নিজস্ব প্রতিবেদক: পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের দোসর কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ সুজাউদ্দীন এর স্বজনপ্রীতি, কলেজের অর্থ আত্মস্বাৎ ও সীমাহীন দুর্নীতির প্রতিবাদে এবং দ্রুত অপসারণ এর দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। রোববার বেলা ১১টার কাকনহাট পৌর বাজারের গোডাউন মোড়ে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কাকনহাট পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিয়াউল হক সরকার, কাকনহাট পৌর বিএনপি’র সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ সেলিম আহমেদ, বিএনপি নেতা আব্দুস সালাম ও রায়হান আলী।
আরো উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন কাকনহাট কলেজের জৈষ্ঠ্য প্রভাষক আলা উদ্দীন, আব্দুল সোবাহান, মামুনুর রশিদ মোল্লা, আসাদুল্লাহ কাশেম ও সাদেকুল ইসলাম, প্রদর্শক মনিরুল ইসলাম ও কাকনহাট কলেজের সাবেক ছাত্র মোহাম্মদ ফারুক হোসেনসহ অত্র কলেজের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী শিক্ষার্থীগণ।
উপস্থিত বক্তারা বলেন, কাকনহাট মহাবিদ্যালয়ে ফ্যাসিষ্ট আওয়ামী সরকারের আমলে ২০১৬ সালের মার্চ মাসে নিয়োগ প্রাপ্ত অধ্যক্ষ মোঃ সুজাউদ্দীন ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের পছন্দ মতো গভর্নিং বডি গঠন করে নিয়ম বহির্ভুতভাবে বিগত দশ বছর যাবৎ কলেজের টাকা আত্মসাৎ, নিয়োগ বাণিজ্য ও নানা ধরনের অনিয়ম করে আসছেন। ছাত্র-ছাত্রীদের বেতন, ভর্তি ফি, সেশনচার্জ ও অন্যান্য ফি বাবদ প্রতিবছর কলেজটিতে আয় হয় প্রায় পনের লক্ষ টাকা। কলেজ পরিচালনা ব্যয় বাবদ প্রতিবছর পাঁচ লক্ষ টাকা খরচ হলেও প্রায় দশ লক্ষ টাকা উদ্বৃত্ত থাকার কথা বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিগত দশ বছরে উদ্বৃত্ত টাকায় অত্র কলেজের কোন উন্নয়ন কাজ করা হয়নি। অধ্যক্ষ বিগত দশ বছরে কমপক্ষে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে তারা ধারণা করছেন। এমপিও ভুক্ত হবেনা জেনেও মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে দুই জন কর্মচারী নিয়োগ দিয়েছেন। তারা আট বছর যাবৎ মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ছাত্র-ছাত্রীর উপবৃত্তির বিপরীতে সরকার গত দশ বছরে টিউশন ফি বাবদ বছরে উদ্বৃত্ত টাকায় চৌদ্দ লক্ষ আটাত্তর হাজার একশত তেইশ টাকা প্রদান করে। অধ্যক্ষ ঐ টিউশন ফি এর টাকার মধ্যে মাত্র দুই লক্ষ পঁচিশ হাজার আট শত ছেষট্টি টাকা কলেজ ফান্ডে জমা করেন। আর অবশিষ্ট বার লক্ষ আটচল্লিশ হাজার দুই শত সাতান্ন টাকা তিনি আত্মসাৎ করেছেন বলে মানববন্ধনে তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরো বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলার মাঠ দুই লক্ষ টাকায় দশ বছরের জন্য লিজ দিয়ে সেই টাকা কলেজ ফান্ডে জমা না দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও কলেজের একটি সাত লক্ষ) টাকার এফ.ডি.আর আই এফ আই সি ব্যাংক, রাজশাহী শাখায় ছিলো, যেটি ভেঙ্গে দিয়ে তিনি আত্মসাৎ করেছেন। ডিগ্রী পর্যায়ের শিক্ষকদের বেতন করে দেবে বলে ছয় লক্ষ সাতাশি হাজার টাকা গ্রহণ করে আত্মসাৎ করেন। এমনকি আওয়ামী সরকার পতনের পরেও শিক্ষকদের না জানিয়ে নিজের ইচ্ছেমতো শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক সদস্য নির্বাচন করে গভর্নিং বডি গঠন করেন। সেইসাথে এমপিওভুক্ত হবেনা জেনেও প্রায় পঁয়ত্রিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত তিন জন অফিস সহায়ক নিয়োগ দিয়েছেন। কাজেই শিক্ষক,কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ফ্যাসিষ্ট অধ্যক্ষ সুজাউদ্দীন এর দুর্নীতি তদন্তের আবেদন দ্রুত অপসারনের দাবী জানান তারা।