রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
রাজশাহীর ক্রীড়া গৌরব পুনরুদ্ধারে বহুমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর বেগম খালেদা জিয়া হচ্ছেন একজন মমতাময়ী মায়ের মূর্ত প্রতীক: ভূমিমন্ত্রী মিনু গণমাধ্যম রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্তম্ভ, রাজশাহীতে দৈনিক এদিনের বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলন: এমপি মিলন রাজশাহীতে থানার সামনে বিক্ষোভ, ৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ৩ আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান রাজশাহীতে জিয়া মঞ্চের বিভাগীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ কেশরহাট পৌরসভাকে আধুনিকায়ন করা হবে: এমপি মিলন রাজশাহীতে সিএনজি মালিক সমিতির উদ্যোগে চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্পের উদ্বোধন রাজশাহী আরডিএ পার্কের পুকুরে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপর করেন আরডিএ চেয়ারম্যান

আরডিএ এর ১৫৭ দোকান গায়েব করে বানিয়েছেন সুবিশাল ফার্নিচার শোরুম শফিকুল আউয়াল খান

  • প্রকাশ সময় শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৩ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক: ভবনের মালিক রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)। নাম গোধূলি মার্কেট। চারতলা ভবনের প্রতি তলায় আয়তন ২৩ হাজার ৬৪৩ বর্গফুট। এর মধ্যে চারতলায় ৪ হাজার ৫২৪ বর্গফুট দখল করে ফ্ল্যাট বানিয়েছেন রাজশাহীর প্রভাবশালী ব্যবসায়ী শফিকুল আউয়াল খান। শুধু তা-ই নয়, ভবনটির দোতলায় ১৫৭টি দোকানের স্থান দখল করে বানিয়েছেন ফার্নিচারের শো-রুম। চারতলায় আরও ৪ হাজার ৫৯০ বর্গফুট জায়গা দখল করে বানিয়েছেন ফার্নিচারের গুদাম। তবে ভাড়া দেন না ঠিকঠাক।

আরডিএ থেকে জানা গেছে, ২০০৭-০৮ সালে গোধূলি মার্কেট নির্মাণ করা হয়। এরপর ২০০৮ সালে দোকান বরাদ্দ শুরু হয়। ভবনের নিচতলার দোকানগুলো খাবারের হোটেল এবং বিভিন্ন বাসের টিকিট কাউন্টার হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়। দোতলায় ছিল ১৫৭টি দোকান। এর মধ্যে ৪৬টি দোকান মিলিয়ে ৫ হাজার ৬১২ বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন ব্যবসায়ী শফিকুল আউয়াল খান। এর পাশাপাশি তিনি আরও ১ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নেন। আরডিএর আরও শতাধিক দোকানের ভাড়াটের কাছ থেকেও তিনি তাঁদের দোকানগুলো নিয়ে নেন। এসব দোকান থেকে জায়গা পান আরও ৪ হাজার ৩০৭ বর্গফুট। এসব দোকান ভেঙে তিনি বানিয়েছেন একটি ফার্নিচারের শো-রুম।

ভবনের নকশা অনুযায়ী, দোতলার ১৫৭টি দোকান ছিল কয়েক সারিতে। এসব দোকানে চলাচলের জন্য ৫ হাজার ৭৬৯ বর্গফুট জায়গাজুড়ে ছিল প্যাসেজ এবং ক্যান্ডিলিভার। নিজের ফার্নিচারের সুবিশাল একটি শোরুম বানাতে এর সবই দখল করেছেন শফিকুল। দোতলায় তিনি মোট ১৬ হাজার ৬৮৯ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করছেন।

অবরুদ্ধ তৃতীয় তলা: ডিজাইনে ভবনের তৃতীয় তলা বাণিজ্যিক স্পেশ। তবে দোতলায় প্যাসেজ ও ক্যান্ডিলিভার দখল করে নেওয়ায় তৃতীয় তলায় যেতে হয় শোরুমের ভেতর দিয়ে। গত মঙ্গলবার ভবনের তৃতীয় তলায় গিয়ে দেখা যায়, সেখানে একটি ব্যাংকের শাখাসহ কয়েকটি আইটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। একজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নকশা পরিবর্তন করে দোতলা দখল করে নেওয়ায় তাঁরা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

