নিজস্ব প্রতিবেদক: ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলাম কখনো জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ বরদাস্ত করে না। আর যারা ধর্ম নিয়ে এগুলো করে তারা ইসলামের শত্রু। এছাড়াও আলেম-ওলামাদের কেউ যাতে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে না পারে সেদিকে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন- বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টি রাজশাহী বিভাগের আয়োজনে আজ শুক্রবার (২৪ ডিসেম্বর) রাজশাহীর শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান মিলনায়তনে বিভাগীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনটির চেয়ারম্যান মাওলানা ইসমাইল হোসেন এই আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ইসলাম ও দেশ বিরোধী সকল অপপ্রচার থেকে সাবধানে থাকতে হবে। কারণ বিএনপি-জামায়াত অপপ্রচার চালিয়ে ও গুজব রটিয়ে দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। কিন্তু তাদের সে ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেওয়া যাবে না। সবাইকে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন- বিএনপি জামায়াতের আমলেই দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছে। সে সময় থেকে ইসলাম ধর্মকে পুঁজি করে জঙ্গিবাদের উত্থান এবং প্রসার ঘটায় বিএনপি-জামায়াতের মদদে একদল উগ্রগোষ্ঠী। তবে আওয়ামী লীগ সরকার জঙ্গিবাদ দমন এবং উগ্রবাদের নিরসনে যে অভূতপূর্ব ভূমিকা রেখেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার বলে জানান তিনি।
মাওলানা ইসমাইল হোসেন বলেন, যারা ইসলামের শত্রু তাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে। মসজিদে কেউ যাতে উস্কানিমূলক বক্তব্য না দিতে পারে সেদিকে আলেম ওলামাদের সোচ্চার হতে হবে। তিনি সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আলেম-ওলামাদের সজাগ থাকার আহবান জানান। সেইসাথে বাংলাদেশের স্বাধীনাতর সার্বভৌত্ব রক্ষায় আলেম-ওলামাদের প্রয়োজনে জীবন উৎসর্গ করার পরামর্শ দেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন- বাংলাদেশ ইউনাইটেড ইসলামী পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শাহ মুহাম্মদ শফিউল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন- বাখরাবাজ হুসাইনাবাদ কাঁটাখালী মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মাহমুদ, মদিনাতুল ইলম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুহাদ্দিস মোহাম্মদ মুকাদ্দাসুল ইসলাম, দারুস সালাম কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এএইচএম শহিদুল ইসলাম, ওলামা কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মুফতি ওমর ফারুক ও নড়াইলের পীর মাওলানা আনোয়ার মতিনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। এছাড়াও বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ইমাম, মোয়য়াজ্জিনগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে ইসলামিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক কলরব ও শাহে মদিনার শিল্পীবৃন্দ ইসলামিক সংগীত ও হামদ-নাত পরিবেশন করা হয়।