর্ণ এবাদত হচ্ছে পশু কোরবানী। আর জবাই থেকে গোস্ত কাটা এবং চামড়া ছাড়ানোর জন্য চাই ধারালো ছুড়ি ও চাকু। এছাড়াও হাড় ও গোস্ত প্রসেসিং করতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখে চাপাতী। আর এসব অস্ত্র নতুন করে ধার দিতে জনগণ ছুটছেন কামার পাড়ায়।
কারন কামার ছাড়া আগুনে পুড়িয়ে লোহাকে পিটিয়ে অস্ত্র তৈরী করতে এবং পুরাতন অস্ত্রকে আবারও আগুনে তাতিয়ে নতুন করে স্বরুপে ফিরিয়ে আনতে তাদের মত পারদর্শী আর কেউ নাই। এজন্য এখন হাতুড়ি আর লোহার টুংটাং শব্দে মুখরিত কামার পাড়াগুলো। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর কামাররা। হাতুড়ি পিটিয়ে কামাররা তৈরি করছেন দা, বঁটি, ছুরিসহ মাংস কাটার বিভিন্ন সরঞ্জাম। যেন দম ফেলার ফুরসত নেই তাদের।
শুক্রবার নগরের লক্ষ্মীপুর দাশপুকুর ও বহরমপুর রেলগেট সংলগ্ন এবং কোর্ট, লিলি সিনেমা হল, ভদ্রা ও মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়াম মার্কেটে যেয়ে দেখা যায় প্রতিজন কামার একদিকে হাপড় টানছেন, অন্য দিকে হাতুর দিয়ে পিটিয়ে তৈরী করছেন নানা ধরনের ছুড়ি, চাকুসহ অন্যান্য অস্ত্র। আগুনে পুড়িয়ে পেটানো হচ্ছে দা, বঁটি, বিভিন্ন ধরনের ছুড়ি ও চাপাতি। কয়লার আগুনে লোহা গরম করে লাল টকটকে হলে হাতুড়ি পিটিয়ে পশু জবাই করার অস্ত্র তৈরি করতে ব্যস্ত কামারেরা। চারদিকে কেবলই লোহা পেটানোর টুংটাং শব্দ। কেউ টানছে হাঁপর, কেউবা দিচ্ছে শান।
নগরের দাশপুকুর রেলগেটের কামার সিরাজুল ইসলাম বলেন, এটা তার বংশগত পেশা। তবে তার পরে তার কোন বংশধর আর কেউ এ কাজ করবেনা। কারন কেউ এই কাজ শিখলোনা বলে আক্ষেপ করনে। দোকানে মাত্র দণনৎনে মিলে কোরবানির সরঞ্জাম তৈরিতে ব্যস্ত। এ সময়ে তিনি বলেন, কোরবানীর ঈদে তার ব্যবসা ভাল হয়। সারা বছর কোনমতে চলে। তবে কোরবানীতে অস্ত্র একটি অপরিহার্য বিষয় বলে কমবেশী সবাই তাদের ছুড়ি ও চাকুসহ কোরবানীর জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য অস্ত্র সান ও পুড়িয়ে আবারও নতুনের মত করার জন্য নিয়ে আসেন। এছাড়াও অনেকে নতুন ছুরি,চাকু ও চাপাতী কিনে নিয়ে যান।

এদিকে নগরীর বহরমপুর রেলগেট এলাকায় বংশ পরাম্পনায় কামারের কাজ করছেন হাবিবুর রহমান, শাওন. আলমগীর, মিলন, টুটুল, জামাল ও সজিবসহ অন্যান্যরা। তারা বলেন বংশগতভাবে এই পেশায় আছেন। এখন অন্য পেশায় যেয়ে কাজ করা তাদের জন্য অনেক কষ্টকর। সেজন্য মাড়ির সাথে দাঁত চেপে থেকে এই কাজ করে যাচ্ছেন। তারাও বলেন, সারা বছর তেমন কোন কাজ নাই। এই ঈদ তাদের কাজের মূল মৌসুম। এই ঈদে কাজ করা টাকা দিয়েই মূলত তাদের চলতে হয় । আর সারা বছর যা কাজ হয়, তা ঐ টাকার সঙ্গে যোগ কের কোনমতে সংসার পরিচালনা করে আসছেন। তবে তারা কোরবানীর কাজে সহযোগিতা করতে পারায় অনেক খুশি বলে জানান তারা।
জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিটি দা তৈরিতে প্রকারভেদে মজুরি নেওয়া হচ্ছে ২৫০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। চাকু তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ১২০ টাকা। বড় ছুড়ি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৫০০-৭০০ টাকা। বঁটি তৈরিতে নেওয়া হচ্ছে ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকার মধ্যে। তারা বলেন, আগে যেখানে লোহার কেজি ছিল ৬০ টাকা সেটি এখন ১২০ টাকা। কয়লার বস্তা আগে ছিল ৯০০ টাকা, এখন সেটি ১২০০ টাকা। এছাড়া চায়না কয়লা ১৮০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তাই কোরবানির সরঞ্জামের দামও এবার একটু বেশি নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।