নিজস্ব প্রতিবেদক: শিক্ষাব্যবস্থায় খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা এবং প্রতিটি গৃহিণীর জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মতো গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সদ্য নির্বাচিত সংসদ সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, কাবাডি খেলার মাধ্যমে রাজশাহীসহ পুরো বাংলাদেশ আগামী দিনে বিশ্বদরবারে পরিচিতি লাভ করবে এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যকে ধারণ করে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।
বর্তমান সরকারের শিক্ষানীতির কথা উল্লেখ করে এমপি মিলন জানান, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা এখন সম্পূর্ণ বাধ্যতামূলক। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলার পাশাপাশি গান-বাজনা, হামদ-নাত এবং কবিতা আবৃত্তি চর্চা করতে হবে। কারণ খেলাধুলা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে বিশ্বদরবাওে দ্রুত পরিচিতি লাভ করা যায়। শিক্ষার্থীদের কারিগরি শিক্ষার পাশাপাশি স্ব-স্ব ধর্মের অনুশাসনে বেড়ে ওঠার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর প্রত্যাশা, আগামী দিনে এদের মধ্য থেকেই বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান বা জাইমা রহমানের মতো নেতা কিংবা আরাফাত রহমান কোকোর মতো দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক তৈরি হবে। নারীদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কারে ৩১ দফা দাবির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি মা-বোনের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তা ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।

“পবা-মোহনপুরের পবার হরিয়ান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ৬৬৯ জন গৃহিণীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে এই পাইলট প্রকল্প শুরু হয়েছে। তিনি জানান, আগামী জুন মাসে বাজেট উত্থাপন ও জুলাইয়ে তা পাস হওয়ার পর, ৩ থেকে ৪ বছরের মধ্যে এলাকার সব গৃহিণীর হাতে এই ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে। সেইসাথে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেওয়া এবং খারাপ প্রার্থীকে বয়কট করার আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্বখ্যাত ফুটবলার মেসি, ম্যারাডোনা, নেইমার ও পেলের পাশাপাশি দেশীয় ক্রীড়া তারকা মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং রাজশাহীর সন্তান বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর কথা গর্বের সাথে উল্লেখ করেন। এছাড়াও, কাবাডি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক রশোর অবদানের কথাও তিনি স্মরণ করেন।
দীর্ঘ ৪০-৪৫ বছরের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের কথা উল্লেখ করে আসন্ন স্থানীয় নির্বাচনে যেন তারা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, দল থেকে কোনো অযোগ্য বা খারাপ ব্যক্তিকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেওয়া হবে না এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে এলাকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা হবে। বক্তব্য শেষে তিনি বিজয়ী ও রানার-আপ দলের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।

দিনব্যাপি এই টুর্নামেন্টে ছেলে এবং মেয়ে দুই বিভাগে মোট আটটি দল অংশগ্রহন করে। এরমধ্যে দুইগ্রুপে রাজশাহী চ্যাম্পিয়ণ এবং জয়পুরহাট জেলা রানার-আপ হয়। বড় বাড়িয়া রজনী ক্লাব এর সভাপতি মিনারুল ইসলাম মুনসুর এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পবা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচবি আব্দুর রাজ্জাক, যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান আহমেদ, হড়গ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত নাজিমুদ্দিন, সদস্য সচিব শাহিন রেজা সান্নান, নওহাটা পৌর যুবদলের সদস্য রবিউল আওয়াল, রাজশাহী জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও পবা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব হাফিজুর রহমান, বিএনপি নেতা সিরাজুল ইসলামসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের বিভিন্ন পর্য়ায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।