রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান রাজশাহীতে জিয়া মঞ্চের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ কেশরহাট পৌরসভাকে আধুনিকায়ন করা হবে: এমপি মিলন রাজশাহীতে সিএনজি মালিক সমিতির উদ্যোগে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন রাজশাহী আরডিএ পার্কের পুকুরে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপর করেন আরডিএ চেয়ারম্যান

আবাসন খাতে ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স বাতিলের দাবিতে রাজশাহীতে সংবাদ সম্মেলন

  • প্রকাশ সময় শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬
  • ১৩৫ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী ডেভেলপারকে জমি দিয়ে মালিক যে ফ্ল্যাট পাবেন তার জন্য মালিককেও ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে। ফ্ল্যাটের মূল্য যদি হয় এক কোটি টাকা, সেক্ষেত্রে কর হবে ১৫ লাখ। নতুন অর্থবিলে প্রস্তাবিত এই পরিবর্তন কার্যকর হলে রাজশাহীর আবাসন খাত সংকটে পড়বে বলে জানিয়েছেন ডেভেলপাররা। তারা বলছেন, নতুন এই গেইনস ট্যাক্সের কথা শুনে কেউ জমিই দিতে চাচ্ছেন না। তাই তারা এই কর প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছেন।

এই কর প্রত্যাহারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহীর রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপারস অ্যাসোসিয়েশন (রেডা)। শনিবার দুপুরে রাজশাহী নগরের একটি তিন তারকা হোটেল গ্র্যান্ড রিভারভিউ হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন রেডার সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম মিজানুর রহমান কাজী। তিনি বলেন, এই কর কার্যকর হলে অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া রাজশাহীর মতো শহরে আবাসন ব্যবসা মুখ থুবড়ে পড়বে।

তিনি বলেন, আবাসন ব্যবসা মূলত যৌথ উন্নয়ন মডেলের ওপর নির্ভরশীল, যেখানে জমির মালিক ও ডেভেলপার যৌথ চুক্তিতে কাজ করেন। নতুন নিয়মে জমির মালিক ডেভেলপারের কাছ থেকে যে ফ্ল্যাট বা আর্থিক সুবিধা পাবেন, তার ওপর ১৫ শতাংশ ক্যাপিটাল গেইনস ট্যাক্স দিতে হবে। জমির মালিক যদি ১০ কোটি টাকা মূল্যের ১০টি ফ্ল্যাট পান, তবে তাকে দেড় কোটি টাকা ট্যাক্স দিতে হবে। সাইনিং মানি, উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্তি এবং পরবর্তীতে বিক্রির প্রতিটি ধাপে এই ১৫ শতাংশ ট্যাক্স প্রযোজ্য হবে।

তিনি আরো বলেন, এর ফলে জমির মালিকরা ডেভেলপারদের জমি দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন, যা নতুন প্রকল্প শুরু করার পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। তিনি বলেন, কারও দেড় কোটি টাকা দেওয়ার মতো আর্থিক সক্ষমতা থাকলে তিনি ডেভেলপারকে জমিই দেবেন না। ছোট করে হলেও নিজেই ভবন নির্মাণ করবেন। এই আর্থিক সক্ষমতা থাকে না বলেই তারা ডেভেলপারকে জমি দেন। নতুন করনীতি বাস্তবায়ন হলে ভবন নির্মাণের জন্য ডেভেলপাররা জমিই পাবেন না।

তিনি বলেন, নতুন শুল্ক ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির কারণে প্রতি টন রড উৎপাদনে খরচ প্রায় ১১ থেকে ১২ হাজার টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে রাজশাহীর বাজারে আবাসন উদ্যোক্তাদের নির্মাণ ব্যয় প্রতি বর্গফুটে প্রায় দেড় থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়ে গেছে। অতিরিক্ত গেইন ট্যাক্স ও লোকাল গভর্ন্যান্স ট্যাক্স মিলে ফ্ল্যাট নিবন্ধনের খরচ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। এটি না কমলে জমির মালিকও একটি ফ্ল্যাটের স্বপ্ন দেখতে পারবেন না। তাই তিনি অবিলম্বে এই ক্যাপিটাল গেইন্স ট্যাক্স প্রত্যাহারের দাবি জানান।

মিজানুর রহমান কাজী বলেন, আবাসন খাতের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ইস্পাত, সিমেন্ট, ইট, আসবাবপত্রসহ ২৬৯টি লিংকেজ বা সহযোগী শিল্প জড়িত। নতুন গেইনস ট্যাক্সের কারণে এই খাতে স্থবিরতা এলে ২৬৯টি শিল্পেও বিরূপ প্রভাব পড়বে। বর্তমানে আবাসন খাতে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ প্রত্যক্ষভাবে এবং প্রায় দেড় কোটি মানুষ পরোক্ষভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। জমির অভাবে ভবন নির্মাণ কমে গেলে তারাও বেকার হয়ে পড়বেন।

রাজশাহীর আবাসন খাতকে চাঙ্গা রাখতে এবং মধ্যবিত্তের আবাসন স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে জমি হস্তান্তর, সাইনিং মানি এবং ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশনের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত কর ও ভ্যাটের হার কমিয়ে সহনীয় পর্যায়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে সংবাদ সম্মেলন থেকে। পাশাপাশি মধ্যবিত্তের জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং একক অঙ্কের সুদে বিশেষ গৃহঋণের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এরশাদ আলী ঈসা। রেডার এই সিনিয়র সহ-সভাপতি বলেন, সব খাত থেকে ট্যাক্স নিয়ে সরকার ভঙ্গুর অর্থনীতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু আবাসন খাতে এই ট্যাক্স অত্যন্ত বেশি হয়েছে। দাবি জানাই সরকার যেন এটা বিবেচনা করে। ১৫ শতাংশ ট্যাক্স দিতে হলে জায়গা আর থাকবে না, ট্যাক্স দিতেই সব শেষ হয়ে যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি তৌফিকুর রহমান লাভলু, সহ-সভাপতি কবির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেজবাউল বারী সওদাগর, অর্থ সম্পাদক এম.এম. সিহাব পারভেজ, পরিকল্পনা ও তথ্য সম্পাদক উজ্জ্বল কবির, দপ্তর সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, সমাজকল্যাণ ও ক্রীড়া সম্পাদক মাকসুদুল ইসলাম সুমন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আখতারুল হুদা রুমেল সহ অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত উপস্থিত ছিলেন।

 

শেয়ার করুন

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin