নিজস্ব প্রতিবেদক: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি ও তাঁর ম্যুরাল নির্মাণ প্রতিহতের ঘোষণা দেয়া আব্বাস আলীকে মেয়র পদ থেকে দ্রুত অপসারণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহীর কাটাখালী পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলর। একই সঙ্গে তাঁকে দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির দাবি জানান তারা। আজ শুক্রবার সকালে পৌরসভা ভবনে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ সভায় এ দাবি জানান কাউন্সিলরগণ।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান। তিনি মেয়রকে অপসারণে অনাস্থা প্রস্তাবের রেজুলেশন সাংবাদিকদের পড়ে শোনান। এ সময় তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার পৌরসভার ১২ জন কাউন্সিলরের জরুরী সভায় সর্বসম্মতিক্রমে মেয়রকে অপসারণে অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হয়। রাতেই তা জেলা প্রশাসক বরাবর দেয়া হয়েছে। কাঁটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারিরা মেয়র আব্বাসের আগ্রাসন থেকে মুক্তি চান। তিনি আরো বলেন, রাজস্ব আদায়ের পৌরসভার ফান্ডের প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ছিল। এখন চা খাওয়ার টাকাও খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। হটাৎ করে পৌর ফান্ডের টাকা গায়েব হয়ে গেছে। বিষয়টি দ্রুত তদন্তের দাবি জানান মঞ্জুর রহমান।
তিনি বলেন, করোনাকালিন অনুদান দেয়ার জন্য কাঁটাখালি বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৮০ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করেন মেয়র আব্বাস। কিন্তু সে টাকা কাউকে দেয়া হয়েছে বলে তাদের জানা নেই। কারোনাকালে চা ব্যবসায়ীদের অনুদান দেয়ার নামে কয়েক লাখ টাকা পৌরসভার ফান্ড থেকে হাতিয়ে নেন মেয়র। কিন্তু কোন কোন চায়ের দোকানদার করোনাকালে অনুদান পেয়েছে তা কোন কাউন্সিলর বলতে পারবেন না।
তিনি আরো উল্লেখ করেন প্রতি মাসে মেয়রের অবৈধ আয় প্রায় দেড় কোটি টাকা। এটি তিনি গর্ব করে বলে থাকেন। সম্প্রতি তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরও এ কথা বলেছেন। যা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সভায় ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল মজিদ বলেন, পৌরসভার কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ৩৬ মাসের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে। ফান্ডে টাকা থাকার পরও মেয়র তাঁদের বেতন-ভাতা দেননি।
তিনি আরও বলেন, মেয়র আব্বাস কর্মকর্তা-কর্মচারিদের জোর করে বিভিন্ন কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। কেউ স্বাক্ষর না করলে তাকে চাকরিচ্যুতসহ নানাভাবে হুমকি দেন। এছাড়াও তাঁর কাজের কোন প্রতিবাদ করলে কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতেন জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন, আত্মীয়-স্বজনদের নামে ঠিকাদারী লাইসেন্স করে নগর অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ মেয়র নিজে করতেন। আত্মীয়-স্বজনদের নামে হাট-ঘাট ও যানবাহনের টোল আদায়ের ইজারা নিজে ইজারা নিয়েছেন। এসব টোল আদায়ের নামে নিজের লোকজন দিয়ে চাঁদাবাজি করেন। এসব নিয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে মেয়র হত্যার হুমকি দেয়াসহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাতেন বলে প্রতিবাদ সভায় কাউন্সিলরগণ উল্লেখ করেন।