রয়েছে আলিশান ফ্ল্যাট: আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে চতুর্থ তলায় কাজ শুরু হয়। ডেভেলপার হিসেবে চারতলার কাজ পান শফিকুল আউয়াল খান। কিন্তু কাজে ব্যাপক অনিয়ম শুরু করেন তিনি। তখন তাঁকে কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দেয় আরডিএ। তবে এর মধ্যে চারতলায় ৪ হাজার ৫২৪ বর্গফুট জায়গাজুড়ে একটি ফ্ল্যাট নির্মাণ করেন শফিকুল। সেখানে সপরিবারে বসবাস করছেন তিনি। পাশাপাশি আরও ৪ হাজার ৫৯০ বর্গফুট জায়গা দখল করে বানিয়েছেন ফার্নিচারের গুদাম।

শফিকুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম খান ফার্নিচার গ্যালারি। গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, চারতলায় ঢোকার মুখে একটি কলাপসিবল গেটে তালা দেওয়া। ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সুবিশাল আয়তনের ফ্ল্যাটটি দামি দামি সব আসবাবে সজ্জিত।

এই অবৈধ নির্মাণের বিষয়টি জানতে পেরে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর উচ্ছেদ অভিযানে যায় আরডিএ। শফিকুল তখন তাঁর হাইকোর্টের রিটের কাগজ দেখালে উচ্ছেদ করতে পারেনি আরডিএ।

শফিকুলের সঙ্গে কথা বলতে মঙ্গলবার শোরুমে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি। শোরুমে ছিলেন তাঁর ভাতিজা উলগান হাসান খান। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে দোতলায় ১৫৭ দোকান ভেঙে বাণিজ্যিক স্পেস নির্মাণের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুল আউয়াল খান দাবি করেন, তিনি ভাড়া নেওয়ার সময় সেখানে দোকান ছিলনা। চারতলার ফ্ল্যাটের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমি ডেভেলপার। আমি যা খুশি তা-ই করতে পারি।’ অবৈধ গুদামের বিষয়েও তিনি একই দাবি করেন।

শফিকুল আউয়াল খান চারতলায় অবৈধভাবে মোট ৯ হাজার ১১৪ বর্গফুট জায়গা ব্যবহার করছেন। আর দোতলায় শোরুমের জন্য অবৈধভাবে দখলে রেখেছেন আরও ১০ হাজার ৭৬ বর্গফুট জায়গা। শুধু দোতলায় ৬ হাজার ৬১২ বর্গফুট জায়গা বৈধভাবে ভাড়া নিয়েছেন তিনি। এই জায়গারও ঠিকমতো ভাড়া পরিশোধ করেন না।

আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে ভবনের প্রতি বর্গফুটের জন্য ভাড়া নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ৩ টাকা। সে হিসেবে তিনি ব্যাংকে মাত্র ২৩ হাজার ১৪২ টাকা ভাড়া দেন। তাও বিপুল টাকা বকেয়া পড়েছে। এরই মধ্যে ২০১৬ সালে ভবনের ভাড়া প্রতি বর্গফুটের জন্য ৫ টাকা নির্ধারণ হয়েছে। তবে সাড়ে ৩ টাকা করেই কিছু দিন ভাড়া পরিশোধ করেন শফিকুল।

আরডিএর চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট বলেন, ‘আরডিএর ভবনটিকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করছেন শফিকুল আউয়াল খান। তিনি অনুমোদন ছাড়া নকশা পরিবর্তন করেছেন। এত দিন আওয়ামী লীগের ক্ষমতার দাপটে আরডিএ তার কাছে অসহায় ছিল। কিছুই করতে পারেনি।’ আরডিএ চেয়ারম্যান বলেন, ভবনটিকে আগের ডিজাইনে ফিরিয়ে আনা হবে।

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরো নিউজ দেখুন
© All rights reserved © 2021 dailysuprovatrajshahi.com
Developed by: MUN IT-01737779710
Tuhin